ফরিদপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত আওয়ামীলীগ নেতার জানাজায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ॥

ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥
ফরিদপুরে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটুক্তির প্রতিবাদ করায় মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ বিএনপির সমর্থকদের হামলায় আওয়ামীলীগ নেতা ইউসুফ আল-মামুন নিহত হওয়ার ঘটনায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় নিহতের ভাই সোহরাব বেপারী বাদি একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামী করা হয়েছে।পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামী কাশেম বেপারীসহ বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, হত্যা মামলা দায়েরের পর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামীসহ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহত ইউসুফ আল-মামুন(৪০) নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। আর আহত লালন ফকির ওই ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি।তিনি ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উল্লেখ্য,গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গি চৌরাস্তার মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানে আড্ডার সময় আব্দুল মজিদ নামে বিএনপির এক সমর্থক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে কটুক্তি করেন। এর প্রতিবাদ জানান ইউসুফ আল-মামুন। এক পর্যায়ে দুইজনের মধ্যে বিতর্কের ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও কয়েকজন বিএনপি সমর্থক এসে ইউসুফকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি লালন ফকির ছুটে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত লালন ফকিরকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জমিরউদ্দিন জানান, মজিদ ও ইউসুফ একই এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে আড্ডার সময় মজিদ ও ইউসুফের মধ্যে আওয়ামী-বিএনপি নিয়ে বিতর্কের জেরে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে বুধবার বাদ জোহর পদ্মারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহত আওয়ামীলীগ নেতা ইউসুফ আল-মামুনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ আওয়ামীলীগ নেতারা অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, এরই মধ্যে এক আসামীসহ বেশ কয়েকজন আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Leave a Reply