আমি ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করি না : প্রধানমন্ত্রী

‍এস ‍এম নাশেদ হাসান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আমি ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করি না। দেশের মর্যাদা আমার কাছে অনেক বড়। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় চার দিনের ভারত সফর শেষে গণভবনে সাংবাদিক সম্মলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ভারত সরকারের দেওয়া ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নমনীয় ঋণের অর্থ দিয়ে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, সামরিক খাতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার নমনীয় ঋণ দেবে ভারত। আমরা যৌথভাবে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি সংস্করণের মোড়কও উন্মোচন করেছি এ সফরে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি আমাদের দুই সরকারের আমলেই সম্ভব হবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সফরে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে মোট ৩৫টি দলিল স্বাক্ষরিত হয়ে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১১টি চুক্তি ও ২৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ৯ বিলিয়ন ডলারের ১৩টি চুক্তি এবং এমওইউ এগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ভারতের গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ দিল্লির ‘পার্ক স্ট্রিট’-এর নতুন নামকরণ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রোড’ উদ্বোধন নিয়েও কথা বলেন হাসিনা।
পরিবহন সেক্টর নিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যৌথভাবে খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী রেল ও বাস চলাচল এবং বিরল (দিনাজপুর)- রাধিকাপুর (ভারত) রুটে পণ্যবাহী রেল চলাচলের উদ্বোধন করেছি। একইদিন বিকেলে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী/ সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সদস্য জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ দিতে নয়া দিল্লির ‘মানেকশ সেন্টারে’ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে এক স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় পারস্পরিক সহযোগিতা-বিশ্বস্ততা-বন্ধুত্বের বহুমুখী সম্পর্ক সদ্য সমাপ্ত সফরের মাধ্যমে আরও সুসংহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে এবং বর্তমানে তা এক বিশেষ উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বাস্তবঘনিষ্ঠ উদ্ভাবনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। আমি নিশ্চিত একসঙ্গে কাজ করলে, এ অঞ্চলের মানুষের জীবন আমরা বদলে দিতে পারব।
এর আগে, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর গণভবনে পৌঁছালে সেখানেও আগে থেকে উপস্থিত দলের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যান।

Leave a Reply