গোপালগঞ্জে পানির নিচে তরমুজ কৃষকের মাথায় হাত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে কোটালীপাড়া উপজেলায় তরমুজ খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেই সঙ্গে টানা বর্ষণে তলিয়ে যায় তরমুজ  খেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। মঙ্গলবার সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে  দেখা যায়, তরমুজ খেতে পানি জমে আছে। চাষিরা দিশেহারা হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। কেউ কেউ পানি সেচে ব্যস্ত। ফসল নষ্ট হওয়ায় আবার অনেকে ফসল ঘরে তোলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। প্রতি বছরই উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ, বুরুয়া, হিজলবাড়ি, নলুয়া, চকপুকুরিয়াসহ প্রায় ২৫টি গ্রামে এ বছর তরমুজের ব্যাপক চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু তরমুজ খেত  থেকে উত্তোলন করতে শুরু করছিল কৃষকরা। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ বছর  কোটালীপাড়ায় সাড়ে ৮০০  হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করেছিলেন কৃষকেরা। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার মেট্রিক টন। এই তরমুজ বিক্রির জন্য কলাবাড়ী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে গড়ে উঠেছে তরমুজ বিক্রির বিশাল আড়ত। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক তরমুজ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশে চলে যায়।
এ বছর বৃষ্টির কারণে অগ্রিম খেত থেকে তরমুজ তুলে আড়তে বিক্রির জন্য এনেছে এলাকার কৃষকরা। আর এ কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কলাবাড়ী ইউনিয়নের হিজলবাড়ী গ্রামের তরমুজ চাষি স্বপন বণিক বলেন, বৃষ্টির পানিতে তরমুজের জমি তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অনেকেই তরমুজ চাষ করেছিলেন। লাভের টাকায় দেনা পরিশোধের কথা থাকলেও কৃষকদের আশার গুড়ে বালি। কলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আমার ইউনিয়নের তরমুজ চাষিদের খেতের তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে কৃষকদের ব্যাংক ও এনজিওর ঋণ মওকুফের দাবি জানাচ্ছি। কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, কলাবাড়ী ইউনিয়নের একটা বিশাল এলাকা জুড়ে তরমুজ চাষ হয়। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ২০০ হেক্টর জমির তরমুজ খেতের ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ২ কোটি টাকার তরমুজের ক্ষতি হয়েছে। তিনি এ অঞ্চলে তরমুজের খেতে  ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা দরকার বলে মত প্রকাশ করেন।

Leave a Reply