মধুখালীর শ্রীপুর বটতলায় দীর্ঘ দিনের লোকজ মেলার পূণর্জীবন। ঘোড়াদৌড় ॥ ভয়েস অব ফরিদপুর

ভয়েস অব ফরিদপুর রির্পোট ॥
প্রায় দুই যুগ বিরতির পর এবছর আবার চিরায়ত আবহমান বাংলার মনোরম পরিবেশে শতবষীয় বটগাছের নিচে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপি লোকজ মেলা। জানা যায়, প্রায় দুই/তিনশ বছর আগে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে পহেলা বৈশাখে এ মেলার যাত্রা। মেলার পাশাপাশি বটতলায় চলতো ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগীতা। প্রথমে মেলা বসতো গ্রামের কর্মকার পাড়া হতে শুরু করে বড় পুকুর পর্যন্ত। এ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ ক্ষুদিরাম কর্মকার বলেন, প্রায় ২০০ বছর মেলা চলার পর গত প্রায় ৬০/৬২ বছর আগে গ্রামের তখনকার সমাজনেতা রশিদ মোল্যা ও ফাকু মন্ডলের প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে বৈশাখী এ কার্যক্রমগুলো বৃহৎ বটতলায় সুগঠিতভাবে শুরু হয়। বিগত দুই যুগ আগে শহরের নিকটে আধুনিক আদলে মেলা বসালে এ মেলা বন্ধ হয়ে যায়। এবছর স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ আব্দুর রহমান এবং তার সহধর্মীনী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডাঃ মির্জা নাহিদা হোসেন বন্যা এই চিরায়ত গ্রামীণ মেলার পূণর্জীবনের উদ্যোগ গ্রহন করেন, এবং মধুখালী পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে। পৌরসভার মেয়র খোন্দকার মোরশেদুল ইসলাম লিমন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আজিজার মোল্যা, বিল্লাল মোল্যা, তরুন উদ্যোক্তা কবির মন্ডল, মোস্তফা সরদার ইত্যাদিকে এ লোকজ সংস্কৃতি উদ্ধারে কাজ করতে দেখা গেছে। ১১ ও ১২ এপ্রিল এ দুই দিন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। বৃহৎ এ বটগাছের নিচে মেলার পাশাপাশি আছে ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগীতা, ঘূড়ি কাটা প্রতিযোগীতা, লাঠিখেলা প্রতিযোগীতা, নাগর দোলা, পুতুল খেলার আয়োজন। গল্পের ও ছবির মত পরিবেশে মেলায় আসা স্বল্পবয়সীদের উচ্ছাসও চোখে পরার মত। বটগাছের ছায়া তলেই মৃৎ, কুটির ইত্যাদি শিল্প এবং খাবারের দাকানসহ প্রায় ৫০ টি। “একটি গ্রাম্য মেলা” প্রবন্ধ লেখার জন্য প্র্যাকটিক্যাল উদাহরণ এ মেলাটি।

Leave a Reply