আমিরাতে স্মার্ট ভিক্ষুকদের উপদ্রব!

‍আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশেপাশের আরব দেশ ও এশিয়া মহাদেশের অনেক দেশ থেকে লোকজন এসে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে এসব ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে এবং তাদের ভিক্ষার ধরণও বিচিত্র ধরণের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন নাহিয়ান ২০১৭ সালকে ‘দান বর্ষ’ (ইয়ার অব গিভিং) হিসাবে ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার পর সারা বিশ্বের অনেক গরীব মানুষই আয় করার একটা ভাল মাধ্যম হিসাবে দেখছে। আমিরাতের সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনও বিশ্বব্যাপী গরীবদের সহায়তা করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অনেক সুবিধাবাদী জনগণই সরকারের দানবর্ষকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার প্রয়াস চালাচ্ছে।  পর্যটক ভিসায় আরব আমিরাতে এসে অনেক মানুষই এখন ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশ লিবিয়া, সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন এবং এশিয়ার পাকিস্তান থেকে লোকজন পর্যটক ভিসায় আরব আমিরাতে এসে ভিক্ষার পথ বেছে নিচ্ছেন। নতুন আমদানি হওয়া এসব ভিক্ষুকদের দেখেই চেনা যায়। সাধারণত দুবাইয়ে যেসব ভিক্ষুক থাকে তারা অধিকাংশই পরিচিত কিন্তু এ বছরে যেসব ভিক্ষুক দেখা যাচ্ছে তাদের অধিকাংশই উন্নত পোশাক পরিচ্ছদ নিয়ে থাকেন এবং বাস ষ্ট্যান্ড বা বিমান বন্দর এলাকায় ভিক্ষা করেন। নতুন এ ভিক্ষুকদের লক্ষ্য হয়ে থাকে ধনী ব্যক্তিরা। ৫ বা ১০ দেরহাম নিয়েও তারা সন্তুষ্ট থাকে না, বড় অংকের অর্থের ধান্দায় থাকেন তারা। শারজায় অনেক বাসিন্দা জানান তারা শপিং মল এবং পার্কের ভিতরেও এখন নতুন নতুন ভিক্ষুক দেখছেন যাদের আগে দেখা যায়নি। সংবাদ মাধ্যম খালিজ টাইমস-এ এক ভিক্ষুক বলেন, ‘শুনেছি আরব আমিরাতে এ বছর সবাই দান করবে, তাই পর্যটক ভিসা নিয়ে এখানে এসেছি কিছু দান পাওয়ার আশায়।’
শারজায় বাতুল আল হারমুদি নামের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার গাড়ির কাছে যে ভিক্ষুকটি এলো তাকে দেখে নেহায়েত ভদ্রলোক বলে মনে হলো। সে কিছু একটা গল্প বানিয়ে আমার কাছে সাহায্য চাইলো, আশ্চর্য বিষয় হলো সে ১০ বা এমনকি ১শ দেরহামও নিতে চাইছে না, সে ১ হাজার দেরহাম দাবী করছে।’ সেখানকার আরেক বাসিন্দা নাওয়াল আল নাকবি বলেন, ‘এসব ভিক্ষুকরা খুব বিপদে পড়েছে এমন গল্প বানাচ্ছে এবং আমিও সদয় হয়ে প্রথম প্রথম তাদের অর্থ সাহায্য করেছি, কিন্তু দিনের মধ্যেই বুঝতে পারলাম তারা ধান্দাবাজিতে নেমেছে।’ তবে শারজা পুলিশ জানালো আরও ভয়াবহ কথা। একটি চক্র ভিক্ষাবৃত্তির এ ব্যবসায় নাকি জড়িত। বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন ধরে এনে এখানে জায়গায় জায়গায় বসাচ্ছে তারা। যেসব লোকজনকে এখানে আনা হচ্ছে তাদের ভিসা ও বিমানের টিকিটও ওই চক্রই করে দিচ্ছে এবং এখানে ভিক্ষুকরা যে আয় করছে তার ৯০ ভাগই দিয়ে দিতে হচ্ছে সেই চক্রকে।
নতুন ভিক্ষুকদের পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে শহর কর্তৃপক্ষ জানায়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ‘আরব আমিরাতে ভিক্ষাবৃত্তি বে আইনী। তবে কিছু ভিক্ষুক রয়েছে যাদের অনেকেই চেনে, কিন্তু এখন যেসব নতুন ভিক্ষুক আসছে তারা সবাই ভিক্ষাবৃত্তিকে ব্যবসা হিসাবে আসছে এবং ছলনা করে মানুষের কাছে টাকা নিচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যেই নতুন এসব ভিক্ষুকদের গ্রেফতার শুরু করেছি। আমদানি করা এসব ভিক্ষুক পর্যবেক্ষনের জন্য আমরা পেট্রোল টিমও বৃদ্ধি করেছি।’
সূত্রঃ খালিজ টাইমস

Leave a Reply