ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারে চারজনসহ ছয়জন নিহত

ভয়েস অব ফরিদপুর রির্পোট ॥
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পবিারের চারজনসহ মোচ ছয়জন নিহত হযেছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কাজির রাস্তা নামক স্থানে ঢাকা-খুলনা মহা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বেনাপোাল থেকে ঢাকাগামী শ্যামালী পরিবহনের একটি গাড়ি সামনের দিকে থেকে ওই মাইক্রোবসটিকে আঘাত করলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় ছয়জন নিহত ও দুইজন আহত হন। হতাহতরা সকলেই মাইক্রোবাসের যাত্রী। দুর্ঘটনার ফলে শ্যামলী পারবহনের বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ওই বাসের কোন যাত্রী মারাত্বক আহত হননি। পুলিশ বাসটি আটক করতে পারলেও পালিয়ে গেছেন চালক।
করিমপুর হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক নওশের আলী জানান, বাসটি দ্রুত গতিতে চলছিল এবং রঙ সাইডে এসে ওই মাইক্রোবাসটিকে সজোরে আঘাত করলে মাইক্রোবসটি সম্পূর্ণ ভাবে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায়।
ফরিদপুর দমকল বাহিনীর জ্যেষ্ট স্টেশন কর্মকর্তা মো, সাইফুজ্জামান জানান, ফরিদপুর ও মধুখালী দমকল বাহিনীর দুটি দল ঘটনাস্থলে এসে দুর্ঘটনায় পড়া মাইক্রোবাসটির বডি কেটে কেটে হতাহতদের বের করে। এ দুর্ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পর একজনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বাকি দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত একই পরিবারের সদস্যরা হলেন, শ্যামনগরের পরানপুর গ্রামের খয়রুণ বিবি (৩৫), তাঁর বাবা করিম গাজী (৫৬), খায়রুণের ননদের ছেলে নাজমুল গাজী (৪০) ও নাজমুল গাজীর স্ত্রী আফিসা বেগম (১৮)।
অপর নিহত দুজন হলেন মাইক্রোবাস চালক শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া গ্রামের আনিসুর রহমান (২৫) ও তাঁর ভাগিনা জাহিদ হোসেন (১৮)।
এ দুর্ঘটনায় আহত হন খায়রুণের দুই ছেলে আবুল কালাম আজাদ (২০) ও মো. সাইফুদ্দিন (২৬)। বর্তমানে তাঁরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবুল কালাম আজাদ জানান, তার মা খায়রুণ দুই বছর আগে কাজের জন্য ওমানে যান। গত শুক্রবার তিনি দেশে ফিরে আসেন। বিদেশ ফেরত মাকে ঢাকা থেকে বাড়িতে আনতে তারা সাতক্ষীরা থেকে মাইক্রাবাস নিয়ে শুক্রবার ভোরে ঢাকা যান। মাকে নিয়ে ফেরার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনার শিকার হন।
নিহত জাহিদের বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাঁর ছেলে কলেজে পড়ে। সে মাইক্রোবাস চালনো শিখতে মাঝে মধ্যে তার মামার সাথে যেতো। গত শুক্রবারও এ কারনেই সে মামার সাথে বের হয়েছিল।
করিমপুর হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক নওশের আলী জানান, এ দুর্ঘটনার ফলে ওই মহাসড়কে আধা ঘন্টার জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, মৃতদেহগুলি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে। পরে তা নিহতের স্বজনদের কাছে হস্থান্তর করা হবে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply