ফরিদপুরে পদ্মার তীব্র স্রোতে ধসে গেছে সেতু শহরের সাথে ৩১ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মাহবুব হোসেন পিয়ালঃ
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গিতে একটি সেতুর ৩০ মিটার অংশ পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে ধ্বসে গেছে। গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে ফরিদপুর সদরের দুটি ইউনিয়নের ৩১টি গ্রামের সাথে শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসী ও ইউপি চেয়ারম্যান সুত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের জুন মাসে ফরিদপুর সদরের সিএন্ডবি ঘাট থেকে গোলডাঙ্গি হয়ে গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গি পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়কের গোলডাঙ্গিতে এ সেতুটি (আয়রন সেতু) নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিইডি)। ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং দুই মিটার প্রস্তের এই সেতুটির পাশে গত জানুয়ারি থেকে আরেকটি সেতু নির্মাণ শুরু করে এলজিইডি। নির্মতব্য সেতুটি ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং সাত দশমিক দুই মিটার প্রস্তের। ওই সেতু নির্মাণের সুবিধার জন্য মরা পদ্মা নদীর উত্তর দিকে মাটির বাধ দেওয়া হয়েছিল। শনিবার রাতে মাটির ওই বাধ ভেঙ্গে আয়রন সেতুটির ৩০ মিটার অংশ নদীতে ধ্বসে পড়ে। ফলে ওই পথে পথচারীসহ সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় পূর্ব ও পশ্চিম মুখী গোলডাঙ্গি সেতুটির পূর্বপাড়ে আনুমানিক ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। এর ফলে ওই সেতু দিয়ে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা ট্রাক চালক আব্দুল হালিম জানান, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিকট শব্দে সেতুর ওই অংশটি ধ্বসে পড়ে। বাধ দেওয়ার কারনে নদীর উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ে পানির ব্যবধান ছিল আনুমানিক সাত ফুট। বাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় নদীর পানি বিকট শব্দ করে উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ঢুকতে শুরু করে। এ ঘটনায় আমরা আতংকিত হয়ে পড়ি। শিশু ও নারীসহ বাড়ির সব লোককে বের করে রাস্তায় এসে দাঁড়াই।
সেতুর দক্ষিণ পাশে নব নির্মিত সেতুর নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ৪৪জন শ্রমিকের একটি শেড ছিল। মুহূর্তেও মধ্যে ওই শেড পানিতে তলিয়ে যায়। ওই শেডে অবস্থানকারী শ্রমিক আসলাম ফকির বলেন, রাতে আমরা ওই শেডে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ শেডটি পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে আমার তড়িঘড়ি করে বের হয়ে আসি।
ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান জানান, গোলডাঙ্গির পুরাতন সেতুটির পাশে বড় একটি সেতুর নির্মান কাজ চলছে। কাজের কারনে পদ্মা নদীর উৎসমুখটি বাশ, মাটি দিয়ে বন্ধ রাখা হয়। পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে বন্ধ থাকা অংশে পানির চাপ বাড়তে থাকে। আজ ভোরে পানির তীব্র স্রোতে সেতুটি ধসে যায়। তিনি বলেন এই সেতুটি ধব্বসে যাওয়ায় নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ২৭টি এবং পাশের চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের চারটি গ্রামসহ মোট ৩১টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। এর ফলে ফরিদপুর শহরের সাথে ওই গ্রামগুলির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি বলেন প্রতিদিন অনুমানিক ১৫ সহস্রাধিক লোক ওই সেতু দিয়ে যাতায়ত করেন।
সেতুটি ধসে যাবার পর রবিবার সকালে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসন বাবর, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নূর হোসেন ভূঁইয়া, ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারি প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নূর হোসেন ভূঁইয়া জানান, পুরতন সেতুটির ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ মিটার অংশ বাঁশ ও কাঠ দিয়ে আগামী দুই একদিনের মধ্যে মেরামত করে জনসাধারণের চলাচলের উপযুক্ত করে তোলা হবে।
ফরিদপুর পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ সেতুর ব্যাপারে কাজ করবে এলজিইডি। তবে ভাঙ্গনের ফলে ওই এলাকায় একটি মসজিদসহ কয়েকটি স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। সে ব্যাপারে কাজ করবে পাউবো।

Leave a Reply