ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যা, ছেলে আটক

মাহবুব হোসেন পিয়াল ঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ছেলে মা ও মেয়েকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । মঙ্গলবার ভোর রাতে বোয়ালমারীর পৌর এলাকার কামারগ্রামে এ ঘটনা ঘটে । নিহত মা সুন্দরী বেগম (৫৫) যশোরের কেশব নগর উপজেলার সাগরদাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। মেয়ে শ্রাবণীর বয়স তিন বছর।পুলিশ গলা ও দুই হাতে ব্লেডের পোচে রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলে শ্রীকান্ত দাসবে উদ্ধার করে আটক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা বিভতু ভূষাণ সাহার বাড়ীতে ভাড়াটিয়া হিসাবে গত সাত মাস ধরে বসবাস করতো এই পরিবারটি। তিনি বলেন, ওই বাড়ীতে শ্রীকান্ত দাস ওরফে শিশির (৩২) তার মা সুন্দরী দাস (৫৫) এবং শিশিরের তিন বছরের মেয়ে শ্রাবণীকে নিয়ে থাকতো। শিশির রেডিয়েসান কোম্পানীর সেলস ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলো। বাড়ির মালিক বিভতু ভূষাণ সাহার স্ত্রী স্ত্রী পুতুল সাহা বলেন, ওই বাড়ির লোকজন সকাল ছয়টার মধ্যেই ঘুম থেকে জেগে উঠতো। কিন্তু গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বাড়ির কেউ ঘুম থেকে না ওঠায় আমাদের সন্দেহ হয়। পরে আমরা দড়জা ভেঙ্গে ঘরের ভিতর ঢুকে মা ও মেয়েকে মৃত এবং শ্রীকান্তকে রক্তাক্ত জখম আবস্থায় দেখতে পাই।হতাকান্ডের বিষয়ে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর শেখ আজিজুর রহামান বলেন, সকালে সাড়ে নয়টার সময় খবর পেয়ে আমি ওই বাড়ীতে গিয়ে দেখি গলাকাটা অবস্থায় দুইটি লাশ রয়েছে, পাশে শ্রীকান্ত রক্তাক্ত আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি বলেন, শ্রীকান্ত তাকে (কাউন্সিলর) জানিয়েছে রাতে মা ও মেয়েকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে পরে ভোররাতে তাদের গলা টিপে হত্যা করি। এরপর দুই জনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ফেলি। পরে সে নিজে (শ্রীকান্ত) ব্লেডদিয়ে গলা ও দুই হাতের রগ কেটে আতœহত্যার চেষ্টা করে।শ্রীকান্ত দাসে বাড়ি থেকে তার হাতে লেখা একটি রক্তমাখা চিরকুট পাওয়া গেছে। তাতে সে লিখেছে ‘ভালবেসে মারা গেলাম।’ তাতে আরও লেখা ছিল ‘আমাদের মারা যাবাবর খবর শান্তিকে একটু বলে দেবেন’। ওই চিরকুটে শান্তির ঠিকানা ও তার মুঠোফোন নম্বর দেওয়া ছিল।দুপুর দেড়টার দিকে ওই মুঠোফোন নম্বরে কথা হয় শান্তি সরকারের (২৪) সাথে। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পুশরা ইউনিয়নের তারাইল গ্রামের মুদি দোকানদার সমজিৎ সরকারের মেয়ে।শান্তির পাঁচ বচর আগে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তিনি (শান্তি) বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তার চার বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। শান্তি রামদিয়া এস কে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।শান্তি জানায়, শ্রীকান্তের সাথে তার কোন প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। গত ঈদুল ফিতরের আগের দিন শ্রীকান্ত এক ঘটকের মাধ্যমে তাকে দেখতে তার বাড়িতে আসেন। পরে সে বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু শ্রীকান্ত অনেক টাকার দেনা থাকায় শান্তির বাবা এ বিয়েতে সম্মতি দেয়নি।শান্তি জানায়, এর পর শ্রীকান্ত তার সাথে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে তকে ব্লাকমেইল করার চেষ্টা করার চেষ্টা করে। তাকে বলে, ‘তুমি যদি আমাকে বিয়ে না কর তাহলে আমি বাড়ির সবাইকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করবো এবং তোমাকে ফাঁসিয়ে যাবো’।বোয়ালমারী থানার ওসি তদন্ত মো. শহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, হত্যার খবর পেয়ে আমিসহ থানার অন্যানো কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে শ্রীকান্ত হতাশাগ্রস্থ হয়ে এ ঘটিয়েছে। এই ঘটনায় শ্রীকান্তকে আটক করা হয়েছে । বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, শ্রীকান্তদের মূল বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার পাটিকেল ঘাটা উপজেলায়। তার মামার বাড়ি যশোরের কেশবপুরে। চার বছর আগে বিয়ে করেছিল শ্রীকান্ত। কিন্তু বিয়ের এক বছর পর তার স্ত্রী তাকে ত্যাগ করে অন্যত্র বিয়ে করেন। তিনি বলেন, নতুন করে বিয়ে করার উদ্যোগ নেওয়ায় সে (শ্রীকান্ত) নিজেকে অবিবাহিত এবং নিজের মেয়েকে এলাকায় ভাগনি পরিচয় দিত। ওসি বলেন, মা ও মেয়ের লাশ দুইটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলাদায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply