কবি রীনা পারভীন-এর কবিতার বই “ঝরনা চলার শেষটা কোথায়”

আবু সুফিয়ান খান,# কবি. সমালোচক. বীর মুক্তিযোদ্ধা।

কুমার নদের বাঁক বদলানো সরসিত ভূমির উর্বর ফসলী প্রান্তরবাসী ভাটির দেশের দক্ষিণা মেয়ে লেখক বিচিত্র বিষয় ও ভাব সম্বলিত স্পর্শকাতর ধীমাত্রিক গদ্য কবিতা বিনির্মাণের একনিষ্ঠ কবি রীনা পারভীন, একজন স্কুল শিক্ষিকা, কবিতা রচনায় তিনি আধুনিক গদ্য রীতি-শৈলী নির্মাণ্য ধারায় সাধনা করে আসছেন, তার লেখা কবিতাগুলো চাল ভিত্তিক রীতি-শৈলী ছন্দ পর্ব মাত্রা বিন্যাসে সুপরিপক্ক মেধায় রচিত হয়েছে।
মহান ভাষামাস ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে প্রকাশিত “ঝরনা চলার শেষটা কোথায় “বইটির কবিতাগুলো পড়লেই পাঠক শব্দ চয়নের অর্থবহ কলা কৌশল সম্পর্কে এবং মাধুর্যমণ্ডিত কাব্যিক কারুকাজ নিরূপনে অবগত ও পরিচিত হবেন।

সমাজের বৈচিত্র্যময় বিষয় ও প্রকৃতির বস্তুবিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক ঘটনাবলী প্রণয়ণে স্বাপ্নিক করে কবি তার গ্রন্থের প্রথম “ঝরনা চলার শেষটা কোথায় “কবিতায় বলেছেন :—
# “পাহাড় তোমার বুক চিরে আমার চলা আমি ঝরনা জলের ঝলকানি তোমাকে করুণা করার সাধ্য আমার নাই যে জানা।
// // // // // //
তুমিময় পৃথিবী আমার গদ্যে পদ্যে সোনা ঝরায় কেউ জানে না, শুধুই আমি জানি ঝরনা চলার শেষটা কোথায়।
-এই কবিতায় কবি প্রকৃতির প্রতি আত্মোপলব্ধি ও ঝরনা চলার শেষটা কোথায় সমন্বয়ে নিজকে সুন্দরভাবে প্রেমময় করে তুলে ধরেছেন যা তিনি নিজেই জানেন, অন্য কেউ জানে না। এখানে কবিকে আত্মজন্ম সচেতন অহমবোধী বলে প্রতিয়মান করেছেন।

# “এ আমার মৃত্তিকা আমার সরোবর তুমি এখান থেকে তোমার কালো থাবা সরাও
// // // // // //
“একাত্তরের ঘাতক রাজাকার দালাল তুমি আমার বটের ছায়ায় শীতল বাতাস নিতে পার না।”
(কবিতার নাম : সরোবর)
এখানে কবি দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে দ্ব্যার্থহীনভাবে বলেছেন স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির বাংলার আকাশ বাতাস অন্তরীক্ষে কোনো অধিকার নাই। মাতৃভূমির বিরহ যন্ত্রণায় বিদগ্ধতার চিত্র রূপায়ন করে গদ্য রীতি কাব্যে পরিপাটি ভাষায় সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন।

# ” বলছি শেখ রেহানা, আপা দিনের বেলা খেতেন আর দুবেলা না খেয়ে থাকতেন নাম পাল্টিয়ে থাকতে হয়েছে কখনো মিসেস তালুকদার কখনো মিসেস রহমান
// // // // // //
“বাংলার মাটি ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হলাম- ও আমার বাংলা মা আমার বাবার খুনিদের খুঁজে বের করবো এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলছি, বাংলার মাটিতে খুনিদের শাস্তি হবেই।“
(কবিতার নাম : বাংলার মাটিতে খুনিদের শাস্তি হবেই)
এখানে কবি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা উভয়ের উক্তি সম্পন্ন পিতা-মাতাহীন প্রবাস জীবনের দুর্দিনে দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থার আত্মকথন হৃদয়ে ধারণ ও উপলব্ধি করে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সন্তানের প্রকৃত জীবন যাপনের চিত্র ও মনোবাঞ্ছনা সুনির্দিৃষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সাবলীল শব্দায়নে এবং কবিতাটি গদ্যে রীতিতে নির্মাণ করে ব্যাঞ্জনাময় সৃষ্টির দক্ষতা দেখিয়েছেন।

