ফরিদপুরকে সুরক্ষিত রাখতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ডিসি অতুল সরকার

মাহবুব পিয়াল, ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনসচেতনতা, কর্মহীন, অসহায় এবং সব শ্রেণী পেশার মানুষকে নিজ ঘরে নিরাপদে রাখতে কঠোর ভূমিকা নিয়ে দিন–রাত কাজ করে যাচ্ছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। করোনা মোকাবেলায় কার্যক্রমের বর্ণনা দিতে গিয়ে ডিসি অতুল সরকার বলেন, গ্রহন করা হয়েছে ওয়ার্ড ভিত্তিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম (ত্রান বিতরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচি), নিরাপত্তা তথা সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। এছাড়াও সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতায় প্রদত্ত সকল ভাতা যথাযথভাবে উপকারভোগীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অধীনে ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় ১০ টাকা কেজি মূল্যে খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণ, উপকারভোগীদের মাঝে ভিজিডি বিতরণসহ নানামুখী কার্যক্রম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শহর আওয়ামী লীগ সহযোগিতায় ফরিদপুর পৌরসভায় ১৫ সহস্রাধিক মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে এবং যুবলীগের মাধ্যমে মানুষের দোরগোডায় অত্যাবশ্যকীয় নিত্য প্রয়েজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার জন্য শহরের ২৭ টি ওয়াার্ডে ট্রাক এর মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রদত্ত মানবিক সহায়তাও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমে দুস্থ এবং হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জেলা সদরে এবং প্রত্যেকটি উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে নিরন্তর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বাজার ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় জনসমাগম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সরকার ঘোষিত সন্ধ্যা ৬ টার পরে কোন লোক যেন বাইরে না থাকতে পারে সে বিষয়ে সর্বাতœক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সন্দেহভাজন করোনা ভাইরাসসহ যে কোন রোগের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হেেছ এবং এবং চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তিন স্তরবিশিষ্ট চিকিৎসাব্যবস্থার গড়ে তোলা হয়েছে। যদি কোন ব্যক্তি উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় তা জানানোর জন্য হটলাইন খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক কর্মহীন লোকদের সহায়তার বিষয়ে বলেন, জেলা সদরসহ জেলার মোট ৯ টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩০ হাজার ৬৯৮ টি পরিবারের মধ্যে সরকারি ভাবে প্রায় ৩০০ মে.টন চাল ও নগদ ২০ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এখনো ৩ শত ৫৯ মে.টন চাল ও ১২ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকা মজুদ রয়েছে। ত্রান কার্যক্রমের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, ইউনিয়ন ও পৌরসভার অতিদরিদ্র ও দুঃস্থ ব্যক্তিদের মাঝে ওয়ার্ড ভিত্তিক তালিকা করে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কেউ এই তালিকার বাইরে থাকলে বা অতি প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা না পেয়ে থাকলে সরাসরি হটলাইন ০১৭০১৬৭০০০৮ নম্বরে যোগাযোগ করলে জেলা প্রশাসন ফরিদপুরের টিম পৌঁছে যাচ্ছে ত্রান সহায়তা নিয়ে। হট লাইনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত নিম্নমধ্যবিত্ত মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্র সহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দেড় হাজার মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা পৌছে দেয়া হয়েছে এবং এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই কার্যক্রম সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এর বাইরেও প্রতিবন্ধী, হিজড়া, জেলে, বেদে, কুমার, ও বাউলসহ বিশেষ শ্রেণী–পেশার নানা মানুষের মাঝে আলাদাভাবে মানবিক সহায়তা পৌছে দেয়া হচ্ছে। করোনা সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানান, গত ২৪ ঘন্টায় বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের মাঝে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১৮০০জন এবং ১৫৯৭ জন কোয়ারেন্টাইনের সময়সীমা শেষ করেছেন। ০৫ জন আইসোলেশনে রয়েছেন। এ পর্যন্ত ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে ৪৬ জনের। এর মধ্যে ৩৬ জনের নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। আশাকরি বাকিগুলো নেগেটিভ হবে। জেলাতে উপজেলা হেলথ কমপেক্স সহ বিভিন্ন স্তরে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৪০ সেট পিপিই এবং ৯ হাজার ৭৩৩ টি মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ৬৪০ সেট পিপিই ও ৬ হাজার ১৭ টি মাস্ক। জেলা প্রশাসক অতুল সরকার কোভিড– ১৯ চিকিৎসায় জেলার প্রস্তুতী সম্পর্কে বলেন, কোভিড–১৯ চিকিৎসায় প্রাথমিকভাবে ১০০ টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও ৮৭ জন ডাক্তার ও ৯৭ জন নার্স প্রস্তুত রয়েছেন। কোভিড–১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির জরুরী চিকিৎসায় স্থানান্তরের জন্য ,০৩টি এ্যাম্বুলেন্সে পৃথকভাবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে । সার্বিকভাবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সম্ভাব্য যে যে প্রস্তুতী গ্রহণ করা সম্ভব তার প্রায় সকল প্রস্তুতী নিয়ে রাখা হয়েছে। একটি বিশেষ সংবাদ হচ্ছে এই যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজেই সম্ভাব্য করোণা রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং কারোর সুচিকিৎসার প্রয়োজন হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালূ রক্ষিত ১৬ টি আইসিইউ এর মাধ্যমে সেবা প্রদান করাও সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ হয়েছে, আগামী দু–একদিনের মধ্যেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ পরিপূর্ণভাবে সেবার জন্য প্রস্তুতী হয়ে যাবে।এখন পর্যন্ত ফরিদপুরে সার্বিক পরিবেশ ভালো রয়েছে।

Leave a Reply