নির্বাচনে ভারতের হস্তক্ষেপের কিছু নেই বলে জানালেন কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ করার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার বিকালে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছলে সাংবাদিকেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। ভারত সফর শেষে দেশে ফিরছিল আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা আজ আছি, কাল না-ও থাকতে পারি। আমাদের ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ।’

তিনি বলেন, দেশের জনগণই তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করবে। এ বিষয়ে প্রতিবেশি দেশ ভারতের হস্তক্ষেপ করার কিছু নেই। আমরা আশাও করি না। এসব ব্যাপার আমরাই ঠিক করব।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশি শক্তি আমাদের বন্ধু হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে আমরা তা আশা করি না। আর ভারত নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে না, এবারও করবে না।

তিনি বলেন, তাদের অনেক নেতার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আমরা যে কোনো দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক করতে পারি। আমাদেরকে বিজেপি আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমরা কি সেখানে খেতে গেছি নাকি? ওখানে কি আমার বেড়াতে গেছি? আনন্দ উল্লাস করতে গেছি?’

তিনি বলেন, ‘আমার তাদের সঙ্গে সিরিয়াসলি আলাপ-আলোচনা করেছি। আমার সব কিছু একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলব।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন দলের আমন্ত্রণে আমরা ভারতে গিয়েছি। সেখানে পার্টি টু পার্টি আলোচনা হয়েছে। আমার সব ইস্যুগুলোর উপর কথা বলেছি। সেগুলোর মধ্যে সীমান্ত চুক্তির জন্য আমার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাও করেছেন তারা।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি- এই দুইজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলে এটা সম্ভব হয়েছে। আমরা আশা করি, তিস্তা চুক্তিও হবে। আমাদের পানির জন্য যে হাহাকার আছে তা উপস্থাপন করেছি। এই চুক্তি হলে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার দু-একদিনের মধ্যেই একটি সংবাদ সম্মেলন করব। কারণ তথ্য যদি না দেই, তাহলে এটা শুভ নয়। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। আমার কিছু গোপন করতে চাই না। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা সব কিছু প্রকাশ করব, যাতে কেউ কোনো গুজব ছড়াতে না পারে।

তিনি বলেন, ভারতের সংবাদিকরাও অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা কিছুই বলতে চাইনি। আমাদের ইচ্ছে ছিল দেশে গিয়ে আমরা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সব কিছু বলব।

তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি তিন দিন দেশে ছিলাম না। না জেনে কিছু বলতে পারব না। আর আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

Leave a Reply