# “এত নোংরা জলে লালপদ্ম বিবর্ণ হয়ে বিস্মৃতির অতল তলে হারিয়ে ফেলে নিজেকে,
// // // // // //
রূপোর থালায় চাঁদনী- পদ্মজল ঝিকিমিকিয়ে বলে লালপদ্ম, তুমি এ পৃথিবীকে- দিতে এসেছো লাল পাঁপড়ি ছড়িয়ে-
পূজার থালা বা মুনদি ধুবে- তোমায় গঙ্গাজলে ভসিয়ে। (কবিতার নাম : অতল স্পর্শ) কবি কাব্য রচনা শৈলী নির্মাণে কোনরূপ কার্পন্য করেন নাই, ঋদ্ধহস্তে উপমা, রূপক কাব্য উপাদান ব্যবহার করেছেন, শব্দ প্রয়োগও করেছেন যথাযথ নিজস্বভাবে। তবে বাক্যের অনুগামীতায় কিছুটা অসংগতি পরিলক্ষিত হয় এবং কাব্যরীতি অনুযায়ী অপ্রয়োজনীয় বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেছেন, যা বর্তমানে গদ্য কবিতায় মানায় না।

# “ওরে ও বিহঙ্গ, কেন এত ডাকাডাকি শীতের সকাল শিশির ডগায় মুক্তো কারুকাজ ভবিষ্যৎ বাংলার কোমলমতি পরীক্ষার্থীদের চোখে মুখে দীপ্ত জাগরণ, লেখে মুক্তিফৌজ অপারেশন সার্চলাইট।
// // // // // //
অন্য কোন সরকারের আমলে হয়নি এমন মহৎ কাজ, নতুন শ্রেণিতে, নতুন বই উপহার, দেয় যে সরকার সুদূর প্রসারি চিন্তা থাকে, সে সংবিধান ধারা বর্ণনায়৤ এসো সবে মিলে দেশ গড়ি, দিই নৌকা মার্কায় ভোট।“
(কবিতার নাম : দীপ্ত জাগরণ) গদ্য কবিতার ধারাবাহিকতা ঠিক থাকলেও পর্ব বিন্যাসে যতি, ছেদ, চাল আরো মাত্রাবৃত্তিক হওয়া শুদ্ধ। কবি, তার লেখায় কোনো অনুকরণ প্রিয়তা দেখান নাই এবং বইয়ের সমস্ত কবিতার বিষয়, চিত্রকল্প ও ভাব নিরেট মৌলিক বলে প্রতিয়মান হয় এবং শব্দ চয়নেও চৌকষ কৌশলীর ছাপ রেখেছেন।তবে “দেই নৌকা মার্কায় ভোট।“ এমনভাবে সরাসরি আপন ইচ্ছাকে প্রকাশ করে উৎসাহীত করাকে কবির উদারতা ও আত্মপক্ষ সমর্থনকে প্রলম্বিত করা হয়েছে।

# সত্য-ন্যায়ের পথে চলো হে মানব জয় হবে তোমারই তা কি জানো।
// // // // // //
কাঁটার আঘাত সয়ে, তবেই গোলাপ হাতে পাবে, ঢেউয়ের প্রহারে পাড় ভাঙার আঘাত সইতে পারলে, পাহাড় চূড়ায় সুবাসিত ফুল হয়ে- সুঘ্রাণ ছড়াবে মনুষ্যত্বলোকে।“ (কবিতার নাম : অধিকম্প) কবি তার সুন্দর উপমার ভেতর দিয়ে মানুষকে মানবতার পথে আহ্ববান করেছেন, বন্ধুর পথ অতিক্রম করেই ভালোবাসার সুঘ্রাণ পেতে হয়, কবি প্রাণবন্তভাবে গোলাপের রূপায়ন করে নান্দনিকভাবে প্রকাশ করতে পেরেছেন৤

# হলুদ সর্ষে পিঁয়াজের ক্ষেত পিছে রেখে সারি-সারি-গ্রাম মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে এ যে আমার চিরচেনা বাংলা মা- পদ্মা চরে কৃষক ধান ক্ষেতে এক মনে কাজ করে,
// // // // // //
অপরূপা নৈসর্গিক বাংলা মা- আমি মুগ্ধ নয়নে দেখি তোমায়- নিজেকে ভুলিয়া। (কবিতার নাম : অপরূপা) বই সমাপ্তির কবিতায় কবি মাতৃভূমিকে আপন সত্বায় প্রকৃতিকে ধারণ করে সুন্দরভাবে চিত্রায়ন করতে দক্ষতা দেখিয়েছেন৤

