শিশু জন্মহার বাড়ছে সিজারে

স্বাস্থ্য ডেস্ক : দেশে সিজারিয়ান সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এখন নরমাল ডেলিভারির হার ৬২ দশমিক ১ শতাংশ। সিজারিয়ান ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যান্য ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এ হার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
জন্মগতভাবে স্বল্প ওজনের শিশুর ওপর জাতীয় পর্যায়ের এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া যায়।
জরিপে বলা হয়েছে সিজারিয়ান সেকশনের শিশু জন্মহার দিন দিন বাড়ছে। যাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বাণিজ্যিক মানসিকতার কারণেই সিজারের মাধ্যমে শিশু জন্মের হার বাড়ছে।
এক্ষেত্রে তিনি মায়েদের সচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, সিজারে হয়তো মায়ের কষ্ট কম হয়, কিন্তু স্বাভাবিকভাবে একটি শিশু জন্ম দেওয়ার পরে একজন মায়ের যে আনন্দ হয় তা নিতান্তই প্রাকৃতিক, অনাবিল।
জরিপে আরও জানানো হয়, বাচ্চা প্রসবের ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশই ছেলে শিশু। আর জমজ বাচ্চা প্রসবের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু ছেলে। গর্ভবতী মায়েদের সন্তান প্রসব করার স্থানের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ, বেসরকারি হাসপাতালে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ, এনজিও হাসপাতালে ৪ দশমিক ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, হোম ডেলিভারি ৪২ দশমিক ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অন্য স্থানে ১ দশমিক ৫ শতাংশ ডেলিভারি হয়।
বুধবার প্রকাশিত এ জরিপে আরও জানানো হয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ৫৫ শতাংশ সিএসবিএস, ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ আর অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দাই ১০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আত্মীয়-প্রতিবেশীদের মাধ্য ৭ দশমিক ৯ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়।
এই জরিপ থেকে জানা যায়, নবজাতক শিশুর গড় ওজন ২ হাজার ৮৯৮ গ্রাম। এক্ষেত্রে ছেলে ও অবস্তি এলাকায় ওজন বেশি। কম ওজনের নবজাতক শিশুর হার ২২ দশমিক ২৬ গ্রাম। এরমধ্যে মেয়ে ও বস্তি এলাকার শিশুদের ওজন বেশি কম। নবজাতক শিশুর গড় দৈর্ঘ্য হার ৪৭ দশমিক ৩ গ্রাম।
এছাড়া দেশে অ্যাবরশনের হার ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, স্টিল বার্থ ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১৭০ জন।

Leave a Reply