ফরিদপুরে একশ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৫৫ তরুণ-তরুণী ॥

মাহবুব পিয়াল,ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥
ফরিদপুরে ২৯ জন ছেলে ও ২৬ জন মেয়েকে একশত তিন টাকায় নয়, একশ টাকায় পুলিশে চাকুরি দিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার।
বুধবার দুপুর ১২টায় ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে জানালেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জাকির হোসেন খান।
তিনি বলেন ১শত তিন টাকা লাগার কথা সেখানে আমরা ফরমের দামটিও দিয়ে দিয়েছি তাদের। ব্যাংকে যে টাকাটি লাগে সেই এক’শ টাকা শুধু তাদের লেগেছে। সর্বোচ্চ সততার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা ছাড়াই পুলিশে নিয়োগের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল তার বাস্তবায়ন করলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জাকির হোসেন খান। সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ফরিদপুর জেলায় এ বছর পুলিশ কনস্টেবল পদে ৫৫ জনকে চাকরি দিয়ে দৃষ্টান্ত দেখালেন তিনি।
গত ০৩ জুলাই ফরিদপুর জেলা পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য এবং মেধাবী প্রার্থীদের নির্বাচিত করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই হতদরিদ্র, দিনমজুর ও চা বিক্রেতার সন্তান।
সালথার বড়দিয়া গ্রামের তমা বলেন, আমাকে বলা হয়েছিল পুলিশের চাকুরির জন্য আট লাখ টাকা দিতে হবে। আমি তাদের কথায় কান দেইনি। একশ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করে চাকুরির আবেদন করি। তিনি বলেন, তাঁর আত্ম বিশ্বাস ছিল যে তিনি চাকুরি পাবেন।
ভাঙ্গার নাসিরাবাদের আব্দুস সালাম সর্দার জানান,তিনি ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাড়ি থেকে পড়ানোর খরচ দিতে পারতেন না কৃষক বাবা রহিম সর্দার। এজন্য পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, টাকা ছাড়া পুলিশের চাকুরি হয়না এ কথা এতদিন জানতাম। এবার দেখলাম, টাকা ছাড়াও চাকুরি হয়।
পরে নিয়োগ প্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবলদের হাতে ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং তাদের সকলকে মিষ্টি খাওয়ানো হয়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আতিকুল ইসলাম, গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমার দে, ডিআই ওয়ান মো. আশরাফ সহ সদ্য নিয়োগ প্রাপ্তরা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

Leave a Reply