চমৎকার উপমা, অনুপ্রাস, উৎপ্রেক্ষা, রূপ-রূপক, ব্যঞ্জনাময় শব্দের বিন্যাস, কাব্যিক ছন্দ-পর্ব-রীতি-শৈলী ও সরল ঝংকারে সাবলীল বাক্য নির্মাণ, যাথোপযুক্ত উদাহরণসহ বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও উপাত্ত সম্বলিত এবং সর্বজন বিদিত অনেক কথার অবতারণামূলক দেশাত্ববোধ ও দেশপ্রেম অন্তরালে প্রেম রসময় সহজপাঠ্য, প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা ৫৫ টি কবিতা এই বইতে স্থান পেয়েছে।
সব থেকে দীর্ঘ কবিতা “বাংলার মাটিতে খুনিদের শাস্তি হবেই ” ৫৭ লাইনের এবং সব চেয়ে ছোট কবিতা “বৃথা চেষ্টা” ০৯ লাইনের : পুরো কবিতাটি সনামধন্য পাঠকগণের গোচরে আনলাম:-
# কাঠবিড়ালি আর শালিক খেলে আনমনে,
পরীক্ষার্থীদের কলম চলে দ্রুতবেগে।
কর্তব্যরত দুজন শিক্ষকের-
চোখ চলে বিদ্যুৎগতিতে।
নিন্দুক করে বৃথা চেষ্টা,
দুচাপায়রক্ত তোলে গলাবাজিতে।
বৃথাই ফরফরানী জাতির বোঝা-
ধান রেখে আগাছা উতপাটন হলে-
পরবর্তী বসুন্ধরা হতো সুজলা সুফলা।

বইয়ের নামকৃত “ঝরনা চলার শেষটা কোথায়” পাঁচ পর্বের বিশ লাইনের কবিতাটি সূচিপত্রের ১ম স্থানে সন্নিবেশিত হইয়েছে।

লেখকের মেধা ও মনন সুপরিচ্ছন্নভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে।সবগুলো কবিতাই গদ্য রীতি-শৈলীতে কবি নির্মাণ করেছেন, অন্তমিলের কোন কবিতা এই পুস্তকে সন্নিবেশিত হয় নাই, কবিতাগুলো সহজ পাঠ্য ও বোধে গ্রাহ্য । সর্বাবস্থায় পাঠযোগ্য,পড়ার জন্য আলাদা সময় করে নেয়ার প্রয়োজন নাই।

গদ্য রীতির কবিতা হলেও পড়তে যেয়ে হোঁচট খাওয়ার মত নয়। তবে পুরোপুরি আধুনি নির্মাণ শৈলী কবিতার গায়ে বসাতে কবি চেষ্টা করেছেন বলে প্রতিয়মান হয় না এবং উত্তর আধুনিক করতে ব্যর্থ হয়েছেন, কারণ : ভরা নদীর অন্তঃসরণ উত্তর আধুনিক কবিতায় অনন্তগামী ইন্দ্রীয় গ্রাহ্য ভাব ও পরাবাস্তব বিষয় শব্দের গাঁথুনিতে থাকতে হয়, আমার কাছে তাও প্রতিপন্ন হয় নাই, এবং রীতি-শৈলীতে অব্যয় পদের ব্যবহার হয় না, যেমন ; এবং, যেহেতু, হেথায়,যদি, তবে,তাও, নতুবা, অথবা, মতো, জন্য, যেমন, তেমন, বরং ইত্যাদি।কিন্তু কবি তার কবিতায় নির্দ্বিধায় এগুলো প্রয়োগ করেছেন। কবি তার প্রচ্ছন্ন বীর্যবান যৌবনের স্ফূরণ কবিতার সরল রেখায় সমস্ত কবিতাকে এক কক্ষে না রেখে বিভিন্ন ভাব-ভাবনা, ছন্দ প্রকরণে ছড়িয়ে বিধৃত করেছেন। তবে কিছু শব্দ যেমন (অমায়, তোমায়, মোর, শুধাই, ওগো, ওহে, রে, যেন,তেন, মতো, যে, যা ) প্রভৃতি পুরনো শব্দ, যা এখন কবিতায় ব্যবহার অবাঞ্ছনীয়। বর্তমানে কবিকে শব্দ আধুনিক করে প্রয়োগ করার জন্য সজাগ থাকতে হয়।

