সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ফরিদপুরে জাতীয় শোক দিবস পালিত ॥ VOICE OF FARIDPUR

ভয়েজ অব ফরিদপুর নিউজ ॥
‘২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। উন্নত দেশে পরিণত হবে ২০৪১ সালে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদের কোন জায়গা নেই।’
এই প্রত্যয় নিয়ে ১৫ আগষ্ট বুধবার ফরিদপুরে নানা আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম শাহাদৎ বার্ষিকী।
সকাল ৮টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ফরিদপুর পৌরসভার সামনে দিয়ে ব্রাহ্মসমাজ সড়ক হয়ে রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া, পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন খান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেসাম হোসেন বাবরসহ সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ।
পরে রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে আলোচনাসভা ও শিশুদের নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ছাড়া, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মোশার্রফ আলী, আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন বলেই আমি এদেশে একটি জেলার জেলা প্রশাসক হতে পেরেছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবয়নই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সঠিক কৃতজ্ঞতা জানানো।
পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সংগ্রাম আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর চেতনা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর মত সাহস নিয়ে দেশের আইন শৃংখলা রক্ষায় কাজ করছে দেশের পুলিশ সমাজ।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। উন্নত দেশে পরিণত হবে ২০৪১ সালে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদের কোন জায়গা নেই।
ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে রাথাত জামান ধ্রুব নামে এক শিশু। অনুষ্ঠানে শিশুদের মধ্য বক্তব্য দেয় রাগীম আনঞ্জুম, বেদত্রৈই গোশ্বামী।
সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শহরের থানারোডস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
পরে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জেরা কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্য দান এবং এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। পরে মিছিল করে রাজেন্দ্র কলেজ চত্ত্বরে যায় এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পরে বেলা ১০টার দিকে জেলা যুব লীগের উদ্যোগে আ.লীগ কার্যালয়ের পাশে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসএ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মেডিসিন ক্লাব এর সহযোগিতায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ ফরিদপুর শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের ফরিদপুর শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আসলাম মোল্লা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ ফরিদপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস। বক্তব্য দেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ড আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ ফরিদপুর শাখার সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম জামাল ।
বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ফরিদপুর জেলা শাখা ও অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক ফোরাম ফরিদপুরের যৌথ উদ্যোগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর মুসলিম মিশন এর শহরস্থ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি এম.এ. জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ হিতেষী সংঘ ফরিদপুর জেলা শাখার সম্পাদক অধ্যাপক এম.এ. সামাদ, অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক ফোরাম ফরিদপুরের সিনিয়র সহ Ñসভাপতি এবিএম সাত্তার, অধ্যাপক ম. হালিম, অধ্যাপক আব্দুল হামিদ মোল্লা, অধ্যাপক আব্দুল বাতেন, অধ্যাপক মিজানুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়া ফরিদপুর সরকারি ইয়াছিন কলেন, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ, মধুখালির আয়েশা-সামী কলেজেসহ বিভিন্ন কলেজে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দুপুরে বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়ার আযোজন করা হয়। একই সময় বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
সন্ধ্যায় কবি জসীম উদ্দীন হলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনাসভা ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আযোজন করা হয়।

Leave a Reply