ফরিদপুরে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার :
‘মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান। তাদের আত্ম মর্যাদা ও সম্মান সবার উপরে উড্ডীন রাখতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে হবে। তাদের অসম্মান করা হলে এ জাতি টিকবে না।’-এ প্রত্যায় নিয়ে গতকাল রবিবার ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতার ৪৬তম বার্ষিকী। সকালে শহরের গোয়ালচামট এলাকায় শহীদদের নাম সম্বলিত স্মৃতি বেদিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। সকাল ৭টায় প্রথমে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের উদ্দেশ্য দোয়া করা হয়।
দোয়া শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মুধা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল ফয়েজ। এর পর একে একে পুষ্পার্র্ঘ অর্পণ করে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধারা, আওয়ামী লীগ, বিএনপি,যুবদল, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রথম আলো বন্ধুসভা, ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের ব্যাক্তিবর্গ। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা বের করা হয়। গণকবর জিয়ারত শেষে সকাল আটটায় ফরিদপুর শেখ জামাল ষ্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ। বেলা সাড়ে ১১টায় স্থানীয় কবি জসীমউদ্দীন হলে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানানো হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান। তাদের আত্ম মর্যাদা ও সম্মান সবার উপরে উড্ডীন রাখতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে হবে। তাদের অসম্মান করা হলে এ জাতি টিকবে না।’অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত ও বিশেষ প্রার্থনা, বাদ্য পরিবেশন, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নারীদের ক্রিড়া অনুষ্ঠান, কাবাডি প্রতিযোগিতা, প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, ‘মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক সেমিনার ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সুর্যোদয়ের প্রাক্কালে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে দিবসটির সুচনা হয়। সুর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, বেসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও ব্যাক্তি মালিকানাধীন ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ উপলক্ষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ভবনসহ বিভিন্ন সড়ক আলো দিয়ে সাজানো হয়। সিনেমা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

Leave a Reply