১৫ শতাংশ ভ্যাট হলেও দাম বাড়বে না জিনিসপত্রের: অর্থমন্ত্রী

 

ফোকাস বাংলা নিউজ:অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন,১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর করা হলেও জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না। কারণ অনেক পণ্যে ভ্যাট ছাড় দেওয়া হয়েছে।ব্যাংকে যাদের এক লাখ টাকা রাখার সামর্থ্য আছে তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পদশালী বলেই বাজেটে তাদের উপর বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পর দিন শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর শুক্রবার সংবাদ সন্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা একলাখ টাকা ব্যাংকে রাখতে পারেন, তারা আমাদের দেশের তুলনায় সম্পদশালী। তারা বাড়তি ভারটা বহন করতে পারবেন, সমস্যা হবে না।প্রস্তাবিত বাজেটে, বছরের যে কোনো সময় ব্যাংক হিসেবে এক লাখ টাকার বেশি লেনদেনের উপর আবগারি শুল্ক বিদ্যমান ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়েছে।নতুন বাজেটে আবগারি শুল্ক আরোপের সীমা ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ আগে বছরের যে কোনো সময় ২০ হাজার টাকা লেনদেনে শুল্ক আরোপ করা হতো, এখন ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে শুল্ক আরোপ করা হবে না।নতুন বাজেট প্রস্তাবে ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে বিদ্যমান ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক মওকুফ করা হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান জানান।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১ লাখ টাকার লেনদেনে এখন ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক আরোপ করা আছে। এখন সেটা আর দিতে হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে মুহিত বলেন, যাদের টাকা এক লাখের উপরে থাকবে কেবল তাদের উপরই একটা কর ধার্য্য করেছি। বড়লোকের ক্ষেত্রে আমাদের করটা ছিল, কিন্তু যারা মিড লেভেলে ছিল তারা এর অন্তর্ভুক্ত ছিল না।একলাখ টাকার নিচে যারা আছেন, তাদের ভার থেকে মুক্ত করাই যথেষ্ট।নতুন বাজেটে ব্যাংক একাউন্টে লেনদেন ১ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে হতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা, ১০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে হতে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ১ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে হতে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে বিদ্যমান ১৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।তবে বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতার পর ব্যাংক লেনদেনে আবগারি শুল্ক আরোপের ভিন্ন হার উল্লেখ করে এনবিআরের এক প্রজ্ঞাপন জারি করলে সংশয়ের সৃষ্টি হয়।সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটে আবগারি শুল্ক আরোপের হার চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। অর্থমন্ত্রী আরও বলে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ভ্যাট বাড়লে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য হবে না।অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন বাজেটে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেশি রেখেছি।পাইপ লাইনেও অনেক বেশি টাকা আছে। তিনি বলেন, আমরা এই টাকার সদ্ব্যবহার করতে পারি না। টোটাল টাকা ব্যবহার করতে পারছি না। এরপরেও বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ বেশি রেখেছি। কারণ, এর মধ্যদিয়েই এই টাকা ব্যবহারের সক্ষমতা আমরা অর্জন করবো।

বাজেটের আকার বড় হওয়াকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখলেও এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা এসেছে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের কাছ থেকে।আগামী বছর আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বা মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাটা রয়েই গেল, বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য।

ব্যাপক আলোচনা থাকলেও অনেক পণ্য ছাড় পাওয়ায় ভ্যাটের কারণে পণ্যের দাম বাড়বে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত।প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ টাকার বেশি থাকলে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার সমালোচনা করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।এই ব্যয় মেটাতে নতুন অর্থবছরে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছেন তিনি। এর মধ্যে কর হিসেবে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা আদায় করা হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে; আর তার ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ, অর্থাৎ ৮৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আসবে আয়কর ও মুনাফার উপর কর থেকে। সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, আমাদের মূল বক্তব্য ছিল, এবারের বাজেট যেন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে না বাড়িয়ে দেয়, কমাতে যদিও না পারে।বাংলাদেশের কৃষিখাতে, শিল্পখাতে উৎপাদন খরচ যেন না বাড়িয়ে দেয়, যদিও কমাতে না পারে। আমাদের মনে হয়েছে, এই বাজেটে এই দুটির কোনোটি রক্ষিত হয়নি।ব্যাংক খাত এবং বিমানের টিকেটের উপর আবগারি শুল্কের বিষয়ে দেবপ্রিয় বলেন, যারা করের আওতার রয়েছেন, সেখান থেকে আহরণের চিন্তা অনেক বেশি হয়েছে।যারা বেআইনিভাবে টাকা উপার্জন করল, যারা দেশের থেকে টাকা বিদেশে নিয়ে গেল, যারা এখনও করের আওতার ভেতরে নেই বা যারা অনেক কম ট্যাক্স দেয়- তাদেরকে ধরার ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ বা উদ্ভাবনী কৌশল আমরা দেখলাম না।পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ টাকার বেশি থাকলে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, এটা একদমই নীতিবহির্ভূত। আমরা আর্থিক খাতের বিস্তৃতি বাড়াতে চাচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্যের পরিপন্থি হচ্ছে।

