ফরিদপুরে বন্যায় ডুবে গেছে ২২৯ হেক্টর জমির ফসল

ভয়েস অব ফরিদপুর রির্পোট ॥
ফরিদপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ফরিদপুরের তিনটি উপজেলার ২২৯ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘন্টায় বেড়েছে আরও ১৬ সে.মি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে বিপৎসীমার ৯২ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।গত বুধবার রাত ৮টার দিকে ফরিদপুর সদরের আলীয়াবাদ ইউনিযনের ভাজনডাঙ্গা ভ’ইয়াবাড়ির ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর পানি উপচে এলাকায় প্রবেশ করতে শুরু করে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী বালির বস্থা স্থাপন করে পানি প্রবাহ রোধ করে।
ওই এলাকার বাসিন্দা ওমর প্রামাণিক বলেন, পানি প্রবাহ বন্ধ করতে এলাকার তরুণ ও যুবকরা স্বতস্ফ’র্ত ভাবে এগিয়ে আসে। এবং বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার সকালে সড়কের পূর্বপাশে বালির স্থাপন করে পানি প্রবাহ ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।্এ সময় এলাকার মিজানুর রহমান ফারুক,হাবিবসেক,গাউস প্রামাণিক,আবুল কালাম হাওলাদার,লিটনমোল্লা মধু,তোতা ফকির,মহসিন ফকিরমোক্তার মিয়া, আলমগীর সহ এলাকার তরুণ ও যুবকরা পানি প্রবাহ বন্ধ করতে রাতভর বালির বস্থাফেলে।ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর বাজার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ বলে পরিচিত গোয়ালন্দ-তাড়াইল সড়কের নিচে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় সে ফাটল দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত এ পানি প্রবাহ রোধ করা যায়নি। তবে এখানে পানি প্রবাহ রোধ করার কাজ করে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।এদিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ফাজিল খারডাঙ্গি এলাকায় নদীর বাধের ফাটল রোধে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নিমজ্জিত ও পানিবন্দী –ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১৬৬টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৮০০ পরিবারের বসত বাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার ৬০০ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেলে বন্যা কবলিত তিনটি উপজেলার ১০২টি কাঁচা ও পাকা সড়ক।৪৩টি প্রাইমারি স্কুল বন্ধ–
বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ফরিদপুর সদরের পাঁচটি, চরভদ্রাসনে ১৬ এবং সদরপুরে ২২টিসহ মোট ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হযেছে।
ফসলের ক্ষতি–ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে ফরিদপুরের বন্যা কবলিত তিনটি উপজেলায় ১৭১ হেক্টর ধান ও ৫৮ হেক্টর সবহিসহ মোট ২২৯ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

Leave a Reply