এবার খাদ্য সামগ্রী নিয়ে প্রতিবেশীদের পাশে শিক্ষক নুরুল ইসলাম

মাহবুব পিয়াল,ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ॥ ফরিদপুরে প্রতিমাসে একটি ভালো কাজ করার সেই স্কুল শিক্ষক ফরিদপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম এবার করোনা মোকাবেলায় তার দুঃস্থ ও দরিদ্র প্রতিবেশীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছেন। বুধবার রাতে তিনি তার ফরিদপুর শহরের দক্ষিন টেপাখোলা লালের মোড় এলাকার দিনমুজুর,রিক্সা চালক, চা বিক্রেতা,নরসুন্দর ও খেটে খাওয়া প্রতিবেশীদের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন। এ কাজে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন তার সহ-ধমির্নী যিনি মানুষের বিপদকালীন সময় শিক্ষককে পাশে থেকে কাজ করার অনুপ্রেরনা যোগান মিসেস শামিমা নাসরিন। এর আগে বিকালে খাদ্য সামগ্রী বিতরনের সুচনা করেন শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলামের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুর রহমান। তিনি তার দুঃস্থ ও দরিদ্র প্রতিবেশী ২৫টি পরিবারের মাঝে প্রত্যেকে ৫ কেজি চাউল, হাফ কেজি ডাউল, হাফ কেজি লবন ও ১টি সাবান বিতরন করেন। এ বিষয়ে শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন,আমার দেশের প্রতি ও সামাজিক দায়িত্ব বোধের জায়গা থেকে আমি প্রতিমাসে একটি করে ভালো কাজ করে আসছি।এখন দেশে দুযোর্গকালীন সংকট চলছে এই সময় আমার প্রতিবেশীদের পাশে দাড়ানো আমার দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, করোনা মোকাবেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া প্রতিবেশীদের দিকে সার্মথ্যবানদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে তবেই প্রতিবেশীরা ভালো থাকবে।তিনি জানান,এই আপদ কালীন সময় আমি একজন শিক্ষক হিসেবে প্রতিবেশীদের সাথে আছি। আপনিও অসুবিধায় থাকা প্রতিবেশীদের সাথে থাকুন।
শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম প্রতি মাসে একটি ভালো কাজ করায় ইতিমধ্যেই ফরিদপুরের সব মহলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। এইসব ভালো কাজের অংশ হিসেবে গত মার্চ মাসে তিনি ফরিদপুরের পদ্মাপাড়ে মানুষকে সচেতন করতে “দয়া করে নদীতে কেউ প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলবেন না,নদী না বাচঁলে আমরা বাচবো নাঁ,নদী বাঁচলে আমরা বাঁচবো” এই শ্লোগান সম্বলিত দুটি স্থায়ী বিল বোর্ড স্থাপন করেছেন। এর আগেও তিনি রিক্সা চালকদের মধ্যে সকালের নান্তা বিতরণ করেছেন, রিক্সা চালক ও ভিক্ষুক মিলে অর্ধশত ব্যাক্তিকে দুপুরে চাইনিজ খাইয়েছেন , দুঃস্থ্যদের মাঝে সেমাই, চিনি ও গুড়া দুধ বিতরণ করেছেন, ছাত্র/ছাত্রীদের সহযোগিতা করা, বৃদ্ধার পরিবারের ঈদের যাবতীয় খরচ বহন করেছেন, শহরে রোপন করেছেন ২০টি কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়ার চাড়া এছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় রোপন করেছেন ১ হাজার ১শতটি তালের বীজ।
তিনি বলেন, যতদিন বেচেঁ আছি প্রতিমাসে একটি করে ভালো কাজ করে যাবেন। তা হতে পারে বৃক্ষ রোপন, দরিদ্র্র কোন শিক্ষার্থীদের ভতির ব্যবস্থা করা, বইকেনা, দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, অসহায় দুঃস্থ্য নারীর পাশে দাঁড়ানো। সর্বপরি মানুষের বিপদ আপদে তাদের পাশে দাড়াতে পারলেই আমার সার্থকতা।

Leave a Reply