জেনে নিন বিয়ের জন্য আদর্শ নারী কারা

ডেস্ক রিপোর্ট : “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে!” এই প্রবাদ বাক্যটি কম বেশি সকলের জানা। এখন এই গুণবতী রমণী খুজেবের করা অনেক কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। বিদেশি চ্যানেলগুলো যে ভাবে সংসারের মধ্যে বৌ শাশুড়ির ঝগড়া দিয়ে হাজারের উপর পর্ব বানাচ্ছে। হাজার পর্ব শেষ হয় কিন্তু ঝগড়া শেষ হয় না। ফলে মেয়েরা তাদের সংসার জীবনে প্রবেশের আগেই সংসারকে নেগেটিভ ভাবে নিয়ে ফেলে। আজ আবার সেই রমণীর গুণকে ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের ঐ সব রমণীর জীবনীকে আদর্শ হিসেবে নিতে হবে, যারা শুধু পৃথিবীর সকল নারীই না পরকালের সকল জান্নাতি নারীর আদর্শ ও মডেল হিসাবে থাকবে। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (সঃ) বলেছেন, “সারা বিশ্বের মহিলাদের মধ্যে থেকে এই চারজন মহিলার ফযীলাত সম্পর্কে তোমার অবগত হওয়া যথেষ্ট। তাঁরা হচ্ছেন ইমরানের মেয়ে মারইয়াম, খুওয়াইলেদের মেয়ে খাদীজা, মুহাম্মাদ (সঃ) এর মেয়ে ফাতিমা এবং ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া” (তিরমিযী হা/৩৮৭৮, মিশকাত হা/৬১৮,বাংলা মিশকাত হা/৫৯৩০)। এই হাদীছে রাসূল (সঃ) চারজন নারীর মর্যাদা সম্পর্কে সকলকে জানতে বলেছেন। কারণ কোন নারী বা পুরুষ আদর্শবান ও আল্লাহ্ ভিরু হতে চাইলে এই নারীদের ইতিহাস জানতে হবে। কোন নারী যদি তার সতীত্ব সঠিক ভাবে রক্ষা করতে চায়, কঠিন কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করে আদর্শবান হতে চায় তাহলে তার মারইয়াম ও আছিয়ার ইমানী আদর্শকে ভালোভাবে জানতে হবে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কে সবচেয়ে উত্তম নারী? রাসূল (সাঃ) বললেন, “যে স্ত্রী তার স্বামীকে খুশী করতে পারে, স্বামী যখন তার দিকে লক্ষ করে। স্বামী যখন তাকে আদেশ করে, তখন স্বামীর আদেশ যথাযথ ভাবে পালন করে। আর তার নিজের ব্যাপারে এবং নিজের সম্পদের ব্যাপারে স্বামী যা অপছন্দ করে সে তা করে না” (সিলসিলা ছহীহ হা/১৮৩৮/১৯১৬)। এখানে আদর্শবান নারীর তিনটি গুনের কথা বলা হয়েছে। (১) হাসি মুখে থাকা, স্বামী দৃষ্টি দিলেই যেন খুশি হয়। (২) সবসময় স্বামীর আদেশ পালন করার জন্য প্রস্তুত থাকা। (৩) নিজের এবং নিজের স্বামীর সম্পদের ব্যপারে স্বামীর ইচ্ছার বিরধীতা না করা। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (সঃ) বলেছেন, “স্ত্রীলোক যখন তার প্রতি নির্ধারিত পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে, রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করে, নিজের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে ও স্বামীর অনুগত থাকে, তখন সে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা মত প্রবেশ করতে পারবে” (আবু নু’আইম, মিসকাত হা/৩২৫৪, বাংলা মিসকাত হা/৩১১৫) এই হাদীছে আদর্শ নারীর চারটি গুনের কথা বলা হয়েছে। যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরবে, রামাজাতের রোজা রাখবে, স্বামীর অনুগত এবং নিজের লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে সে আদর্শ নারী। সর্বোপরি একজন আদর্শ নারীর অন্তত ৬ টি গুন থাকা দরকার (১) আল্লাহ্র হুকুম ও আইন-বিধান পালন কারী। আদর্শবান নারী আল্লাহ্র আদেশ নিষেধ পালনের জন্য সদা প্রস্তুত থাকে। (২) মুমিন হওয়া।
এদের বিশেষত্ব হল নিজের চরিত্র, অভ্যাস-আদত, আচার আচারনে ও ব্যাবহারে আল্লাহ্র দ্বীন অনুসরন করা। (৩) নিজ স্বামীর অনুগত। (৪) এমন স্ত্রী যে তার অপরাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা চায়। যার মাঝে কোন অহংকার, গৌরব, অহমিকা থাকে না। যে নম্র ও ভদ্র প্রক্রিতির হয়। (৫) এমন স্ত্রী ইবাদত করার কারনে আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমাসমুহ পুরাপুরি রক্ষা করে চলে। কখন আল্লাহ্র ইবাদত করার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় না এমন তা তার কাছ থেকে আশা করা যায়। (৬) ছিয়াম পালনে অভ্যস্থ স্ত্রী। এই সকল গুনের অধিকারী নারী হল আদর্শবান নারী। এই সকল আদর্শবান নারী হতে পারে সুখের সংসারের সুখের মূল চাবি।

Leave a Reply