অন্যদিকে একই শব্দ বারবার যেমন : পৃথিবী,একুশ,মার্চ,ঝর্ণা ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন, শব্দের প্রতিশব্দ বা অনুশব্দ ব্যবহার করে শব্দ প্রয়োগে বৈচিত্র আনতে পারতেন। কবি রবীন্দ্র-নজরুল প্রভাব মুক্ত থেকে কবিতা রচনা করতে পারেন নাই যেমন “পিউ কাহা”-নজরুল, “ওরে ও বিহঙ্গ”-রাবীন্দ্রনাথ এ ছাড়াও কবি জসীমউদ্দীন, লালন শাহ্, কবি সিকান্দার আবু জাফর অনেকের কথা ও বাক্যাংশ তার কবিতায় ব্যবহার লক্ষণীয়।

গ্রন্থটি পাঠান্তে কবিতা কেমন হয়েছে, তাও পাঠক সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন। কবি লিখতে যেয়ে ইংরেজি শব্দের প্রভাব এড়াতে পেরেছেন। এটা তার বাংলা ভাষার প্রতি অগাত আনুগত্যতা বিনম্র শ্রদ্ধা প্রকাশই বোঝায়। এখানে কবি তার শব্দ প্রয়োগের বাড়তি দক্ষতা দেখিয়েছেন।

কবি যেভাবেই শব্দ সংগ্রহ, বাক্য নির্মাণ এবং অনুসঙ্গ ব্যবহার করে থাকেন না কেনো কবিতা লেখায় হাত চালিয়ে যাচ্ছেন সে জন্য তিনি ভূয়ষী প্রসংশার দাবিরাখেন। তার লেখনী থামবে না, এক সময় তার নিজস্ব গোণ্ডি তৈরি হবে এবং তিনি স্বাতন্ত্রিক কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করবেন, এই আশাবাদ আমি দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করছি। তার লেখা প্রাঞ্জলভাবে চিরঞ্জীব হোক। তিনি কবি।

বইটি সকল মানুষের পাঠযোগ্য ও সংগ্রহে সংরক্ষণযোগ্য।

বানান বিভ্রান্তি এবং মুদ্রণ প্রমাদ পরিলক্ষিত হয়েছে তবে ছাপাত্রুটি নাই। কবি গ্রন্থ শেষে ভুল বানানগুলোর একটি শুদ্ধ রূপের নির্ঘন্ট রাখতে পারতেন। কারণ ভুল বানান ভুল তথ্য উপপাদ্য পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা সমুচিন নয়।এতে পাঠক পড়তে বিব্রত বোধ করেন৤ বই নির্মাণের সময় মনে রাখতে হবে লেখক, কবি জাতির বিবেক, জাতির শিক্ষক। পাঠককে ভুল শেখানো যাবে না। স্বাধীন দেশের শুধু ভূ-খণ্ড স্বধীন হলে আর অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেই দেশ উন্নত হয় না, দেশ উন্নত হয় তার উর্বর সাহিত্যে। আর সেই সাহিত্যের স্রষ্টা সনামধন্য লেখক, কবিগণ। তাই শুদ্ধ সুন্দর পরিশীলিত লেখা আবশ্যক। একমাত্র কবি সাহিত্যিকগণই পারে জাতিকে কলুষমুক্ত করতে।
বইটি উৎসর্গ করেছেন ; কবির গর্ভধারিণী মাকে।

৪ ফর্মার বই, সুন্দর আকর্ষণীয় গাঢ় নীল,মেরুন,ব্রাউন রঙের প্রচ্ছায়াচিত্রায়িত বিমূর্ত(Abstract) প্রচ্ছদ ও মজবুত বাঁধাই, প্রথম ফোল্ডারের ছাপা প্রচ্ছদপত্রের ছবির সাথে কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর প্রসঙ্গ কথন ও এবং শেষের ফোল্ডারে কবির আবক্ষ ছবি সহ আত্মকথন ও পুরস্কার প্রাপ্ত খ্যাতিসমূহের খতিয়ান ।

৮০ গ্রাম কাগজ, ১/৮ সাইজ। মূল্য টাকা ১৫০.০০ মাত্র।
প্রকাশক: মাহাবুবা লাকি, প্রকাশ: চিরদিন,৩৪০ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেট(দোতলা)কাঁটাবন ঢাকা-১০০০
প্রকাশকাল : মহান ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি- ২০২০
প্রচ্ছদ :মোস্তফিজ কারিগর।
স্বত্ব : লেখক।

কবির কাব্যচর্চা অব্যাহত থাকুক।
বইটির বহুল প্রচার ও সফল বিক্রয় কামনা করি।

Leave a Reply