লাইট হাউস ফরিদপুরের ‘কুষ্ঠ : কোন অভিশাপ নয়’ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত॥ ভয়েস অব ফরিদপুর

ভয়েস অব ফরিদপুর রির্পোট ॥
লাইট হাউস এ্যাকটিভ সিটিজেন্স ফরিদপুর পালন করেছে বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস ২০১৮। এ উপলক্ষে লাইট হাউস ফরিদপুর কার্যালয়ে আজ রবিবার অনুষ্ঠিত হয় ‘কুষ্ঠ : কোন অভিশাপ নয়’ বিষয়ক সভা। এ্যাকটিভ সিটিজেন্স ফরিদপুরের সমন্বয়কারি মো. পলাশ খানের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ্যাকটিভ সিটিজেন্স ফরিদপুরের সহকারী মেডিক্যাল অফিসার মো. মোহন আলী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এ্যাকটিভ সিটিজেন্স ফরিদপুরের সমন্বয়কারী আবু হাসনাত মো. কাইয়ুম, সদস্য রিপন কুমার বিশ্বাসসহ প্রমুখ। মো. মোহন আলী বলেন, কুষ্ঠ কোন পাপের ফল বা অভিশাপ বা এটি কোন বংশগত বা জন্মগত রোগ নয়। ‘মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপি’্র নামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে এটি সংক্রমিত হয় যা চিকিৎসাবিহীত সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। এটি হলে শরীরের কোন জায়গায় হালকা বাদামী বা ফ্যাকাশে দাগ দেয়া দেয় যা দেহের যে সকল স্থানে হয় সেখানে পিন্ডাকর হয়ে ফুলে যায় যা ব্যাথা, চলকানি বা জ্বালা যন্ত্রনাহীন ফলে রোগী প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারে না। এ রোগের ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির ¯œায়ুর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায় ফলে আঙ্গল বাঁকা হয়ে হওয়া, চোখ নাড়ানোর ক্ষেত্রে সমস্যা, ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, অন্ধত্ব, বন্ধ্যাত্বসহ মুখের প্যারালাইসিসের মত বিকলাঙ্গতা দেখা দেয়। এর চিকিৎসা না করালে কিডনি পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।রিপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ভয়, কুসংস্কার এবং লজ্জা এই তিন কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি এটিকে প্রকাশ করতে চায় না এবং চিকিৎসা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। সাধারণত অত্যধিক জনসংখ্যা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এ রোগটি ছড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
আবু হাসনাত মো. কাইয়ুম বলেন, কুষ্ট রোগে আক্রান্তের একটি বিশেষ অংশ শিশু। দেরিতে রোগ সনাক্ত হবার ফলে শিশুরা প্রতিবন্ধীতার শিকার হয়। যেহেতু এ রোগের কোন টিকা আবিস্কৃত হয়নি তাই রোগী এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমেই এ রোগকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা না করা, বিছানা, পরিধেয় পৃথক করা, হাঁচি-কাশির সময় অবশ্যই রুমাল ব্যবহার করা এবং চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পূর্ণমাত্রায় চিকিৎসা গ্রহণই পারে এরোগকে প্রতিহত করতে।
মো. পলাশ খান বলেন ১৮৭৩ সালে নরওয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. আরমার হ্যানসেন কুষ্ঠ রোগের জীবানু আবিস্কার করেন যা চিকিৎসকদের মতে মৃদু সংক্রামক রোগ এবং বাংলাদেশের শতকরা ৯৯% মানুষের দেহে এ রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে। কুষ্ঠ কখনই হৃদপিন্ড এবং মস্তিস্ককে আক্রান্ত করতে পাওে না ফলে হঠাৎ এ রোগে মৃত্যু হবার সম্ভবনা নেই। কিন্ত হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের মনে গেথে যাওয়া কুসংস্কার এবং অন্ধ বিশ্বাসই এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান অন্তরায়। দেশের নিলফামারী, সিলেট এবং ঢাকাতে এ রোগের হাসপাতাল থাকলেও জেলার সরকারী হাসপাতাল এবং কিছু এনজিও এর মাধ্যমে বিনা মূল্যে এ রোগের চিকিৎসা রয়েছে। জাতিসংঘের ২০১০ সালের ১৫তম অধিবেশনে বলা হয়েছে ‘প্রতিটি সরকারের উচিত কুষ্ঠরোগাক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ দূরীভূত করতে এগিয়ে আসা । সুতরাং সমাজের বিবেকবান মানুষ হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ কুষ্ঠরোগাক্রান্ত মানুষের পাশে দাড়ানো এবং তাদের নাগরিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা।

Leave a Reply