এমন ভালো জেলা প্রশাসকও হয়

মাহবুব পিয়াল,ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥ ফরিদপুরের সদর উপজেলার ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের ডিগ্রিচর বারখাদা গ্রামের দশম শ্রেনির ছাত্রী চাদঁনী আক্তার। গত কয়েক মাস যাবত স্কুলের বেতন ও প্রাইভেট পড়ানোর বেতন দিতে পারছিলেন না। জেলা প্রশাসকের কথা লোক মুখে শুনে বুধবার সকালে এসে হাজির হন জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের কাছে। জেলা প্রশাসক ধৈর্য ধরে তার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে তাকে নগদ অর্থ সাহায্য ছাড়াও তার পড়াশুনার খরচ বহন করার কথা জানান। এসময় চাদঁনী ও তার নানী মেহেরাকে বলতে শোনা যায় “হে খোদা এমন ভালো জেলা প্রশাসক হয়”।
একই ভাবে সদরপুর উপজেলার পেয়াজখালী এলাকার বাবা হারা দুই ভাইবোন মিতু(৬) ও নাহিদ(৪) তার মা পলাশীকে নিয়ে এসে হাজির হন জেলা প্রশাসকের কাছে সাহায্যর জন্য। জেলা প্রশাসক তাদের কষ্টের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে ভর্তি করার ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান। পরে তাদের মার্কেট থেকে নতুন জামা কাপড় কিনে এনে গায়ে পড়িয়ে দেন।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বুধবার (২৮অক্টোবর) সকাল ১০টায় এই প্রকাশ্যে গণশুনানীতে সরাসরি অংশ গ্রহন করেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। এসময় এক এক করে প্রায় ৫০জন সাক্ষাত প্রার্থী তাদের বিভিন্ন সমস্যা জেলা প্রশাসককে জানান। জেলা প্রশাসক প্রত্যেক প্রার্থীর নিকট থেকে সমস্যা-অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় শ্রবণ করেন। শ্রবণ শেষে তাৎক্ষনিকভাবে সেসব সমস্যা সমাধান কল্পে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক সূত্র জানায়, গতানুগতিকতা পরিহার করে জেলা প্রশাসক হিসেবে ফরিদপুরে যোগদানের পর থেকেই প্রকাশ্যে গণশুনানী করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। সে মোতাবেক কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় খোলা জায়গায় গনশুনানী গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় প্রত্যেক বুধবার।
এভাবেই প্রতি নিয়ত ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার ভালো ভালো কাজ করে জেলাবাসীর কাছে আস্থার প্রতিক হয়ে উঠেছেন। জনগনের জন্য তার সৎ নিষ্ঠাবান ইতিবাচক ভাবনা চিন্তা এরই মধ্যে জেলাবাসির মনে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

Leave a Reply