ভাঙ্গায় ধর্ষণের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টারঃ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে গত শুক্রবার দিবাগত  রাত ২ টার দিকে মারা গেল ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের কাউলিবেড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের পিতৃহীন শিশু ফারজানা আক্তার (১১)। গত দুই মাস আগে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। ধর্ষণের অভিযোগে একই গ্রামের বাসিন্দা তরুণ লিটন মাতুব্বর (২০)কে ভাঙ্গা থানা পুলিশ গত শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার রাতে ঐ শিশুর চাচা আবুল কালাম লিটনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গতকাল শনিবার (২৫ মার্চ) ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে জেলার মুখ্য বিচারিক হহাকিমের আদালতে সোপর্দ করে। আদালত আগামী সোমবার রিমান্ডের শানানির দিন ধার্য করে লিটনকে ফরিদপুর জেল হাজতে পাঠায়।
শিশুটির চাচা আবুল কালাম জানায়, ফারজানা কাউলিবেড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। গত ২০ জানুয়ারি ফারজানা প্রতিবেশি রাশেদ মাতুব্বরের বাড়িতে রাতে টেলিভিশন দেখতে যায়। মেয়েটিকে একা পেয়ে রাশেদ মাতুব্বরের বখাটে ছেলে লিটন মাতুব্বর ধর্ষণ করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসা করার পর তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। কিন্তু শিশুটি দিন দিন আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষ শালিস বিচার করে দিতে চায়। তারা লিটনের পক্ষ নিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে। অবশেষে গত ২২মার্চ শিশুটিকে পুণরায় গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুল্লাহ বলেন, শিশুটি দুই মাস আগে ধর্ষণের শিকার হয়। তখন কেউ অভিযোগ করেনি। আমরা গত বৃহস্পতিবার ঘটনা জানতে পেরে প্রাথমিক তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাই। শুক্রবার দুপুরে লিটনকে গ্রেপ্তার করি।

Leave a Reply