ফরিদপুরে ‘করিমপুর যুদ্ধ’ স্মরণ- এ নানা কর্মসুচী পালিত ॥ VOICE OF FARIDPUR

ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥
ফরিদপুরে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে ‘করিমপুর যুদ্ধ’ দিনটি স্মরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে রবিবার সকাল ৯টায় ফরিদপুর শহরের আলীপুর কবরস্থানের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয়। এসময় শহীদদের আতœার শান্তি কামনায় ১মিনিট নিরবতা পালন শেষে বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশারর্রফ আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল ফয়েজ শাহ নেওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, নজরুল ইসলাম জামাল সহ বীরমুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
করিমপুর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান জানান, একাত্তরের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের করিমপুর ব্রিজের কাছে মুক্তিযোদ্ধারা গ্রেনেড ছুড়ে পাকসেনাদের একটি গাড়ি উড়িয়ে দেন।
“এরপর পাকবাহিনীর একটি বড় বহর ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধ হয়। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা তিন-চার ভাগে বিভক্ত হয়ে গুলি করতে করতে পিছু হটে করিমপুর গ্রামে আশ্রয় নেন। পাকবাহিনী গ্রামটি ঘিরে ফেলে।” এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় নেওয়া একটি বাড়িতে হানাদাররা আগুন ধরিয়ে দিলে সাত মুক্তিযোদ্ধা পুড়ে শহীদ হন।
সাত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হলেন – কাজী সালাউদ্দিন, নৌফেল, আব্দুল ওয়াহাব, সোহরাব হোসেন, আব্দুল আওয়াল, আব্দুল হামিদ ও মজিবুর রহমান।
“মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ায় ওই গ্রামের বাকেল উদ্দীন মন্ডল, হযরত উদ্দীন মন্ডল, হাশেম আলী মন্ডল ও আবু খাঁ নামে এক কৃষককে পাকসেনারা হত্যা করে বলে জানান মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান।
করিমপুরের যুদ্ধস্থলে কোনো স্মৃতিসৌধ নেই জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কাজী তছলিম বলেন, “দেশ স্বাধীনের পর ৪৭ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। এখনও এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নিমির্ত না হওয়া দু:খ জনক।” তিনি শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে করিমপুরে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মানের জোর দাবি জানান ।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) বেগম উম্মে সালমা তানজিয়া জানান,
‘করিমপুর যুদ্ধে শহীদ দুই শিক্ষার্থীর স্মরণে ফরিদপুর সরকারী রাজেন্দ্র কলেজ ও সরকারী ইয়াসিন কলেজে মোড়াল তৈরীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’।

Leave a Reply