তিনদিকে বন্ধুরাষ্ট্র হলে প্রতিরক্ষার প্রশ্ন কেন : মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে প্রতিরক্ষা চুক্তির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে যে দেশের তিনদিকে বন্ধুরাষ্ট্র সে দেশের প্রতিরক্ষার প্রশ্ন উঠবে কেন? মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। মঈন খান বলেন, দেশের তিনদিকে ভারত ও একদিকে সমুদ্র। যে দেশের সবদিকে বন্ধুরাষ্ট্র দেশের প্রতিরক্ষার প্রশ্ন উঠবে কেন? বন্ধুরা কেন আমাদেরকে প্রতিরক্ষা দিতে উৎসুক হয়ে উঠেছেন? কেনইবা আমাদের সরকারের প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে এতো দুশ্চিন্তা? ১৬ কোটি মানুষের কাছে সরকারকে এ প্রশ্নে জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, এখন রেজিস্ট্রেশন নিয়ে কথা উঠেছে। রাজনীতি মানুষের মৌলিক অধিকার। কেউ রাজনীতি করবে কি করবে না, তার সার্টিফিকেট লাগবে নাকি?
বিএনপির এ নেতা বলেন, অনেক বুদ্ধিজীবিরা বলছেন, বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে হবে রেজিস্ট্রেশনের কারণে। একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে যেতে রেজিস্ট্রেশন কোনো কারণ হতে পারে না। অনেক দল আছে যারা রাজনীতি করে আনন্দ পায়, তারা নির্বাচনে যায় না। কারো ইচ্ছা হলে নির্বাচনে যাবে, নয় তো যাবে না। এখানে রেজিস্ট্রেশনের প্রশ্ন আসছে কেন? ‘এ থেকে পরিষ্কার, ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনে যান ক্ষমতায় গিয়ে অর্থ-বিত্ত করে বিলাসী জীবন যাপনের জন্য।’  আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য ৫০ কোটি ডলার খরচ করবে ভারত। স্বাধীন একটি দেশের নিরাপত্তা কেন ভারতের উপর নির্ভর করবে?
তিনি বলেন, দয়া করে দেশের নিরাপত্তা অন্যের হাতে তুলে দেবেন না। বন্ধু প্রতীম রাষ্ট্রে আদান-প্রদান হতে পারে। কিন্তু ভারতের ইচ্ছানুযায়ী প্রতিরক্ষা সাজালে স্বাধীনতা থাকবে না। ভারতের প্রতিরক্ষা স্বার্থকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে সত্যিকারের স্বাধীনতা নষ্ট হবে। ৭ মার্চ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১১তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে ‘ভুলণ্ঠিত গণতন্ত্র, নিষ্পেষিত জনগণ, ভঙ্গুর অর্থনীতি’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক খান, কৃষক দল নেতা শাজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply