ফরিদপুরের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে লাইট হাউসের আলোচনা সভা ভয়েস অব ফরিদপুর ॥

মো. বাকী বিল্লাহ খান পলাশ.. ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥ তামাক এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট রোগ, রোগের ফলে আর্থিক এবং সামাজিক ক্ষতি এবং সে সম্পর্কে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা ও সচেতন করতে প্রতি বছর ৩১ মে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। তারই ধারাবাহিকতায় ‘তামাক করে হৃদপিন্ড ক্ষয়, স্বাস্থ্যকে ভালোবাসি, তামাককে নয়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে আজ লাইট হাউস এ্যাকটিভ সিটিজেন্স ফরিদপুর পালন করেছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০১৮। এ উপলক্ষে জেলা সিভিল সার্জন অফিস কর্তৃক আয়োজিত কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে লাইট হাউস। পরে লাইট হাউস ফরিদপুর কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। লাইট হাউস এ্যাকটিভ সিটিজেন্স ফরিদপুরের জেলা আহবায়ক মো. পলাশ খানের সভাপতিত্বে সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্বাস্থ্য কর্মী মো. আজাদ প্রামানিক, কাজল কুমার মন্ডলসহ প্রমুখ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লাইট হাউস ফরিদপুরের মেডিক্যাল এ্যাসিসটেন্ট মো. মোহন আলী। মো. মোহন আলী বলেন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে তামাক থেকে সৃষ্ট একটি জ্বলন্ত সিগারেটে প্রায় ১২ হাজার বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে যার কোনটাই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। সিগারেটে রয়েছে নিকোটিন যা আমাদের শরীরের রক্তনালীকে সংকুচিত করে ফেলে। ধূমপানের কারণে যক্ষ্মা, দন্তক্ষয়, ক্ষুধামন্দ্যা, পেপটিক আলসার, গ্যাস্ট্রিক, ফুসফুসের ক্যান্সার, গলাব্যাথা, হাই ব্লাড প্রেশার, হৃদরোগ প্রভৃতি মারাতœক রোগ দেখা দেয়। যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০টি সিগারেট পান করেন তার হৃদরোগে আকষ্কিক মৃত্যুর আশংকা একজন অধূমপায়ীর থেকে তিনগুন বেশি। ধূমপানের ফলে পুরুষের শুক্রনুর সংখ্যা কমতে থাকে। এবং মহিলাদের গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্থ্য হয় এবং ওজন কম হয়। তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণের ফলে মহিলাদের জরায়ুর সংকোচন ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান মাতৃগর্ভ থেকে বের হয়ে আসতে পারে। এমনকি সন্তান বিকলাঙ্গ পর্যন্তও হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব সুইডিশ স্কুল অব মেডিকেলের একজন অধ্যাপক বলেছেন, ধূমপায়ী মহিলার সদ্যোজাত শিশু ক্যান্সারের জীবানু নিয়েও পৃথিবীতে আসতে পারে। মো. পলাশ খান বলেন, একটি সিগারেট শুধু নিজেই জ্বলে না অন্যকেও জ্বালায়। অনেকে ধূমপান করেন না তারা জর্দ্দা বা তামাক চিবিয়ে খান বা হুক্কা খান যা ধূমপানের চেয়েও ক্ষতিকর। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বর্তমানে দেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মারা যাচ্ছে প্রায় এক লাখ মানুষ। তামাক খাত থেকে সরকার যে রাজস্ব আয় করছে তার থেকে তামাক সেবনের ফলে জনগণ যে সকল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তার চিকিৎসা ব্যয় বাবদ সরকারের ব্যায় অনেক বেশী। যা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাতœক ক্ষতি। ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ১৯৮৭ সাল থেকে পালিত হযে আসা বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের তাৎপর্য খুবই প্রাসঙ্গিক। কেননা সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়েই ২০১৩ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনটি সংশোধন করেছে এবং ২০১৫ সালে তা বিধিমালা আকারে প্রকাশ করেছে। যার আলোকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে আছে যে পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা যাবে না । পাবলিক প্লেস বলতে বুঝায় বিশ্ব বিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালত, রেলওয়ে, স্টিমার ও বাস স্টেশনসহ সকল শপিংমল, পার্ক ও রেস্টুরেন্ট। যেখানে ধূমপান করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ ধূমপায়ীকে ৩০০ টাকা জরিমানা এবং দ্বিতীয়বার করলে দ্বিগুন অর্থে দন্ডিত করতে পারেন। পরিশেষে মো. পলাশ খান এ কথা বলেন যে, সর্বপরি প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকের ব্যবহার সম্পূর্ণরুপে নিমূল করার অঙ্গিকার বাস্তাবয়েনে আমাদের সবার এগিয়্ েআসা উচিত।

Leave a Reply