লাইট হাউস ফরিদপুরের কৃমি নাশক ট্যাবলেট বিতরণ সভা ॥ ভয়েস অব ফরিদপুর

ভয়েস অব ফরিদপুর রির্পোট ॥
‘ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, রক্ষা হবে সুস্থ্যতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে পঞ্চম বারের মত লাইট হাউস ফরিদপুর আজ সম্পাদন করল বিনা মূল্যে কৃমি নাশক ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন লাইট হাউস ফরিদপুরের ইনচার্জ মো. পলাশ খান। সভায় অতিথি হিসাবে ছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ মো. মাহফুজুর রহমান মামুন। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লাইট হাউস এ্যাকটিভ সিটিজেন্স ফরিদপুরের সহকারী মেডিক্যাল অফিসার মো. সাজ্জাদ হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (ঠউঙ) এর নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব কুমার মালো, স্বাস্থ্যকর্মী মো. আজাদ প্রামানিকসহ প্রমুখ।
মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অনেকে মনে করেণ মানব দেহে কৃমির উপস্থিতি স্বাভাবিক এবং ক্ষতিকর নয়। এ ধারণা মোটেও ঠিক নয়। কেননা কৃমি হচ্ছে মানব দেহের সবচেয়ে ক্ষতিকর এবং বৃহৎ পরজীবী যা প্রতিনিয়ত মানব দেহের রক্ত খেয়ে মানব দেহেই বেঁচে থাকে এবং বংশ বিস্তার করে। অনেকে কৃমি হলে কালমেঘ বা চিরতার পানি পান করেন । তারা মনে করেন তেতো খেলে কৃমি মারা যায়। এ ধারণাও ঠিক নয়। কেননা কালমেঘ বা চিরতার ঔষধি গুন থাকলেও তা পানে কৃমি মারা যায় এর কোন প্রমান নেই। অনেকে আরো মনে করেন যে, কৃমির ঔষধ ঠান্ডা বা বৃষ্টির দিনে খেতে হয়। এ ধারনাও কোন ভিত্তি নেই। মূলত দূষিত পানি পান, অপরিষ্কার শাকসজ্বি ও ফলমূল, নোংরা খাবার গ্রহণ, হাত ঠিকমতো না ধুয়ে খাবার খাওয়ার মাধ্যমে কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। খালি পায়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে হাটার ফলেও কৃমির লাভা পায়ের তলার ছিদ্র দিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
বিপ্লব কুমার মালো বলেন, গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (ঠউঙ) প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসং স্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে। পাশাপাশি কনসার্ন বাংলাদেশ থেকে কৃমি নাশক ট্যাবলেট পাচ্ছে যা লাইট হাউস ফরিদপুরের মাধ্যমে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামীতে কৃমি নাশক ট্যাবলেটের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকরণ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে বলে তিনি সভায় জানান।
মো. মামুন বলেন, কৃমি হবার প্রধান কারণ প্রধানত অপরিচ্ছন্নতা ও অসচেতনতা। জনপ্রতিনিধি হিসাবে প্রতিটি এলাকায় স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার, মল নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দ্বায়িত্ব। পাশাপাশি আমাদের সকলেরই স্বাস্থ্য সম্মত এবং পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করা উচিত। প্রতি চার মাস অন্তর পরিবারের সকলের বয়স ভেদে নিদিষ্ট মাত্রায় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কৃমি নাশক ঔষধ খাওয়া উচিৎ। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ উত্তম। তাই খাবার তৈরি, পরিবেশন ও খাওয়ার পূর্বে সাবান নিয়ে হাত ধোয়া, মলত্যাগের পর সাবান বা ছাই দিয়ে হাত ধোয়া, নিয়মিত গোসল করা, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, নখ বড় হতে না দেয়া, অসিদ্ধ বা অর্ধসিদ্ধ মাংস না খাওয়া এ বিষয়গুলো আমাদের মেনে চলা উচিৎ।
মো. পলাশ খান বলেন, লাইট হাউস দেশের ঝুঁকিপূর্ন বিশেষ জনগোষ্ঠির এইচআইভি এইডস প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। উক্ত কাজের পাশাপাশি লক্ষিত জনগোষ্ঠিসহ সর্বসাধারণের স্বাস্থ্যসহ অন্যন্য বিবিধ বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে লাইট হাউস ফরিদপুর নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিনা মূল্যে কৃমি নাশক ট্যাবলেট বিতরণ উক্ত কর্মকান্ডের ধারাবাহিক কার্যক্রম। ইতোমধ্যে সম্পাদিত ৪টি সভার মাধ্যমে প্রতিবার লাইট হাউস ফরিদপুর তার লক্ষিত জনগোষ্ঠি এবং তাদের পরিবারের ১০ বছরের উর্দ্ধে প্রতিটি সদস্যকে প্রতি ৬মাস অন্তর কৃমি নাশক ট্যাবলেট খাওয়ানোর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়াও জেলার লক্ষিপুর বেরিবাধ এলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণের মাঝে বিনা মূল্যে কৃমি নাশক ট্যাবলেট বিতরণ করেছে যা ঔষধ প্রাপ্তি সাপেক্ষে চলমান থাকবে মর্মে তিনি সভায় জানান।

Leave a Reply