তিনি ফিরে এলেন পূর্ণ হলো স্বাধীনতা

একে মোহাম্মাদ আলী শিকদার
পৃথিবীতে যতগুলো উন্নত ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র রয়েছে তাদের সকলেরই জাতীয়তার উন্মেষ ও অগ্রগমনের রাস্তায় এমন কতকগুলো মাইলফলক আছে, যা চিরদিনের জন্য ওই জাতি রাষ্ট্রের আগত প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখায়। চলার পথে কখনও লাইনচ্যুত হয়ে নিজের অবস্থান নির্ণয়ে সঙ্কটে পড়লে ওই মাইলফলকই তাদের ফিরিয়ে আনে সঠিক রাস্তায়। বাংলাদেশ এবং বাঙালী জাতির জন্য এমনই একটি দিন ১০ জানুয়ারি। ১৯৭২ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৯ মাস ১৫ দিন বন্দীজীবন কাটিয়ে পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর লন্ডন ও দিল্লী হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি, ২৪ দিন। স্বাধীন হলো, বঙ্গবন্ধু নেই। এখনও পরাজিত দেশ পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী, এটা মেনে নেয়া যায় না। কি হতে চলেছে, কি হবে। বঙ্গবন্ধু কি ফিরে আসবেন, নাকি প্রতিশোধের জিঘাংসায় উন্মাদ ইয়াহিয়া ইতোমধ্যে ঘোষিত ফাঁসির দ- কার্যকর করবে। এগুলো ছিল ওই ২৪ দিন প্রতিটি বাঙালীর চিন্তাক্লেশ চোখ ও মুখের কথা। সমগ্র জাতির উদ্বেগ উৎকণ্ঠার যেন আর শেষ নেই একটা রাষ্ট্রে সমগ্র জনগোষ্ঠী একজন মাত্র মানুষ বা নেতার জন্য এমন উদগ্রীব, উৎকণ্ঠা আর প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনতে পারে তার উদাহরণ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। এ যেন একেবারে সহজাত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে একজন প্রবাসী পিতার জন্য তার সন্তানেরা যেমন অপেক্ষা করে, ঠিক তেমনই এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। মন-প্রাণ একবার হয়ে ওঠে রোমাঞ্চিত, আবার মুহূর্তের মধ্যে হয়ে পড়ে উৎকণ্ঠিত। পিতা কখন আসবে, কবে আসবে, কোন পথে আসবে, কিসে করে আসবে, কে সর্বপ্রথম পিতার কাছে পৌঁছাবে, তাঁর সকল আদর স্নেহের পরশ সবার আগে কে পাবে। পিতার শরীর-মন ভাল আছে তো? বাহাত্তরের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর মুক্তির খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ১০ জানুয়ারি ঢাকার মাটিতে পা রাখার আগ পর্যন্ত প্রতিটি বাঙালীর একেকটি মিনিটকে যেন মনে হয় একেকটি দিন বা মাসের মতো। এ রকম সাবলীল অরূপ রূপের যে আনন্দ বেদনা আবহমানকাল ধরে বাঙালীর হৃদয় মানসে বিদ্যমান, তার একটা সামগ্রিক রূপ বিশ্ববাসী দেখেছিল ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের সমগ্র মানুষের ভেতরে। এই যে দৃশ্যের বর্ণনা, তা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল না, গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছিল ঠিক একই রকম দৃশ্য। সে সময়ে ঘরে ঘরে টেলিভিশন ছিল না, মোবাইল ফোনের চিন্তাও তখন আসেনি। মফস্বলে পত্রিকা পৌঁছাতে ঢাকা থেকে একদিন পর। এ রকম একটি অনগ্রসর ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেও ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে সাড়ে সাত কোটি মানুষ ১০ জানুয়ারি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব কাজ ফেলে, যে যেখানে পারে তখনকার সময়ের একমাত্র অবলম্বন রেডিওর কাছে জড়ো হয়েছিল, পিতার দেশে ফেরার খবর শোনার জন্য। বাংলাদেশ বেতার থেকে অনবরত ধারা বিবরণী চলছে। সবাই কান পেতে আছেন, একটি কথাও কেউ মিস করতে চায় না। সবার চোখে-মুখে উত্তেজনা। ধারা বিবরণীর একেকটি আশ্বান্বিত কথার সঙ্গে রেডিওর পাশে জড়ো হওয়ার শ্রোতাদের সম্মিলিত আকস্মিক চিৎকারের শব্দে সারাবাংলার আকাশে বাতাসে সেদিন যে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল তার অনুভূতি ও চেতনার শক্তি কত প্রবল হতে পারে সেটি কেবল আমার মতো স্বচক্ষে দেখা প্রতিটি বাঙালী হদয়ের অন্তস্তলে অনুভব করতে পারে, তাঁর সম্পূর্ণটা প্রকাশ করা যায় না। এক সময় অপেক্ষার পালা শেষ হয়। পিতা দৃশ্যমান হন, সেই দীর্ঘ ঋজু দেহ, প্রিন্স কোট আর উজ্জ্বল মুখচ্ছবির দেখা পায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে অপেক্ষামাণ হাজারো জনতা। ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর রুপালি রঙের কমেট বিমানটি বাংলার মাটি স্পর্শ করে বিকেল তিনটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানÑ জীবন ও রাজনীতি-দ্বিতীয় খ-। একুশবার তোপধ্বনি আর লাখো মানুষের আনন্দোল্লাসের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নিল তাঁর স্বদেশ ভূমি, স্বাধীন বাংলাদেশ। তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে রাস্তার দু’পাশে জড়ো হওয়া লাখ লাখ বাঙালীর ভালবাসার পরশ স্পর্শ করে ঐতিহাসিক রেসকোর্স (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী) ময়দানে পৌঁছাতে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী ট্রাক বহরের সময় লেগেছিল প্রায় আড়াই ঘণ্টা। সেদিন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে উপস্থিত লাখো মানুষের দিকে তাকিয়ে শিশুর মতো কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন, তাঁর দুই চোখ থেকে গড়িয়ে অশ্রু পড়েছিল বার বার। তিনি আবেগভরা কণ্ঠে বলেছিলেন বিশ্বকবি তুমি বলে ছিলে সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালী করে মানুষ করোনি, বিশ্বকবি, তোমার সেই আক্ষেপ মিথ্যা প্রমাণিত করে সাত কোটি বাঙালী যুদ্ধ করে, রক্ত দিয়ে এই দেশ স্বাধীন করেছে।’ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে একটি পাকিস্তানী বোয়িং ৭০৭-এ করে লন্ডনে পৌঁছান ৮ জানুয়ারি সকালে। লন্ডন থেকে সরাসরি দিল্লীর পালাম বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধু যখন অবতরণ করেন তখন স্থানীয় সময় সকাল ৮টা বেজে দশ মিনিট, ১০ জানুয়ারি ১৯৭২। অভ্যর্থনা পর্ব শেষে সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। ভাষণের এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, মিথ্যার ওপর সত্যের, অশুচিতার ওপর শুচিতার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় এবং সর্বোপরি অশুভ শক্তির ওপরে সর্বজনীন শুভ শক্তির বিজয়ের প্রেক্ষাপটেই আমি ফিরে যাচ্ছি আমার নিজের দেশে, রক্তস্নাত ও শুচিতায় উদ্ভাসিত স্বাধীন বাংলাদেশে। ভারত হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। আমাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে, কতৃজ্ঞতার কোন ভাষা আমার নেই (সূত্রÑ ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনাও বাংলাদেশ)। সমগ্র বাঙালী জাতি ও সারাবিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের বিজয়ের মহানায়ক হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু যখন ফিরে আসেন, তখন তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫১ বছর। এত অল্প সময়ের একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী থেকে বিশ্বনন্দিত ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় জননেতায় উন্নতি হওয়ার ঘটনা সমসাময়িক ইতিহাসে বিরল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের মধ্য প্রহরের কিছু সময় পরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করেছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কমান্ডো দল। সারাজীবন সীমাহীন ত্যাগের সংগ্রামের প্রজ্ঞায় বঙ্গবন্ধু সেদিন রাতে বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর অবর্তমানেও বাঙালী জাতি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। তিনি বলতেন, ‘যে জাতি মরতে শিখেছে, তাদেরকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’ তাই স্বাধীনতা অর্জনের সর্বশেষ তুরুপের তাস হিসেবে তিনি নিজেই নিজের জীবনের ওপর বাজি ধরেছিলেন। কারণ, চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, মৃত্যু সেখানে তুচ্ছ। তিনি জানতেন তাঁর মৃত্যু হলেও, মুজিবের প্রতিটি রক্তের ফোঁটা থেকে বাংলার মাটিতে লাখো মুজিবের জন্ম হবে। সেই লাখো মুজিবের গগনবিদারী হুঙ্কারের সামনে কোন শক্তিই দাঁড়াতে পারবে না, সে যতই দেশী-বিদেশী পরাশক্তি দ্বারা সমর্থিত হোক না কেন। বঙ্গবন্ধু ইচ্ছা করলে হয়ত তিনি গ্রেফতার এড়াতে পারতেন। কিন্তু তার সম্ভাব্য পরিণতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকেই বিপন্ন করতে পারত। যেমনÑ এক. সঙ্গত কারণেই নির্বাচনের পর থেকে তিনি সব সময় পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের নজরে ছিলেন। পলায়নের সময়ে তিনি নিয়োজিত গোয়েন্দাদের গুলিতে নিহত হতে পারতেন। তাতে পাকিস্তানী জান্তা সরকার বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরত যে, মুজিব পালাবার সময় উচ্ছৃঙ্খল বাঙালী দ্বারা নিহত হয়েছেন। এর জন্য পাকিস্তান সরকারের দায়-দায়িত্ব থাকলেও মুজিব ও তাঁর দল তারা নিজেরাই অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসন যন্ত্রকে সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দিয়েছে বিধায় এখানে তাদের কোন কিছু করার ছিল না। পাকিস্তান তাদের চিরাচরিত মুখোশের আড়ালে বিভ্রান্তি ছড়াতে সক্ষম হতো। দুই. আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে পাকিস্তানীরা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে বিদেশী রাষ্ট্র ও জনগণের কাছে প্রতিষ্ঠিত করার আরও বেশি সুযোগ পেত। তিন. গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা না করে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, তিনি কোন রকম অন্যায় করেননি। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি মরতেও প্রস্তুত। চার. বঙ্গবন্ধু নিজেই পরে বলেছেন, আমি মৃত্যুর জন্য তৈরি ছিলাম। একজন মানুষ যখন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকে, তাকে কেউ হত্যা করতে পারে না। তাছাড়া প্রবল আত্মবিশ্বাস ও গভীর দূরদৃষ্টির দ্বারা বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারেন যে, তাঁর অবর্তমানেও বাঙালী মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাবে এবং যুদ্ধের এক পর্যায়ে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে যখন পাকিস্তানীরা নিজেদের স্বার্থেই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে। চূড়ান্তভাবে তাই-ই হয়েছিল। পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধুর বিচার সম্পন্ন করলেও ফাঁসির দ- দিয়ে রায় ঘোষণা করেছিল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ততদিনে পরিস্থিতি পাল্টে যায়, ফাঁসির দ- কার্যকর করার সুযোগ পাকিস্তান আর পায়নি। পুরো সাড়ে ৯ মাস বিশ্বের সবকিছু থেকে বঙ্গবন্ধু বিচ্ছিন্ন ছিলেন। নির্জনতার ভয়ানক মানসিক যন্ত্রণার পরেও বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোন রকম কোন আপোস তো অনেক দূরের ব্যাপার, কোন কথাবার্তাও কখনও বলেননি। পুরো বন্দী সময়ে অসুস্থও তিনি হননি। চরিত্রের বলিষ্ঠতা ও বাংলার জনগণের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কই বঙ্গবন্ধুকে নির্জন জেল ঘরে বাঁচিয়ে রেখেছে, সুস্থ রেখেছে। আর এই আত্মিক সম্পর্কের কারণেই তিনি অন্ধ কুঠরির ভেতর বসেও দিব্য চোখে দেখতে পেতেন তাঁর বাঙালী বীরদর্পে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চলেছে এবং জয় তাদের হবেই। সত্যিই বাঙালীর জয় হয়েছে। মাত্র ৯ মাসের মাথায় পাকিস্তানের সকল গর্ব ও অহঙ্কার ধুলায় মিশে যায়। যুদ্ধ আরও চালিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট অস্ত্র জনবল থাকা সত্ত্বেও একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো বাঙালীর জয় বাংলা ধ্বনির পদতলে অবনত মস্তকে পাকিস্তানের ৯৩ হাজার সেনা সদস্য আত্মসমর্পণ করে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে অবশেষে দেশ স্বাধীন হয়। বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এলেন। সমগ্র জাতি আশান্বিত হলো। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি অসীম যাত্রা শুরু করলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশ থেকে কালো মেঘ একে একে কাটতে শুরু করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌ বহর বঙ্গোপসাগর থেকে লেজ গুটিয়ে ফিরে যায়। মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় ভারতের এক লক্ষাধিক সৈন্য, যারা মিত্র বাহিনী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল তারা ভারতে ফিরে যায়। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বে এবং ভারতের মহীয়সী নারী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দূরদৃষ্টির কারণে বিরল দৃষ্টান্তের সৃষ্টি হয়। বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি আসতে থাকে। সপ্তম নৌ বহর পাঠিয়ে যারা শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে নস্যাত করতে চেয়েছিল সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার মাত্র তিন মাসের মাথায় বাহাত্তরের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পূর্ণতা পেতে থাকে। বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে মাত্র দশ মাসের মাথায় বাহাত্তরের ৪ নবেম্বর বঙ্গবন্ধুর সারাজীবনের সংগ্রামের ফসল বিশ্বনন্দিত একটি সংবিধান বাংলাদেশের মানুষকে উপহার দেন। এই সংবিধান শুধু তত্ত্ববিদ্যার ফসল ছিল না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের সংগ্রামের বাঁকে বাঁকে প্রতিষ্ঠিত সত্য ও জনআকাক্সক্ষা এবং একাত্তরে ৩০ লাখ মানুষের জীবনদানের ভেতর থেকে পাওয়া নীতি-আদর্শ সন্নিবেশিত হয় সংবিধানে। পূর্ণ হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। র্সার্থক হয় দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তদান।
লেখক : ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

Leave a Reply