ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ৪ দিনব্যাপী মহাপবিত্র উরস শরীফ শুরু

নজরুল ইসলাম নুরু,সদরপুরঃ
বিশ্বওলী হযরত শাহ্সূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু:ছে:আ:) ছাহেবের ৪ দিনব্যাপী মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ  শনিবার ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সাম্য , ভ্রাতৃত্ব, বহু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং শান্তি ও ঐক্যের বারতাবাহী এবারের বিশ্ব উরস শরীফে ৪ দিনের আসা যাওয়ায় দেশ-বিদেশের মানুষ সমবেত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকালে বিশ্বওলী কেবলাজান ছাহেবের পবিত্র রওজা শরীফ যিয়ারত ও আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।বিশ্বওলী কেবলাজান ছাহেবের আধ্যাত্মিক প্রতিনিধি পীরজাদা আলহাজ্জ খাজা মাহ্ফুযুল হক মুজাদ্দেদী ছাহেব ও পীরজাদা আলহাজ্জ খাজা মোস্তফা আমীর ফয়সাল মুজাদ্দেদী ছাহেব শুকুবার  প্রথমে সমবেত কয়েক লাখ শান্তিকামী মুসলমানদের সাথে নিয়ে সুবিশাল জামাতে জু‘মার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। তারপর আধ্যাত্মিক প্রতিনিধিদ্বয় সমবেতদের সাথে নিয়ে বিশ্বওলী কেবলাজান ছাহেবের পবিত্র রওজা শরীফ যিয়ারত করেন। যিয়ারতের পরে প্রথাগতভাবে আজ বিশ্ব উরস শরীফের সার্বিক কর্মকান্ডের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।বিশ্ব উরস শরীফে শরীক হতে এবার কয়েক দিন আগে থেকেই শান্তিকামী মানুষের ঢল শুরু হয় বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে। আজ থেকে শুরু হয়েছে ব্যাপক কাফেলা। ৪ দিনের বিশ্ব উরস শরীফে ওয়াক্তিয়া নামাজের সাথে নফল ইবাদত বন্দেগী, তেলাওয়াতে কালামে পাক, দফায় দফায় মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মুনাজাত, রাতের শেষ ভাগে  (রাত ৩টা থেকে ফযরের আযানের পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত) রহমতের সময় পর্যন্ত পরম করুনাময় আল্লাহর রহমত কামনা ও তদীয় পেয়ারা হাবীব বিশ্ব নবী রাসুলে পাক (সা:) এর স্মরণ এবং  মোরাকাবা মোশাহেদা ও জেকের, যোহর, আসর ও মাগরিব  নামাজ বাদ মোরাকাবা মোশাহেদা ও জেকের আসকার, এশা নামাজ বাদ রাসুলে পাক (সা:) এর প্রতি নজরানা স্বরূপ দরুদ শরীফ পাঠ এবং প্রতি ওয়াক্তে নামাজ ও নফল আবাদত বন্দেগীর পরে প্রকৃত ইসলামের সুমহান আদর্শ আলোকপাত করে ওয়াজ নসিত অনুষ্টিত হবে।১৯৫৩ সালে আপন মুর্শিদ খাজায়ে খাজেগান হযরত শাহ্সূফী খাজা এনায়েতপুরী (কু:ছে:আ:) ছাহেবের নির্দেশে বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী হেদায়েতের বাণী প্রচারে ফরিদপুরের সদরপুরের প্রত্যন্ত এক পল্লী আটরশিতে আগমন করেন। সভ্যতার ন্যুনতম সংস্কৃতিও সে সময় সেখানে ছিল না। সড়ক পথ তো  দুরের কথা, ছিল না পায়ে হাটা মেঠো পথও । সার্বিকভাবে অনগ্রসর অন্ধকার পল্লী আটরশিতে সেবারের ঈদুল আযহায় বিশ্বওলী মাত্র ৩ জনের জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নিজ পিতৃভুমি বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর থেকে অনেক দূরে শুধু মাত্র আপন মুর্শিদের নির্দেশেই স্বজনহীন,সহায়হীন অবর্ণনীয় এক প্রতিকুল পরিবেশে বিশ্বওলী তদীয় পবিত্র মিশন শুরু করেন।

Leave a Reply