ভ্যাটের ক্ষেত্রে টার্নওভার সীমা ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় কোটি টাকা করার সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এটা ঠিক হয়নি। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এই সীমা অনেক কম।নতুন ভ্যাট আইন বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়াবে কি না- এই প্রশ্নে জায়েদ বখত বলেন, ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ রাখা হলেও ছোট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে ভ্যাট অব্যাহতির সীমা (টার্ণওভার) ৩০ লাখ থেকে ৩৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি, ভোজ্যতেলসহ কিছু পণ্য ও সেবায় ভ্যাটভুক্ত তালিকায় আনাসহ আরও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দ্রেওয়া হয়েছে।এ সবের মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্তকে রিলিফ দেওয়া হয়েছে। ভ্যাটের কারণে বাজারে জিনিসপত্রের দাম খুব একটা বাড়বে বলে মনে হয় না।অর্থমন্ত্রীর এই বাজেট ২০০৯-১০ অর্থবছরে আওয়ামী লীগের বিগত মেয়াদের প্রথম বাজেটের তুলনায় তিন লাখ কোটি টাকার বেশি।

সেই বাজেটের আকার ছিল ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ১ লাখ কোটির নিচ থেকে বাজেটের আকার এখন ৪ লাখ কোটির টাকারও বেশি।এই সময়ের ধারাবাহিকতায় বাজেটের আকার বৃদ্ধিকে স্বাভাবিকই দেখছেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।তিনি বলেন, আমাকে অনেকে সবাই জিজ্ঞেস করছে, এত বড় বাজেট কেন? এটা কি রাজনৈতিক বাজেট কি-না?আমাদের অর্থনীতি বাড়ছে, আমাদের চাহিদা বাড়ছে। অর্থনীতি বড় হলে যে সুযোগ-সুবিধাগুলো লাগে, অর্থনৈতিক কাঠামোর চাহিদা বাড়ছে। সুতরাং বাজেট তো বড় রাখাই ভাল, আকাক্সক্ষা বড় রাখাই ভালো। এটাকে খুব উচ্চাভিলাষী কিছু আমি মনে করি না।সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।এসময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন ও ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, মূখ্যসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম ছাড়াও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
১৫ শতাংশ ভ্যাট হলেও দাম বাড়বে না জিনিসপত্রের: অর্থমন্ত্রী

ফোকাস বাংলা নিউজ:অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন,১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর করা হলেও জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না। কারণ অনেক পণ্যে ভ্যাট ছাড় দেওয়া হয়েছে।ব্যাংকে যাদের এক লাখ টাকা রাখার সামর্থ্য আছে তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পদশালী বলেই বাজেটে তাদের উপর বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পর দিন শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর শুক্রবার সংবাদ সন্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা একলাখ টাকা ব্যাংকে রাখতে পারেন, তারা আমাদের দেশের তুলনায় সম্পদশালী। তারা বাড়তি ভারটা বহন করতে পারবেন, সমস্যা হবে না।প্রস্তাবিত বাজেটে, বছরের যে কোনো সময় ব্যাংক হিসেবে এক লাখ টাকার বেশি লেনদেনের উপর আবগারি শুল্ক বিদ্যমান ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়েছে।নতুন বাজেটে আবগারি শুল্ক আরোপের সীমা ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ আগে বছরের যে কোনো সময় ২০ হাজার টাকা লেনদেনে শুল্ক আরোপ করা হতো, এখন ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে শুল্ক আরোপ করা হবে না।নতুন বাজেট প্রস্তাবে ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে বিদ্যমান ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক মওকুফ করা হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান জানান।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১ লাখ টাকার লেনদেনে এখন ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক আরোপ করা আছে। এখন সেটা আর দিতে হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে মুহিত বলেন, যাদের টাকা এক লাখের উপরে থাকবে কেবল তাদের উপরই একটা কর ধার্য্য করেছি। বড়লোকের ক্ষেত্রে আমাদের করটা ছিল, কিন্তু যারা মিড লেভেলে ছিল তারা এর অন্তর্ভুক্ত ছিল না।একলাখ টাকার নিচে যারা আছেন, তাদের ভার থেকে মুক্ত করাই যথেষ্ট।নতুন বাজেটে ব্যাংক একাউন্টে লেনদেন ১ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে হতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা, ১০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে হতে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ১ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে হতে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে বিদ্যমান ১৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।তবে বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতার পর ব্যাংক লেনদেনে আবগারি শুল্ক আরোপের ভিন্ন হার উল্লেখ করে এনবিআরের এক প্রজ্ঞাপন জারি করলে সংশয়ের সৃষ্টি হয়।সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটে আবগারি শুল্ক আরোপের হার চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। অর্থমন্ত্রী আরও বলে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ভ্যাট বাড়লে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য হবে না।অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন বাজেটে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেশি রেখেছি।পাইপ লাইনেও অনেক বেশি টাকা আছে। তিনি বলেন, আমরা এই টাকার সদ্ব্যবহার করতে পারি না। টোটাল টাকা ব্যবহার করতে পারছি না। এরপরেও বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ বেশি রেখেছি। কারণ, এর মধ্যদিয়েই এই টাকা ব্যবহারের সক্ষমতা আমরা অর্জন করবো।

