ফরিদপুরে স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা

ভয়েস রিপোর্ট ঃ
ফরিদপুর শহরতলীর ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ঈশান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে দিনের বেলা জোরপূর্বক পাটক্ষেতে নিয়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায় নাসির (৪০) নামের এক লম্পট। এ ঘটনায় স্কুলের ছাত্রীদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী, স্কুলের শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগী ছাত্রীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর গ্রামের দরিদ্র রিকশা চালক রোকন মোল্যার কিশোরী কন্যা, ঈশান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী বুধবার সকালে তার এক বান্ধবীর বাড়ীতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে একই এলাকার আফসার শেখের ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী নাসির ছাত্রীটিকে জোরপূর্বক রাস্তার পাশ্ববর্তী একটি পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। ছাত্রীটির চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন নাসিরকে ধরে ফেলে। পরে তাকে গনধোলাই দেয়া হয়। স্থানীয়রা পরে নাসিরকে ঈশান স্কুলের শিক্ষকদের কাছে নিয়ে যায়। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির দু সদস্য সোহরাব ও কুব্বাত মেম্বার নাসিরের বিচার করা হবে বলে কৌশলে ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে স্থানীয়দের এবং স্কুলের শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর নাসির ঐ ছাত্রীটির বাবাকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাসিরসহ কয়েকজন আগেও এরকম অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী একটি মহল সবসময়ই তাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। ফলে স্কুলে যাওয়া আসার পথে ছাত্রীদের লাঞ্ছিত, অশ্লিল ইংগিত করে এলাকার বেশকিছু বখাটে। নাসিরকে ছেড়ে দেবার ঘটনায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও কয়েকজন ছাত্রী যৌনহয়রানীর শিকার হয়েছিল। এ চক্রটিই বিচারের নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বখাটেদের বাঁচিয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে স্কুলের দু ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সোহরাব ও কুব্বাত জানান, নাসির যে কাজ করেছে তার বিচার করার জন্য আগামী শনিবার স্কুলে মাঠে শালিস বৈঠক ডাকা হয়েছে। যেখানেই তার বিচার করা হবে। আইনের আওতায় না দিয়ে শালিস বৈঠকে বিচার করার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, সবকিছুই আইন দিয়ে হয়না।
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুল আলম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। যে এ ঘটনার সাথে জড়িত তার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।
ঈশান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিবু পদ জানান, অভিযুক্ত নাসিরকে স্থানীয়রা ধরে এনে আমাদের কাছে দেয়। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির দু সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান বিচারের কথা বলে নাসিরকে ছেড়ে দেয় এতে আমাদের কোন হাত নেই।

Leave a Reply