বাড়ছে ডলারের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট : সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে ডলার সঙ্কট তৈরি হয়েছে। মূলত আমদানি ব্যয় বাড়ার ফলেই এই সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে খোলা বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। আর চাহিদা বেশি থাকায় ডলারের মূল্য বাড়ছে হু হু করে। কয়েকদিনের ব্যবধানেই প্রতি ডলারের মূল্য বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিকারকরা লাভবান হলেও ক্ষতির মুখে পড়ছেন আমদানিকারকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে সম্প্রতি আমদানি ব্যয় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। আমদানি-রপ্তানির জন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ভিত্তিক বা নন ফিজিক্যাল ফর্মে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ রয়েছে তিন হাজার ২৪৬ কোটি ডলার। এ পরিমাণ মজুদ দিয়ে প্রায় ৮ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ছে নজিরবিহীনভাবে। রমজানের আগে হঠাৎ করে ডলারের দাম বৃদ্ধিতে খেজুর, তেল, ডালের মূল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন ব্যাংকের প্রকাশিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় মূল্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সব সময় অন্য ক্ষেত্রের তুলনায় নগদ ডলার বিক্রির মূল্য তিন থেকে চার টাকা বেশি থাকে। ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডলার পরিশোধের ক্ষেত্রে এই মূল্য কিছুটা কম থাকে। বিদেশি ব্যাংকের গত পহেলা জানুয়ারির তথ্য মতে, ওই দিন ব্যাংকটি নগদ ডলার বিক্রি করেছে ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা। আমদানির দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছে ডলার বিক্রি করেছে ৭৯ টাকায়। নন-ফিজিক্যাল ফর্মে ডলারের দাম নগদ ডলারের তুলনায় সাড়ে ৪ টাকা বেশি। গতকাল এই ননফিজিক্যাল ফর্মের ডলার বিক্রি করেছে ৮৪ টাকা ৪০ পয়সায়। আর নগদ ডলার বিক্রি করেছে ৮৩ টাকায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে। রপ্তানি আয়ও কমে যাচ্ছে। কিন্তু আমদানি ব্যয় কমছে না। ফলে এর প্রভাব পড়েছে মুদ্রাবাজারে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহে মন্দা যাচ্ছে। এছাড়া কিছু ব্যাংক বিবেচনা না করেই ডেফার্ড এলসি (বকেয়া ঋণপত্র যা ১৮০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে পারেন গ্রাহকরা) খুলে ফেলেছে এখন একসঙ্গে তা পরিশোধ করতে গিয়ে ডলারের সঙ্কট দেখা যাচ্ছে। ফলে বাড়ছে ডলারের দাম। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে রেমিটেন্স প্রেরণকারীরা উৎসাহিত হবেন বলে মনে করেন তিনি। অন্য একটি ব্যাংকের এমডি গতকাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে হস্তক্ষেপ করে থাকে। বাজারে যখন উদ্বৃত্ত ডলার ছিল তখন তা কিনে নিয়ে বাজারকে স্বাভাবিক রাখে। এখন ডলারের সংকট। কিন্তু এর বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার ছাড়ছে না। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ না করলে অর্থাৎ বাজারে ডলার না ছাড়লে আমদানি পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে। এতে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে বলে তিনি মনে করেন। গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, হঠাৎ করে ডলারের দাম বৃদ্ধিতে আমদানি নির্ভর সব পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো ইচ্ছে মাফিক নিজেদের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখতে পারে না। এজন্য নির্ধারিত সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ব্যাংক দিন শেষে তার মোট মূলধনের ১৫ শতাংশ সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করতে পারে। দিনশেষে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ডলার থাকলে বাজারে বিক্রি করতে হবে। বাজারে বিক্রি করতে না পারলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানা গুনতে হয়।
কয়েক বছর যাবত বিনিয়োগ স্থবিরতার মাঝে বাজারে ডলারের বাড়তি কোনো চাহিদা ছিল না। ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে যে পরিমাণ ডলার আহরণ করে তা প্রতিটি ব্যাংকের হাতেই উদ্বৃত্ত থেকে যায়। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনেছে। কিন্তু এখন এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কমলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনও কমেনি। সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে তিন হাজার ২৪৬ কোটি ডলার যা দিয়ে বাংলাদেশের আট মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করা সম্ভব।

Leave a Reply