চরভদ্রাসনে পদ্মার ভাঙনের কবলে স্কুল, বসতভিটে ও ফসলী জমি

লিয়াকত আলী লাবলু,ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ,চরভদ্রাসন ॥ ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সবুল্ল্যা শিকদার ডাঙ্গী গ্রামের পদ্মা পার এলাায় গত দু’দিনের তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়েছে দু’টি বসতভিটে সহ অন্ততঃ ১০ একর ফসলী জমি। একই সাথে ভাঙনের কবলে পড়ে হুমকীর মুখে রয়েছে সবুল্ল্যা শিকদার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তীব্র ভাঙনে ওই এলাকার উঠতি ধান, তিল, ও পাট ফসলী জমি বিলীন হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছেন।
শনিবার সরেজমিনে ভাঙন কবলিত পদ্মা পারে গিয়ে জানা যায়, ভাঙন কবলিত পদ্মা পার এলাকায় শতাধিক পরিবারের বসবাস। এরমধ্যে প্রায় অর্ধশত পরিবার পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে বসবাস করছেন। বসবাসরত ভাঙন কবলিত পরিবারগুলো সবাই চরম হতাশাগ্রস্থ। উক্ত গ্রামের বসতভিটে হারিয়ে আয়নাল শেখের ছেলে লিটন শেখ (৪০) জানায়, “ গত রাতে বাড়ীর আশপাশে তীব্র ভাঙন শুরু হলে লোকজন ডেকে নিয়ে দ্রুত বসত ঘর ভেঙে রাস্তায় রেখেছি। এখন পৃথিবীতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করার মত এক টুকরো জমিও আমার নেই”। একই সময় উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, “ গত বছর অত্র এলাকায় পদ্মার ভাঙন দেখা দিলে স্কুলটি রক্ষার জন্য ভাঙন প্রতিরোধে কিছু জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছিল। গত দু’দিনের তীব্র ভাঙনে সেই জিওব্যাগগুলো নিমিষেই বিলীন হয়ে যাওয়ার পর স্কুলটিও হুমকীর মুখে রয়েছে”।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, “ উক্ত গ্রামে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর আমি পরিদর্শন করেছি এবং এমপি মহোদয় সহ সংশ্লিষ্ট পাউবোকে অবগত করেছি”। উপজেলায় দায়িত্বরত ফরিদপুর পাউবো’র উপ-প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন জানান, “ ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করার জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাবনা তৈরী করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে”। একই সময় ফরিদপুর পাউবো’র বিভাগীয় প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, “ যেহেতু প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে তাই অবিলম্বে উক্ত এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হবে বলে আশা করছি”।

Leave a Reply