চলে গেলেন হরি ধানের উদ্ভাবক হরিপদ কাপালী

নিজস্ব প্রতিবেদক : হরি ধানের উদ্ভাবক হরিপদ কাপালী মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ১’শ বছর। হরিপদ স্ত্রী, ছেলেমেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। হরিপদ কাপালীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকার জনপ্রতিনিধি ছাড়াও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক শাহ মুহাম্মদ আকরামুল হক, সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজির উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শেষবারের মতো বিনয়ী ও মিশুক হরিপদ কাপালীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে তাঁর শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয়। হরিপদ কাপালী ১৯২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আসাননগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালে হরিপদ কাপালী উন্নত জাতের ধান উদ্ভাবন করেন । এলাকাবাসী এই ধানের নাম দেয় ‘হরি ধান’। ধানটির জনপ্রিয়তা ঝিনাইদহের আসাননগর থেকে ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের জেলায়।

হরিধান একটি বিশেষ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান। এ আবিস্কারের সূত্র ধরে তিনি এখন দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও একটি পরিচিত নাম। পেয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের পুরস্কার ও সম্মাননা। ১৯৯৯ সালে নিজের ধানের জমিতে একটি ছড়া তার নজর কাড়ে। তিনি দেখতে পান, ধানের গোছা বেশ পুষ্ট এবং গাছের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছড়াটি তিনি নজরদারিতে রাখেন। ধানের বাইল (ছরা) বড় হলে তিনি পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পান বাইলগুলো তুলনামূলকভাবে অন্য ধানের চেয়ে দীর্ঘ, এবং প্রতিটি বাইলে ধানের সংখ্যাও বেশি। ধান পাকলে এগুলো তিনি আলাদা করে বীজ ধান হিসেবে রেখে দেন। পরের মৌসুমে এগুলো আলাদা করে আবাদ করেন এবং আশাতীত ফলন পান। এভাবে তিনি ধানের আবাদ বাড়িয়ে কৃষক, কৃষিবিদ সহ কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট সবার নজর কাড়েন।হরিপদ এভাবে নিজের অজান্তে উদ্ভাবন করেছিলেন এক নতুন প্রজাতির ধান, হরি ধান। মূলতঃ ডারউইনের আবিস্কৃত কৃত্রিম নির্বাচনের একটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন প্রান্তিক কৃষিক হরিপদ কাপালী। হরিপদ কাপালী এই সুবাদে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছেন। তাকে নিয়ে চ্যানেল আইয়ে ও ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন প্রচারতি হয়। এরপর চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থকেে তাকে সম্মাননাসহ কৃষিপদক দেওয়া হয়।

Leave a Reply