বিশ্ব ইজতেমায় আখেরী মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা

গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন লাখো মুসল্লি। রোববার বেলা ১১টার একটু পরেই মোনাজাত শুরু হয়। সাড়ে ১১টার পরে তা শেষ হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি ও ভারতের দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ। মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জোটবদ্ধ হয়ে ইসলামি দাওয়াতি কাজে বের হবেন। রোববার বেলা ১১টা ১ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়, ৩৫ মিনিটের এ মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের মারকাজের শুরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ সাদ। তিনি আরবি ও উর্দু ভাষায় মোনাজাত করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে বসে নিকট আত্মীয়দের নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয় থেকে মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও মঙ্গলকামনা করা হয়।মোনাজাতকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মুঠোফোন ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।আখেরি মোনাজাত চলাকালে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরাসহ আশপাশের এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, মার্কেট, বিপণিবিতান ও অফিস বন্ধ ছিল। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন আর রশিদ জানান, মুসল্লিদের বাড়ি ফেরা পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় ছয় হাজারের বেশি পুলিশ ছিল । এ ছাড়া সাদা পোশাকে মুসল্লিদের বেশে খিত্তায় খিত্তায় পুলিশ মোতায়েন ছিল ।চার দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এ বছরের ইজতেমা।
বিশ্ব ইজতেমার মাসলাহাল জামাতের আমির আদম আলী জানান, শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঢাকার সবুজবাগের কদমতলা এলাকার বেদন মিয়া (৬০)। এ নিয়ে এবারের ইজতেমায় মোট আটজন মুসল্লির মৃত্যু হলো।মন্ত্রী-সাংসদদের অংশগ্রহণ: ইজতেমা ময়দানের পূর্বপাশে শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষে বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, সাংসদ জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমত উল্লাহ খান, সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান প্রমুখ। মোনাজাত শেষে যানজট: আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই টঙ্গীর কামারপাড়া সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কসহ আশপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। মোনাজাতে মুসলিম জাহানের কল্যাণ কামনা করা হয়। মোনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস বিশেষ ব্যবস্থা নেয়।গত শুক্রবার ভোরে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এই পর্বে অংশ নেন ঢাকাসহ ১৭ জেলার মুসলমানরা।
চার দিন বিরতি দিয়ে ঢাকা ছাড়াও আরও ১৫ জেলার মুসলমানদের অংশগ্রহণে ২০ জানুয়ারি শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যামে শেষ হবে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের এই বার্ষিক সম্মিলন।এর বাইরে দেশের বাকি ৩২টি জেলার মানুষ আগামী বছর দুই পর্বে ইজতেমায় অংশ নেবেন।আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে ভোর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকে কুয়াশার মধ্যে তুরাগতীরের পথে পথে শুরু হয় মানুষের ঢল। ভোগড়া বাইপাস এলাকার বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম জানান, আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ভোররাতে তিনি বাড়ি থেকে রওনা হন। চৌরস্তার পর থেকে গাড়ি চলতে না দেওয়ায় পায়ে হেঁটেই তিনি মাঠে পৌঁছান। ততক্ষণে সেখানে তার তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
মোনাজাতের আগে ইজতেমা ময়দানে চটের সামিয়ানার নিচে বয়ান শোনেন লাখো মানুষ। ময়দান ভরে যাওয়ায় আশেপাশের অলিগলি ও রাস্তায় পাটি, খবরের কাগজ, পলিথিন বিছিয়ে তাতেই অবস্থান নেন অনেকে।ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে বহু নারীও এসেছিলেন মোনাজাতে অংশ নিতে। ময়দানে ঢোকার অনুমতি না থাকায় তারা আশপাশের বিভন্ন কারখানা ও আবাসিক ভবনের ছাদে অবস্থান নিয়ে মোনাজাতে হাত তোলেন।
ইজতেমার মাঠে পৌঁছাতে না পেরে হাজার হাজার মানুষকে কামারপাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিতে দেখা যায়। অনেকে বিমানবন্দর গোল চত্বর কিংবা উত্তরা থেকেও আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।মাওলানা সাদ মোনাজাতে ¯্রষ্টার কাছে সবার অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষার জন্য আর্জি জানান।আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কারখানা, বিপণিবিতান ও অফিস ছিল বন্ধ। মোনাজাত শেষে ইজতেমাস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সুবিধবার জন্য করা হয় বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা।তারপরও সবার একসঙ্গে বাড়ি ফেরার তাড়াহুড়ায় টঙ্গীর কামারপাড়া সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী- কালীগঞ্জ সড়কের আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু ও আশপাশের সড়ক-মহাসড়ক এবং সংযোগ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন আর রশিদ জানান, সবাই বাড়ি ফেরা পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

Leave a Reply