‘মাশরাফি ভাই আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন’

ডেস্ক রিপোর্ট : ১০ ওভার বল করে ৪৩ রান দিয়ে দুই উইকেট। টেস্টের পর ওয়ানডেতেও অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আর স্মরণীয় এক জয়ের পরদিন গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ডানহাতি এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডার জানালেন নিজের অভিজ্ঞতার কথা।
ওয়ানডে অভিষেকটা কতটা রোমাঞ্চকর ছিল?
আসলে খুব ভালো লাগছে। কারণ আমার অনেক ইচ্ছে ছিলো ওয়ানডে খেলার। টেস্ট অভিষেকের পরই ওয়ানডের কথা চিন্তা করছিলাম। আল্লাহর রহমতে অভিষেক হয়ে গেলো। বোর্ড প্রেসিডেন্ট যখন আমাকে বললেন, শ্রীলঙ্কা যেতে হবে, ওয়ানডে খেলতে। তখনই চিন্তা করেছিলাম, ওয়ানডে দলে সুযোগ পেলে ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো। আল্লাহর রহমতে ওয়ানডে অভিষেকটা ভালো হলো। সবচেয়ে বড় কথাÑ দল জিতেছে। এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
টেস্ট আর ওয়ানডে অভিষেকের তুলনা করবেন কিভাবে?
আসলে.. দুইটাই স্বপ্নের মতো হয়েছে। টেস্টে অভিষেক হয়েছে পাঁচ উইকেট নিয়ে। কিন্তু ম্যাচটা আমরা জিতিনি। কিন্তু ওয়ানডেতে জিতেছি। আমার কাছে মনে হয়, ওয়ানডে অনেক ভালো হয়েছে। ওয়ানডে অভিষেকটা ভালো হয়েছে। যে রকম চেয়েছিলাম, টেস্ট ও ওয়ানডে; দুই অভিষেকই তেমন হয়েছে। এখন এটা ধরে রাখতে হবে।
বোলিংয়ে আরো উন্নতির দরকার মনে করেন কি?
আসলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেক কঠিন। এখানে কিন্তু টিকে থাকতে গেলে দিন দিন উন্নতি করতে হবে। কারণ প্রতিপক্ষ আমাকে নিয়ে গবেষণা করে। সুতরাং একই জায়গায় থেমে থাকলে হবে না। যেটা বলবো যে, অনেক কষ্ট করতে হবে।
জয়ের পর উদযাপন কেমন হল?
উদযাপন খুব ভালো হয়েছে। দলের সবাই পারফর্ম করেছে। সবাই পারফর্ম করলে ফলাফল দলের পক্ষে আসে। ব্যক্তিগত পারফর্মের চেয়ে এটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা এখন আমাদের দলে হচ্ছে। টেস্টেও সবাই যার যার জায়গায় চেষ্টা করছে। ওয়ানডেতেও আমরা একই কাজ করেছি। তামিম ভাই সেঞ্চুরি করেছে। সাকিব ভাই, রুম্মান (সাব্বির) ভাই হাফ সেঞ্চুরি করেছে। শেষ দিকে মোসাদ্দেক ও রিয়াদ ভাই ভালো ফিনিশিং করেছে। এই জিনিসটাতেই ৩০০ সম্ভব হয়েছে। পরে বোলার ফিল্ডাররা ভালো করেছে। সব মিলিয়ে ফিল্ডাররাও দারুণ কাজ করেছে। এই যে আমাদের টিম কম্বিনেশন; এটাই কিন্তু আমাদের ভালো ফলাফল এনে দিচ্ছে।
সামনে কি বড় উদযাপন অপেক্ষা করছে?
এখনো তো খেলাই শেষ হয়নি। একটা ম্যাচ জিতেই যদি আমরা খুশি হয়ে যাই, তাহলে সামনে এগোতে পারবো না। সিরিজ কনফার্ম হলে আমরা উদযাপন করবো। তবে এটা ঠিক, একটা ম্যাচ জিতে আমাদের ভালো লেগেছে। মূল প্রত্যাশা অবশ্য সিরিজ জেতা।
আমরা করবো জয় গানটা হয় নাই, ড্রেসিং রুম বা হোটেলে?
অবশ্যই। কালকে তামিম ভাই ১০ হাজার রান পূরণ করলেন, সবাই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি করেছে। চোখের সামনে এটা দেখতে পেরে গর্বিত লেগেছে। সিনিয়রদের কাজ দেখে জুনিয়ররাও অনুপ্রাণিত হচ্ছি। আমরা ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো।
দ্বিতীয় ম্যাচেই কি সিরিজ জয়?
আশা তো করি – ইনশাল্লাহ। যদি কোনো ভুল না হয়, তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা জিতবো।
তামিম বলেছে, মিরাজ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছে, সেটা মনেই হয়নি। এ ব্যাপারে আপনাদের মত কি?
এটা আমি বলবো যে, আমি সিনিয়দের ধন্যবাদ দিবো। তাদেরকে সব কৃতিত্ব দিবো। তারা আমাকে খুব সাপোর্ট দিয়েছেন। একটু নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু সিনিয়ররা আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছেন। টেস্টে লম্বা সময় থাকে, অনেক কিছু ভাবা যায়, পরিকল্পনা করা যায়। ওয়ানডেতে কিন্তু সে রকম সময় থাকে না। এখানে সময় কম। এই জন্যই আমি মুশফিক ভাই, তামিম- সাকিব- রিয়াদ ভাই, এ ছাড়া মাশরাফি ভাই আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।
ফলে ডেব্যুর কথা ভুলে গিয়েছিলাম। মনেই হয়নাই আমি প্রথম খেলছি। কোনো চাপই ছিলো না। সবাই ফোন করেছে। দল জিতেছে, আমি ভালো করেছি; ফলে বাবা- মা অনেক খুশি হয়েছে। সামনে আরো বড় সাফল্য অর্জন করার চেষ্টা করবো। দেশের হয়ে বড় কিছু করার চেষ্টা করবো।

Leave a Reply