ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী পালিত ॥ ভয়েস অব ফরিদপুর

ভয়েস অব ফরিদপুর রির্পোট ॥
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার করার অঙ্গিকার নিয়ে গতকাল সোমবার ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী। ২৬ মাচ ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা। বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় কবি জসীম উদ্দীন হল মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা না থাকলে, দেশ স্বাধীন না করলে আমরা এই ২৬ মার্চ চিনতাম না।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সংবর্ধনাসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন খান, ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেসাম হোসেন ওরফে বাবর, জেলা আ.লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, যুদ্ধকালীন কমান্ডার কবিরুল আলম ওরফে মাও, যুদ্ধকালীন কমান্ডার গুলজার হোসেন খান, সাবেক জেলা কমান্ডার আবুল ফয়েজ, সাবেক জেলা ডেপুটি কমান্ডার নজরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার শামসুদ্দীন ফকির।
এর আগে সকাল ৭টার দিকে শহরের গোয়ালচামট মহল্লার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত শহীদদের নাম সম্বলিত স্মৃতি বেদিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। প্রথমে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের উদ্দেশ্য দোয়া করা হয়।
দোয়া শেষে স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর পক্ষে জেলাপ্রশাসক,পুলিশ সুপার ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ , বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও এমপি চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ , জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা,জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রথম আলো বন্ধুসভা, ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের ব্যাক্তিবর্গ পুস্পার্ঘ অর্পণ করেন।
পরে ওই জায়গা থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ফরিদপুর শেখ জামাল স্টেডিয়াম সংলগ্ন গণকবর প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পুস্পার্ঘ অর্পণ শেষে স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্মিলিত ভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ।
স্বাধীনতা দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত ও বিশেষ প্রার্থনা, বাদ্য পরিবেশন, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নারীদের ক্রিড়া অনুষ্ঠান, কাবাডি প্রতিযোগিতা, প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, ‘মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক সেমিনার ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সুর্যোদয়ের প্রাক্কালে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে দিবসটির সুচনা হয়। সুর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, বেসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও ব্যাক্তি মালিকানাধীন ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এ উপলক্ষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ভবনসহ বিভিন্ন সড়ক আলো দিয়ে সাজানো হয়। সিনেমা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

Leave a Reply