ফরিদপুরে জোর পূর্বক তালাক নামায় স্বাক্ষর নেবার অভিযোগ ॥ স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার তাছলিমা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে

ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥ ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের উত্তর বাহিরদিয়া গ্রামের মৃত আমজাদ শেখের মেয়ে তাছলিমা কনিকা কে জোর পূর্বক তালাক নামায় স্বাক্ষর নিয়েছে তার স্বামী মোঃ জাহিদ হাসান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় স্বামী জাহিদ হাসান ও তার সংঙ্গীদের নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হয়ে হাসপাতালে মৃত্যর সাথে পাঞ্জা লড়ছে স্ত্রী তাছলিমা। হাসপাতালে আহত তাছলিমা সাংবাদিকদের জানান,আমার প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে রেখে সৌদি আরবে যাই। সেখান থেকে ফেরার পরে ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা গ্রামের মোঃ জলিল শেখের ছেলে মোঃ জাহিদ হাসান আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়।পরে আত্মীয় স্বজনের মতামতে ২-৮-২০১৮ সালে আমাদের বিবাহ হয়। আমি র্দীঘ দিন বিদেশ থাকায় আমার নিকট বেশ কিছু টাকা সঞ্চয় ছিল । কিছু দিন পর আমার স্বামী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করার জন্য আমার নিকট ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে । তিনি বলেন, আমি তোমার এই টাকা কিছু দিন পরে ফেরত দিয়ে দিব। সে আমার স্বামী তাই সরল বিশ্বাসে ১৫-৮-২০১৮ ইং তারিখে তাকে ৩ লক্ষ টাকা দেই। কিছু দিন পরে আমার বেশ কিছুু গহনা নিয়ে বিক্রি করে ফেলে । কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পর সে আর আমার কোন খোজ খবর নেয়না ,আমি যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সে আমার উপর নির্যাতন করে । তখন আমি আমার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে সে আমার টাকা না দিয়ে আমাকে তালাক দিয়ে দেই । এরপর আমি তার বিরুদ্ধেআদালতে মামলা করি । আমি মামলা করায় আসামী আমার স্বামী মামলার ভয়ে আমার সাথে আবার সংসার করবে বলে হাতে পায় ধরে । তার কথায় আমি মামলা তুলে নেই এবং তার সাথে সংসার শুরু করি। কিছু দিন আমার সাথে ভালো ব্যবহার করে। কিছু দিন পর আবার আমার উপর নির্যাতন চালায়। একদিন আমাকে ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক তালাক নামায় স্বাক্ষর নেয় । আমি এর বিরুদ্ধে আবার আদালতে মামলা করি । তাছলিমা জানায়,আদালতে মামলা করায় আসামী আমার স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে ২৭ জানুয়ারী সোমবার সকাল ৯টার দিকে আমার স্বামী ও তার সংঙ্গী জাহিদ শেখ,নাসির,বাদল ফকির,সত্তার মোল্লা,নান্নু শেখ নিয়ে আমার বাড়িতে এসে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় । আমি মামলা তুলতে অস্বিকার করায় আমার উপর নির্মম নির্যাতন চালায় । এতে আমি গুরতর আহত হলে এলাকাবাসী আমাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে । এ ঘটনার বিষয়েও মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply