সাঈদীর আমৃত্যু কারাদন্ডাদেশ বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা সাঈদীর আমৃত্যু কারাদ-ের রায় বহাল রেখেছেন আদালত। এছাড়া উভয় পক্ষের রিভিউ আবেদনও খারিজ করে আদালত। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ রায় বহাল রাখেন। এর আগে রোববার (১৪ মে) প্রথম দিন প্রায় এক ঘণ্টা শুনানি শেষে কার্যক্রম মুলতবি হয়। পরে আজ (১৫ মে) আবার শুনানি হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে জামায়াত নেতা সাঈদীর বিচার শুরু হয় ২০১১ সালে। একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, ধর্মান্তরে বাধ্য করাসহ তার বিরুদ্ধে আনা হয় ২০টি অভিযোগ। অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় ২০১৩ সালের ২৮ ফেকব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে, ২০১৪ সালে ট্রাইব্যুনালের সাজা কমিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদ- দেয় পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ। ২০১৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর সর্বোচ্চ আদালত পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করলে মামলা আসে রিভিউর পর্যায়ে। গত বছরের ১২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের রায় বহালে রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর পাঁচ দিন পর খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন সাঈদীর। আর এই দুই আবেদনেরই শুনানি শুরু হয়েছে রোববার। সাঈদীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
আপিলের রায়ে ১০, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয় সাঈদীকে। ৮ নম্বর অভিযোগে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যায় সহযোগিতার জন্য দেয়া হয় ১২ বছরের কারাদ-। ৮ ও ১০ নম্বর অভিযোগে সাঈদীর ফাঁসির রায় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। শুনানিতে, একাত্তরের মে মাসে ওয়াজের জন্য সাঈদীর পরিবারসহ অন্য শহরে অবস্থানের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান প্রধান বিচারপতি। এ পর্যায়ে, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির অনেকেই একাত্তরের পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply