এবার রিকশায় চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

ফোকাস বাংলা নিউজ:
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ীতে রিকশায় চড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বৃহস্পতিবার পিআইডির পাঠানো একটি ছবিতে সরকার প্রধানকে ইট বিছানো একটি রাস্তায় রিকশায় চড়তে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার নেত্রকোনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনে গিয়ে রিকশায় ওঠেন তিনি। ভ্যানের পর রিকশার চড়ার প্রধানমন্ত্রীর এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।নেত্রকোনার খালিয়াজুরী কলেজমাঠে নামার আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে দুর্গত পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি কলেজ মাঠে সুধী সমাবেশে ভাষণ দেন। পরে জনগণের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ১ হাজার ২০০ মানুষের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২০ জনের মধ্যে প্রত্যেককে ৩৮ কেজি চাল এবং এক হাজার টাকা করে দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে যান। সেখান থেকে রিকশায় চড়ে জেলা ডাকবাংলো পরিষদ পর্যন্ত যান। এতে ১০ মিনিটের মতো লাগে।প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রিকশার চালক ছিলেন টিপু সুলতান। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনার দক্ষিণ বিশুহুরা এলাকায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাম পরিচয় জানতে চান।পড়াশোনা কত দূর পর্যন্ত করেছেনÑখোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীকে টিপু সুলতান বলেন, তিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বাবা-মাসহ (পাঁচ ভাই পাঁচ বোন) তার পরিবারের সদস্য ১২ জন। রিকশা চালক টিপু সুলতান যে রিকশাটি চালিয়েছেন, সেটিসহ তিনটি রিকশা জেলা প্রশাসন এনেছিলেন। এর একটি রিকশায় টিপু সুলতান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে ডাকবাংলো পরিষদ পর্যন্ত নিয়ে যান।রিকশাটি টিপু সুলতানকে দেওয়া হবে কি না, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘রিকশাটি টিপু সুলতানকে দেওয়া হবে।এ বছর মার্চ মাসের আগাম বৃষ্টির কারণে হাওর অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যায় নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আগাম বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক ফসলহানি হয়। নষ্ট হয় হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান। মৎস্য সম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী গত ৩০ এপ্রিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা সুনামগঞ্জে যান। বন্যার পর আজকের সফরটি হাওরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর।

ত্রাণ বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী স্পিডবোটে করে নগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত হাওর এলাকা বল্লভপুর পরিদর্শন করেন। ওই সব এলাকা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাদুর্গত ১২০টি পরিবারের মধ্যে তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। বেলা সোয়া তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন।এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি পৈত্রিক এলাকা গোপালগঞ্জে গিয়ে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে রিকশা ভ্যানে চেপে প্রধানমন্ত্রীকে ভ্রমণ করা করতে দেখা যায়; ওই ভ্রমণের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়াও ফেলে।টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ পরিদর্শন শেষে সৌধ থেকে খানিকটা দূরে নিজেদের নতুন বাড়িতে ওই রিকশাভ্যানে করে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।পরে তাকে ভ্যানে ঘোরানো চালক ইমাম শেখকে বিমান বাহিনীতে চাকরির ব্যবস্থাও করে দেন প্রধানমন্ত্রী।এবার নেত্রকোনা পরিদর্শনে পিআইডির পাঠানো ওই ছবিতে প্রধানমন্ত্রীকে দুপুরের রোদে হুড ছাড়া রিকশায় চড়তে দেখা গেল।আগাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরে ফসলহানির পর এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এবার নেত্রকোনার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে খালিয়াজুড়ী কলেজ মাঠে বক্তৃতাকালে সরকারের পক্ষ থেকে হাওরাঞ্চলের মানুষদের জন্য গৃহের ব্যবস্থা করাসহ সার্বিক উন্নয়ন করার কথা বলেন তিনি।প্রত্যেক হাওরে একটি আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে জানিয়ে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী হাওরাঞ্চলে মাছ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রক্রিয়া ও বাজারজাত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।পরিদর্শনে খালিয়াজুড়ী ও বল্লভপুর এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা ছাড়াও খালিয়াজুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।

Leave a Reply