বাজেটের আকার বড় হওয়াকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখলেও এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা এসেছে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের কাছ থেকে।আগামী বছর আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বা মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাটা রয়েই গেল, বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য।

ব্যাপক আলোচনা থাকলেও অনেক পণ্য ছাড় পাওয়ায় ভ্যাটের কারণে পণ্যের দাম বাড়বে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত।প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ টাকার বেশি থাকলে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার সমালোচনা করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।এই ব্যয় মেটাতে নতুন অর্থবছরে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছেন তিনি। এর মধ্যে কর হিসেবে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা আদায় করা হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে; আর তার ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ, অর্থাৎ ৮৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আসবে আয়কর ও মুনাফার উপর কর থেকে। সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, আমাদের মূল বক্তব্য ছিল, এবারের বাজেট যেন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে না বাড়িয়ে দেয়, কমাতে যদিও না পারে।বাংলাদেশের কৃষিখাতে, শিল্পখাতে উৎপাদন খরচ যেন না বাড়িয়ে দেয়, যদিও কমাতে না পারে। আমাদের মনে হয়েছে, এই বাজেটে এই দুটির কোনোটি রক্ষিত হয়নি।ব্যাংক খাত এবং বিমানের টিকেটের উপর আবগারি শুল্কের বিষয়ে দেবপ্রিয় বলেন, যারা করের আওতার রয়েছেন, সেখান থেকে আহরণের চিন্তা অনেক বেশি হয়েছে।যারা বেআইনিভাবে টাকা উপার্জন করল, যারা দেশের থেকে টাকা বিদেশে নিয়ে গেল, যারা এখনও করের আওতার ভেতরে নেই বা যারা অনেক কম ট্যাক্স দেয়- তাদেরকে ধরার ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ বা উদ্ভাবনী কৌশল আমরা দেখলাম না।পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ টাকার বেশি থাকলে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, এটা একদমই নীতিবহির্ভূত। আমরা আর্থিক খাতের বিস্তৃতি বাড়াতে চাচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্যের পরিপন্থি হচ্ছে।

ভ্যাটের ক্ষেত্রে টার্নওভার সীমা ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় কোটি টাকা করার সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এটা ঠিক হয়নি। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এই সীমা অনেক কম।নতুন ভ্যাট আইন বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়াবে কি না- এই প্রশ্নে জায়েদ বখত বলেন, ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ রাখা হলেও ছোট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে ভ্যাট অব্যাহতির সীমা (টার্ণওভার) ৩০ লাখ থেকে ৩৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি, ভোজ্যতেলসহ কিছু পণ্য ও সেবায় ভ্যাটভুক্ত তালিকায় আনাসহ আরও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দ্রেওয়া হয়েছে।এ সবের মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্তকে রিলিফ দেওয়া হয়েছে। ভ্যাটের কারণে বাজারে জিনিসপত্রের দাম খুব একটা বাড়বে বলে মনে হয় না।অর্থমন্ত্রীর এই বাজেট ২০০৯-১০ অর্থবছরে আওয়ামী লীগের বিগত মেয়াদের প্রথম বাজেটের তুলনায় তিন লাখ কোটি টাকার বেশি।

সেই বাজেটের আকার ছিল ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ১ লাখ কোটির নিচ থেকে বাজেটের আকার এখন ৪ লাখ কোটির টাকারও বেশি।এই সময়ের ধারাবাহিকতায় বাজেটের আকার বৃদ্ধিকে স্বাভাবিকই দেখছেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।তিনি বলেন, আমাকে অনেকে সবাই জিজ্ঞেস করছে, এত বড় বাজেট কেন? এটা কি রাজনৈতিক বাজেট কি-না?আমাদের অর্থনীতি বাড়ছে, আমাদের চাহিদা বাড়ছে। অর্থনীতি বড় হলে যে সুযোগ-সুবিধাগুলো লাগে, অর্থনৈতিক কাঠামোর চাহিদা বাড়ছে। সুতরাং বাজেট তো বড় রাখাই ভাল, আকাক্সক্ষা বড় রাখাই ভালো। এটাকে খুব উচ্চাভিলাষী কিছু আমি মনে করি না।সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।এসময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন ও ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, মূখ্যসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম ছাড়াও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply