মান্না দে’র গাওয়া ‘ ও চাঁদ সামলে রাখো জোসনাকে’গানটি গেয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ফরিদপুরের টিপু সুলতান ॥ VOICE OF FARIDPUR

ভয়েস অব ফরিদপুর রির্পোট ॥ এই সময়ের প্রতিভাবান সাংস্কৃতিক কর্মী এমডি টিপু সুলতান। একাধারে একজন নাট্যকর্মী, সঙ্গীতশিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। ফরিদপুরের সন্তান টিপু সুলতান স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি প্রচ- ঝোঁক ছিল। তবে পারিবারিক সদস্যদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই এক সময় তাকে সঙ্গীত চর্চা করতে হয়েছিল। কলেজে পড়াকালীন কলেজের একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পর অনেকটাই পরিচিতি পান টিপু সুলতান। সেই অনুষ্ঠানের পর থেকে পরিবারের সদস্যরাও তাকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পথচলায় সহযোগিতা করেন। ফরিদপুর স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি এবং পরে ঢাকায় নজরুল একাডেমিতে দুই বছর গানে তালিম নিয়েছেন।
সময়ের প্রয়োজনে এক সময়ে ঢাকায় চলে আসেন টিপু সুলতান। ঢাকায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পথচলা আরও দিগুণ হয় ঢাকা পদাতিকের মতো নাট্য সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এ সংগঠনের একাধিক প্রযোজনায় কাজ করার পাশাপাশি সঙ্গীত চর্চাও চালিয়ে গেছেন নিরন্তর। ঢাকা পদাতিকের ‘বিষাদ সিন্ধু’ প্রযোজনার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।
এক সময় চ্যানেল আইয়ের নাটক বিভাগের সহপরিচালক হিসেবেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। চলচ্চিত্র পরিচালক রকিবুল আলম রকিব পরিচালিত একটি চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালক এবং আবু সাঈদের ‘অপেক্ষা’ চলচ্চিত্রের কো-প্রডিউসার ছিলেন তিনি। মঞ্চ নাটকে কাজ করার পাশাপাশি প্যাকেজ নাটক, চলচ্চিত্র এবং সঙ্গীত অঙ্গনে সমানতালে কাজ করছেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন গার্মেন্টস এক্সপোর্ট এবং ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী।
তবে অনেকদিনের শখ ছিল তার পছন্দের গান রেকর্ড করবেন। তার সেই শখ পূরণে এগিয়ে এসেছেন বিশিষ্ট গীতিকবি ও কনা চৌধুরী। তারই অনুপ্রেরণায় টিপু সুলতান সম্প্রতি একটি গান রেকর্ড করেছেন। উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী প্রয়াত মান্না দে’র গাওয়া ও সুর করা ‘ও চাঁদ সামলে রাখো জোসনাকে’ শিরোনামের এই গানটি নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করেছেন টিপু সুলতান। গানটির গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। গানটি টিপু সুলতানের জন্য নতুন করে কম্পোজ করেছেন আকাশ মাহমুদ। মিক্সড মাস্টার এবং সম্পাদনা আশিক মাহমুদ। আর গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন পাপ্পু। জীবনে প্রথমবারের মতো রেকর্ডকৃত গানটি নিয়ে যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত টিপু সুলতান। গানটির ভিডিও অনলাইনে আপলোড করার পর অনেকেই তার গায়কীর প্রশংসা করেছেন, সাধুবাদ জানিয়েছেন। দর্শক শ্রোতাদের উৎসাহে গান নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করছেন তিনি। নিজের সঙ্গীত ক্যারিয়ারের গল্প বলতে গিয়ে টিপু সুলতান বলেন, সারাজীবন বিভিন্ন অঙ্গনে নিজের পারফর্মেন্স দেখিয়েছি। বিশেষ করে পঁচিশ বছর গান শুধু ঘরের মানুষ শুনেছে। গানের চর্চাটা একেবারে ক্লাস টু থেকে পরিবারের কাছে প্রকাশ ও তেমন সুবিধা করতে পারিনি। চুরি করে গোলা থেকে ধান বিক্রি করে হারমোনিয়াম কিনে বন্ধুর বাসায় রেখে গানের চর্চা করতাম সেটাও এক সময় ধরা পড়ে গেলাম। বাবা কিছুতেই আমার এই গানের পাগলামি মেনে নেননি। এইভাবে কলেজের একটা প্রোগামে গান করার সুযোগ পাই সেখানে আমার বাবা মা সবাই উপস্থিত ছিলেন, ভয়ে আমার শরীর কাঁপছিল। গান শেষে বাবার মানসিকতা কিছুটা পরিবর্তন হয়। এইভাবে অনেকটাই লুকিয়ে গানের জগতে বেড়ে ওঠা। কনা চৌধুরী আমার গান শুনে আমাকে তাগিদ দিতে থাকেন। বলেন ‘আরে তুমি বেশ সুরে গান করো চলো একটু চেষ্টা করে দেখা যাক পরেরটা পরে ভাল হতে পারে জোর করে আরেকবার গাইবার চেষ্টাতে একটা কভার সং করা এই আর কি। টিপু সুলতান বলেন, নিজের ভয়েস রেকর্ড করব এটা কখনও হয়ে ওঠেনি। নিজের কাজের ব্যস্ততায় যতটুকু পারি। গানের মাধ্যমে দর্শকের বেশ সাড়া পেলাম বন্ধু-বান্ধব পরিবারের চাওয়া গানটা চালিয়ে যাব। সময়ের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া। ভাল গানের সঙ্গে ভাল কিছু করতে চাই। আসুন ভাল গান শুনি ভাল গানের সঙ্গে থাকি। সবার কাছে আমি আবারও প্রত্যাশা, নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ পেলে গান ধরে রাখব। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

Leave a Reply