ফরিদপুরে পানি কমে গেলেও দুভোর্গ পিছু ছাড়েনী বানভাসি মানুষদের

মাহবুব পিয়াল, ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ || ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বন্যার পানি কমে গেলেও সংসার গোছাতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্থরা। বুধবার সকাল ৮ টার দিকে সদর উপজেলার পদ্মাতীরবর্তী হাজিডাঙ্গী,বালিয়াডাঙ্গী,ফাজেলখারডাঙ্গী এলাকা ঘুরে দেখা যায় এখন অনেকে থাকার ঘরেই বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করছেন,কেউ বাড়ীঘর পরিস্কার করছেন,কেউ ক্ষতিগ্রস্থ থাকর জায়গা মেরামত করছেন। তবে সবথেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কাচা/পাকা সড়কগুলো।
বাড়ীতে তৈরীরী চানাচুর বিক্রী করে জীবন ধারন করেন ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন খান(৪৩)। তিনি জানান বান্যায় তার ঘরে হাটু পানি ছিল। যে কারনে গত দেড়মাস তিনি বেকার ছিলেন।স্ত্রী ও দুই ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পরকরেছেন তিনি। ৫ দিন হলো বাড়ী থেকে পানি নেমেছে।নগদ অর্থের অভাবে এখনও চানাচুর তৈরীর উপযোগী পরিবেশ তৈরী করতে পারেননি।
ঐ গ্রামের ব্যটারীচালিত রিক্সা চালক হালিম শেখের স্ত্রী মিনু বেগম জানান পানি কমলেও মাটি ভিজা থাকায় বিকল্প চুলায় রান্না করতে হচ্ছে এখনও। এক মাস পর দুদিন ধরে রিক্সা বের করতে পেছেন তার স্বামী।এতদিন ৫জন ধার দেনা করে সংসারের খরচ মিটিয়েন তারা।
সরকারী সারদা সুন্দরী কলেজের শিক্ষার্থী যুথি আক্তার(২০) জানান বালিয়া ডাঙ্গী বেড়ীবাধ হতে মোল্যাডাঙ্গী স্কুল হয়ে নদীর পাড় পরজন্ত সড়কটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অসুস্থ রোগী বহন সহ চলাচলে খুবই সমস্যায় আছেন এলাকার লোকজন।তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবী জানান।
উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে গত ১৯ জুলাই গাজীরটেক ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা সমূহের তালিকা পেয়েছেন তিনি।তাতে দেখা যায় ১টি কালভার্ট সহ ১৮টি এইচবিবি ও কার্পেটিং সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে চরঝাউকান্দা,হরিরামপুর ও সদর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা সমূহের হালনাগত তালিকা এখনও পাননি তিনি। তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন সড়কে জরুরী ভিত্তিতে মেরামতে কাজ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে কাজ অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply