অদম্য মেধাবী; সড়কের নির্মাণজনিত ক্রুটি দূর করতে চায় সালাউদ্দিন

-মাহবুবহোসেন পিয়াল-
দিনে দুই ঘন্টার বেশি পড়তে হয়না মো. সালাউদ্দিন ওরফে ইফতির (১৬)। শুধু পরীক্ষার সময় এক ঘন্টা বাড়িয়ে তিন ঘন্টা করেছিল। মেধাবী বলেই এই অল্প পড়েই এবছর এএসএসসি পরীক্ষায় ফরিদপুর পুলিশ লাইসন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ পাঁচ পেয়েছে সে।
অবশ্য জিপিএ পাঁচ পাওয়া তার জন্য নতুন কোন ঘটনা নয়। পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় সে একই ফল করেছে। সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকার পক্ষপাতিও সে নয় ।ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের ফেলু শেখ ও রোখসানা বেগমের দম্পতির একমাত্র সন্তান সালাউদ্দিন। ওই গ্রামে মাত্র দেড় শতাংশ জমিতে এক কক্ষের একটি খুপড়ি ঘরে বসবাস করে এই পরিবারের সদস্যরা। বাবা ব্যবসা করতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। মা একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়ার কাজ করেন। এ ভাবেই চলে অভাবের এই সংসারটি।খেয়ে না খেয়ে পড়াশুনা করতে হয়েছে সালাউদ্দিনকে। এজন্য মা ও বাবা প্রতি তার কোন রাগ বা অভিমান নেই। কেননা সে জানে সংসারের প্রকৃত অবস্থা।রোখসানা বেগম বলেন, সালাউদ্দিনের জন্মের পর সংসারের অভাবের কথা ভেবে আর সন্তান নেইনি। ও মানুষের মত মানুষ হোক সে চেষ্টাই করে গেছি।
ফেলু শেখ বলেন, সালাউদ্দিন এইট পাশ করার পর একটি সংস্থা ওকে চাকুরি দিতে চেয়েছিল। আমি রাজি হইনি ছেলের পড়াশুনার কথা ভেবে।সালাউদ্দিনের ইচ্ছে একজন প্রকৌশলী হওয়ার। তার ভাষায়, আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। দেশের রাস্তাগুলির অবস্থা ভাল নয়, প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে। এর অনেক কারনের মধ্যে রাস্তার নির্মাণ ক্রুটিও দায়ি। আমি সে ক্রুটি দূর করতে চাই।ফরিদপুর পুলিশ লাইনস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাইউম বলেন, সালাউদ্দীন প্রকৃত পক্ষে একজন মেধাবী। ওর স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু এ সাধ পুরণের সাধ্য দরিদ্র এই পরিবারটির নেই। সরকরি বা বেসরকারি পর্যায়ে থেকে ওর প্রতি সাহায্যেও হাতি বাড়িয়ে দেওয়া হলে ওর স্বপ্ন পূরণ হওয়া সম্ভব।

Leave a Reply