স্মরন॥ সাহিত্যকর্মী লতিফ ভূঁইয়া

॥ এম.এ. সামাদ ॥
১৯৬৮ সালের ১লা আগষ্ট ইয়াছিন কলেজ শুরু হয়। মরহুম মোঃ আব্দুর রউফ খান, মরহুম আজিজুল হক খান, মরহুম মন্টু ভাই, অধ্যাপক শাহাজাহান ও আমি ঐদিনই যোগদান করি। ঠিক ১ মাস আগে ১লা জুলাই অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন জনাব এ.এইচ.এম. মহিউদ্দিন, হেড ক্লার্ক মরহুম ওবায়দুর রহমান ও পিয়ন খলিল। লতিফ ভূঁইয়া ইয়াছিন কলেজ এডহক কমিটির সদস্য ছিলেন। মাঝে মাঝে কলেজে আসতেন। তবে বেশী আসতেন রাজা ভাই। তাঁর বাসার টেবিল-চেয়ারেই আমরা বসতাম। এমনকি অধ্যক্ষ স্যার দুপুরে যে থালাটিতে খেতেন, সেটিও রাজা ভাই’র বাসা থেকে দেয়া। আর যে টেবিলটা তাঁর সামনে ছিল সেটাও রাজা ভাইর বাসার টেবিল। লতিফ ভূঁইয়ার সাথে তখনও ঘনিষ্ঠতা হয়নি।
তিনজন যুবক মিহির, শামসু এবং আতাহার উদ্যোগী হয়ে আমাকে ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সম্পাদক নির্বাচিত করলো। হাকিম ভাই পৌরসভার চেয়ারম্যন। তাঁকে ধরে লালদীঘির দক্ষিণ পাড়ে এক টুকরো জমি নিলাম। ভারতীয় ছায়াছবি প্রদর্শন করে কিছু টাকা যোগাড় হলো। সেই টাকায় সংস্থার ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হলো। পাঁচখানা চেয়ার জেলা পরিষদ থেকে নিলাম। যতদূর মনে পড়ে একখানা টেবিল লতিফ ভূঁইয়া দিয়েছিলেন, কাঠও দিয়েছিলেন বেশ কিছু। ইতিমধ্যে আজিজ ইয়াছিন কলেজে যোগদান করলো। তাঁরই কনিষ্ঠ ভগ্নিপতি হবার সুবাদে লতিফ ভূঁইয়ার ভাইজান, তাঁর স্ত্রী রোকেয়ার ভাই এবং ছেলে-মেয়েদের মামা হয়ে গেলাম। সে সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হয়েছে।
পরে আমরা যখন ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ গঠন করি, তখন প্রথম থেকেই আবদুল লতিফ ভূঁইয়া আমাদের সাথে ছিলেন। তাঁর লেখা তিনি যেমনই লিখুন না কেন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকা তাঁর নেশার মত ছিল। তাছাড়া লেখক কবি সাহিত্যিক বা সাহিত্য সংগঠনকে সাহায্য করতে পারলেই তিনি তৃপ্তিবোধ করতেন।
তিনি আমাদের সাথে থাকতেন। যতটা তিনি উদ্যোগী ছিলেন নানা কারণে তাকে ততখানি গুরুত্বপূর্ণভাবে সংযুক্ত করা সম্ভব হতো না। এতে প্রায়শই তিনি ক্ষুব্ধ হতেন। কিন্তুু শেষ পর্যন্ত ছোট বোনের স্বামী হওয়ায় মিটমাট হয়েই যেত। ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে সবার আগে তিনি এগিয়ে আসতেন। একটি আলমারীও দিয়েছিলেন। শর্ত হলো ফরিদপুরের লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের বই-পুস্তক এবং ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত পুস্তকাদি সংরক্ষণ করা। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এমন নিবেদিত পুরুষ আমরা কেউ নই।
লতিফ ভূঁইয়া আজ আমাদের মাঝে নেই। অনুষ্ঠান এলেই শূন্য শূন্য মনে হয়। কে যেন নেই, কোথায় যেন শূন্যতা। আমরা তাঁর আখেরাতের জীবনের কল্যাণ কামনা করি।

Leave a Reply