সরকার বিরোধীদের গোপন স্থানে আটকে রাখছে : রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার বিরোধীদের গোপন স্থানে বছরের পর বছর আটকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গুম, অপহরণ, অবৈধভাবে আটক, বিচার বহির্ভূত হত্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আদিম অমানবিকতা বর্তমানে সারাদেশকে গ্রাস করে ফেলেছে। দু:শাসনের বিষাক্ত ছোবলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, মানবাধিকার কর্মী, শ্রমিক নেতা, পেশাজীবিসহ সাধারণ মানুষ ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, অদৃশ্য হয়ে গেছে অন্ধকারের অতলে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফরহাদ মজহারের অপহরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথায় দেশবাসী ব্যাথিত মন্তব্য করে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রের রক্ততৃষ্ণা মেটাতে আরেকজন শিকার হচ্ছিলেন দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার জনাব ফরহাদ মজহার। এই ঘটনায় এখন গোটা জাতি মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। এই ট্রমা শুধু ফরহাদ মজহারকেই আক্রান্ত করেনি, সারাদেশবাসীকেই করেছে। ফরহাদ মজহার অপহরণকে নিছক সন্ত্রাসীদের অপহরণ বলে চালানোর অপচেষ্টা করে সরকার ও দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যেসমস্ত অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তা বলেছে তা নাটকের যবনিকার অন্তরালে প্রকৃত ঘটনা ক্রমাগতভাবে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দেশবাসী মনে করে।বিএনপির এই নেতা বলেন, সারাদেশব্যাপী একের পর এক এধরণের গুম, অপহরণ ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনায় সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে ভোটারবিহীন সরকারের আক্রোশের শিকার কে হন কিংবা কার ভাগ্যে কখন কী ঘটে সে বিষয়ে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন জীবনযাপন করছে দেশের মানুষ।
বাংলাদেশের মানুষের বেঁচে থাকা, নিরাপদে জীবন-যাপন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হলে আন্তর্জাতিক তদন্ত ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান সরকার দেশের মানুষকে এখন বিষাক্ত কাঁটার খাঁচার মধ্যে বন্দী করে রেখেছে। বাংলাদেশে প্রতিটি জনপদে জনপদে, বাড়ীতে বাড়ীতে মৃত্যু ভয়, গুমের ভয়, অপহরণের ভয়, নিখোঁজের ভয়, বিনা বিচারে আটকের ভয় নিয়ে গভীর আশঙ্কায় মানুষ জীবন যাপন করছে। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকলকে আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, এলাকার মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। প্রধানমন্ত্রী যদিও গতকাল বলেছেন-বানভাসীদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে। বাস্তবে বানভাসী মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। কোন কোন এলাকায় খাদ্য, পানি বা চাল না দিয়ে খাওয়ার অনুপযোগী সামান্য কিছু গম দিচ্ছে, যে গম প্রচন্ড বৃষ্টিতে শুকোতে কিংবা গম ভেঙ্গে খেতেও পারছে না। এটি কি বানভাসী অসহায় মানুষদেরকে নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে ? আসলে লুটপাটের কারনে রাষ্ট্রীয় খাদ্যভান্ডারগুলো এখন যে শুণ্য সেটি প্রমানিত হচ্ছে।সরকার লবণ আমদানির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান যে অবস্থা তাতে ৭৪ এর দূর্ভিক্ষের পদধ্বণি আবারো দরজায় নাড়া দিচ্ছে।এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর মনির হোসেন, যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

Leave a Reply