এ্যাকটিভ সিটিজেন্স ফরিদপুরের ‘বজ্রপাত : সাবধানতা ও আমাদের করণীয়’ বিষয়ক সভা

মো. পলাশ খান ঃ
নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে’। আষাঢ়ের ঘন মেঘ যে ভয়াবহ তা উপলব্ধি করেই সে যগে কথাকটি লিখেছিলেন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর আজ আমরা তারই প্রমান পাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল লাইটনিং সেফটি’ ইনষ্টিটিটের মতে প্রতিবছর সারাবিশ্বে বজ্রপাতে যত মানুষের মৃত্যু হয় তার এক চতুথাংশের মৃত্যু ঘটে বাংলাদেশে। আর প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে বাংলাদেশের সর্বাধিক বজ্রপাতগ্রস্থ এলাকার মধ্যে রয়েছে শ্রীমঙ্গল, সিলেট, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও সৈয়দপুর। সুতরাং বজ্রপাত বিষয়ক আমাদের সচেতনতা এখনই জরুরী। কথাগুল বলছিলেন লাইট হাউস ফরিদপুর ডিআইসিতে আজ অনুষ্ঠিত লাইট হাউস এ্যাকটিভ সিটিজেন্স ফরিদপুর কর্তৃক আয়োজিত ‘বজ্রপাত : সাবধানতা ও আমাদের করনীয়’ বিষয়ক সভার প্রধান অতিথি লাইট হাউসের দি গ্লোবাল ফান্ড প্রজেক্টের প্রোজেক্ট কো অর্ডিনেটর মো. মিজানুর রহমান।সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ডিরেকটর এ.কে.এম. ফজলুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ্যাকটিভ সিটিজেন্স ফরিদপুরের আহবায়ক মো. পলাশ খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কাজল কুমার মন্ডল, মো. রুবেল হোসেনসহ প্রমুখ। মো. পলাশ খান বলেন, বন্যা ও সাইক্লোনের মতো দূর্যোগের ক্ষেত্রে কিছু প্রস্তুতি নেবার সুযোগ ও সময় থাকলেও বজ্রপাতের বিষয়টি ভূমিকম্পের মতোই প্রাকৃতিক এবং অতি আকষ্কিক। মূলত জলবায়ু পরিবর্তন, অব্যাহত বড় বড় বৃক্ষ নিধনের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বজ্রপাতের সংখ্যা বাড়ছে। বজ্রপাত বৃদ্ধির প্রাথমিক সম্ভব্য কারণগুলো হলো গাছ কেটে ফেলা, জলাভূমি ভরাট করা, নদী শুকিয়ে যাওয়া, কারখানা ও মোটর গাড়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি, বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মোবাইল ও বৈদ্যুতিক টাওয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদি। পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সরকারী হিসাব মতে দেশে বজ্রপাতে মৃত্যু রবণ করেছে ১৪৭৬ জন। এর মধ্যে ৫১ শতাংশই কৃষক যারা মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত মাঠে কাজ করছিলেন।। বজ্রপাতের সময় যে সকল সাবধানতা জরুরী তা হলো : ১. বজ্রপাতের সময় বিচ্ছিন্ন যাত্রী ছাউনি, তালগাছ বা বড় কোন গাছ, বৈদ্যুতিক খুুটির নিচে আশ্রয় নেয়া যাবে না। ২. খোলা বা উচু স্থানে থাকা যাবে না। ৩. বজ্রপাতের সময় জানালা বা দরজার কাছে থাকা যাবে না কেননা অদ্যবধি বজ্রপাতে মৃত্যুর শতকরা ২২ শতাংশ মানুষ ঘরেই মারা গিয়েছে। ৪. ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করা যাবে না। ৫. গাড়ীর ভেতর থাকলে গাড়ীর কোন ধাতব অংশ স্পর্শ করা যাবে না সম্ভব হলে গাড়ীটি কোন কংক্রিটের নিচে নিয়ে যেতে হবে। ৬. পুকুরে সাতার কাটা বা কোন জলাবদ্ধ স্থানে থাকলে দ্রুত সেখান থেকে সরে আসতে হবে। ৭. কাধে ব্যাকপ্যাক থাকলে তা ফেলে দিতে হবে কেননা ব্যাবপ্যাকে থাকা ধাতব কোন কিছু বজ্রপাতকে আকৃষ্ট করতে পারে। ৮.নৌকায় থাকলে ঝড় দেখা দেয়া মাত্র দ্রুত নৈাকা পাড়ে ভিড়িয়ে নিরাপদে আশ্রয় নিতে হবে। ৯. বজ্রপাতের আভাষ পেলে টিভি ফ্রিজ ইত্যারি সংযোগ খুলে ফেলতে হবে এবং বজ্রপাতের সময় এসব যন্ত্রে হাত দেয়া যাবে না। ১০. কয়েকজন মিলে খোলা স্থানে থাকলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে সরে যেতে হবে। ১১. অতি প্রয়োজনে প্লাষ্টিক বা কাঠের ছাতা ব্যবহার করে রাবারের জুতা পরে বাইরে যাওয়া যেতে পারে। মো. রুবেল হোসেন বলেন, প্রায়ই বজ্রপাতে আহত ব্যক্তির হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় সুতরাং সে ক্ষেত্রে তার কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস এবং দু হাত দিয়ে বুকের উপর চাপ দিয়ে হৃদপিন্ড সচল করার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে মাটিতে চিৎ করে শুইয়ে দিতে হবে তবে শরীরের তুলনায় মাথা একটু নিচু রাখতে হবে এবং দ্রুত হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। তবে বজ্রপাত প্রাপ্ত ব্যক্তির উদ্ধারের পূর্বে নিজের সুরক্ষার বিষয়টি পূর্বে নিশ্চিত করতে হবে। এ.কে.এম ফজলুল হক বলেন, সৃষ্টি কর্তার প্রতিটি সৃষ্টির পেছন্ইে মঙ্গল এবং উদ্দেশ্য নিহিত। কিন্তু প্রকৃতির উপর ক্রমাগত নিমর্মতায় প্রকৃতিতে নানা দূর্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। বজ্রপাতে মত্যৃ ও ঝুকি কমাতে তিনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতির উপর মানুষের রিরুপ আচরণকে পরিহারের কথা বলেন।

Leave a Reply