ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে মুজিব শতবর্ষের ক্ষণগণনা কার্যক্রমের উদ্বোধন

ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥এ বছর পালিত হচ্ছে মুক্তি সংগ্রামের মহা নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম শতবার্ষিকী। আগামী ১৭ মার্চ জন্মের শতবর্ষ পূর্ণ হবে বঙ্গবন্ধুর। এ উপলক্ষে শুক্রবার ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানী কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস থেকে শুরু হয়ে মুজিব শতবর্ষের ক্ষণ গণনা। ফরিদপুরে নানা আয়োজনে, উৎসবমুখর পরিবেশে এদিনটি পালন হয়েছে শুক্রবার। দিবসটি পালন উপলক্ষে সকাল ১০টার দিকে সকল শ্রেণির পেশার জনগণের অংশ গ্রহনে বাইসাইকেল শোভাযাত্রা দিয়ে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়। এ সাইকেল শোভাযাত্রায় কিশোর, কিশোরী, তরুন, যুবক, বৃদ্ধসহ তিন শতাধিক ব্যাক্তি অংশ নেয়। ফরিদপুর শেখ জামাল স্টেডিয়াম থেকে এ সাইকেল শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জনতা ব্যাংকের মোড়, ভাঙ্গা রাস্তার মোড়, রাজবাড়ী রাস্তার মোড় হয়ে বদরপুর আফসানা মঞ্জিল হয়ে পুণরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসে।
এর পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্ত্বরে শিশু-কিশোরের অংশ গ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। চিত্রাংকনে দেড় শতাধিক শিশু-কিশোর ও ভাষণ প্রতিযোগিতায় ৭৮ জন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীজন, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারি ও শিশু-কিশোরদের অংশ গ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে জনতা ব্যাংকের মোড়, থানার মোড়, কাঠপট্টি, অম্বিকা ময়দান, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সামনে দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ শোভাযাত্রায় অনুমানিক সর্বস্তরের ১০ সহ¯্রাধিক ব্যাক্তিবর্গ অংশ নেয়। শোভাযাত্রার সামনের অংশ যখন থানার মোড় এলাকায় শেষ অংশ তখনও প্রায় সোয়া কিলোমিটার দূরে জেলা প্রশাসকের কার্যায়ের সামনে ছিল।
এর আগে সকাল নয়টার দিকে জেলা আ.লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয় জেলা আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
দুপুর আড়াইটা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের চত্ত্বরে মুজিববর্ষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত ওই সমাবেশে ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য এবং মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে বেলা, ফেস্টুন ও পায়রা অবমুক্ত করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজনৈতিক ও সামজিক প্রতিষ্ঠান ছোট ছোট মিছিল করে যোগ দেন। সন্ধ্যায় আলোচনা সভা এবং তার পরে অনুষ্ঠিত হয় সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Leave a Reply