ব্যান্ডউইডথের দাম কমলেও সুফল পাচ্ছে না গ্রাহক

প্রযুক্তি ডেস্ক : ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের দাম কয়েক দফায় কমানোর পরও ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক কম দামে সেবা পাওয়ার আশা করলেও তা পাচ্ছে না। প্রতি গিগাবাইট ইন্টারনেট ডাটা কিনতে সেলফোন অপারেটরদের ব্যয় হয় গড়ে ২৬ পয়সা। অথচ গ্রাহকের কাছে একই পরিমাণ ডাটা ২শ টাকার বেশি দামে বিক্রি করছে অধিকাংশ অপারেটর। তবে অপারেটরদের দাবি, ব্যান্ডউইডথের যে দাম গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে তা ডাটাভিত্তিক সেবার মোট ব্যয়ের ১-৩ শতাংশ। সিংহভাগ অর্থই প্রতিষ্ঠানের মূলধনি ও পরিচালন ব্যয় সংশ্লিষ্ট। এসব ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণ, তরঙ্গ বরাদ্দ, বার্ষিক তরঙ্গ বরাদ্দ ফি ও লাইসেন্স ফি, বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য।
সেলফোন অপারেটরদের ডাটাভিত্তিক সেবার তথ্যানুযায়ী, গ্রামীণফোনের ফ্লেক্সিপ্ল্যানে ৩০ দিন মেয়াদে ১ জিবি ডাটা কিনতে গ্রাহকের ব্যয় ২৭৪ টাকা ২৮ পয়সা। একই পরিমাণ ডাটা কিনতে বাংলালিংকের গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে ২০৯ টাকা। রবি ও এয়ারটেলের ১ জিবি ডাটা প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে ২১৩ টাকা ৬ পয়সা ও ২০৯ টাকা। তবে এক্ষেত্রে মেয়াদ ধরা হয়েছে ২৮ দিন। রাষ্ট্রায়ত্ত সেলফোন অপারেটর টেলিটকের ১ জিবি ডাটা প্যাকেজের ৩০ দিন মেয়াদি ১ জিবি ডাটা প্যাকেজের মূল্য ১৮০ টাকা। তবে গড় হিসাবে এ পাঁচটি অপারেটরের প্রতি জিবি ডাটার বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ২১৭ টাকা।
দেশে ইন্টারনেট সেবার সম্প্রসারণে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে ব্যান্ডউইডথের মূল্য কমিয়ে এনেছে সরকার। পাশাপাশি ওয়াইম্যাক্স ও থ্রিজির মতো তারবিহীন উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। ফলে সেবাটির গ্রাহকও বেড়েছে। আর ইন্টারনেট গ্রাহকের সিংহভাগই সেলফোন অপারেটরদের ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছে। থ্রিজি প্রযুক্তি চালু অপারেটরদের ডাটাভিত্তিক সেবা আরো সম্প্রসারণের সুযোগ এনে দেয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপারেটররা ব্যবসা করলেও বঞ্চিত হচ্ছে গ্রাহক।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটর গ্রুপের (বিডিনগ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ সাবির বলেন, দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের দাম আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বিশ্বের অন্যতম সস্তা মূল্য এটি, তাতে সন্দেহ নেই। তবে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য কতখানি কমেছে, সেটি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে মূল্য যেভাবে কমেছে, মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য সেভাবে কমেনি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারি শেষে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ৬ কোটি ৭২ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেলফোন অপারেটরদের টুজি ও থ্রিজি প্রযুক্তির ইন্টারনেট সেবার আওতায় গ্রাহক রয়েছে ৬ কোটি ৩১ লাখের বেশি। এছাড়া ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার (আইএসপি) ও পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) অপারেটরদের সেবাগ্রহণকারী ৪০ লাখ ৩৬ হাজার। আর ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহক রয়েছে ৮৯ হাজার। দেশে বর্তমানে প্রতি মাসে গ্রাহকপ্রতি ডাটা ব্যবহার হচ্ছে ৪০০-৫০০ মেগাবাইট (এমবি)।
রবি ও এয়ারটেলের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক বছরে ইন্টারনেট সেবার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বাংলালিংক। ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে সেলফোনের গ্রাহকরা ফিচারফোন থেকে স্মার্টফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এর ফলে ডাটার ব্যবহারও ক্রমেই বাড়ছে।

Leave a Reply