ফরিদপুরে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন॥ voice of faridpur

মাহবুব পিয়াল,ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য একটি জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা করেছে। প্রস্তারিবত ওই বাজেট নিয়ে ফরিদপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়ে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর সরকারী রাজেন্দ্র কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মোশার্রফ আলী।
সংবাদ সম্মেলনে ৭৯ পৃষ্ঠা সম্বলিত বাজেট প্রস্তাবনা পুস্তিকার মূল বিষয়ের উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন রাজেন্দ্র কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান মো. রেজাউল করিম।
অর্থনীতি সমিতির বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর দর্শন হল ক্ষুধামুক্ত, শোষণহীন, বৈষম্যহীন, আলোকিত মানুষ সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ‘মানুষ’ এবং তিনিই শিখিয়ে গেছেন ‘মুক্তি’ পেতে হলে প্রতিষ্ঠা করতে হবে ‘শোষিতের গণতন্ত্র’।
প্রস্তাবনায় দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের কাঠামোতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন- কেনো হচ্ছে, কতদূর হবে? সে বিষয়ে গবেষকদের অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া আসন্ন বাজেটে বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতির নীট মুনাফা ৩ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। দেশের মূল অর্থনীতির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৬-৭ শতাংশ হলে তা মৌলবাদের অর্থনীতির ক্ষেত্রে ৯-১০ শতাংশ। বিগত ৪০ বছরে মৌলবাদের অর্থনীতির পুঞ্জীভূত মোট নীট মুনাফার পরিমাণ হবে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি। মৌলবাদের অর্থনীতির সদর্প বিচরণ সর্বক্ষেত্রে- আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষাখাত, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্প, যোগাযোগ-পরিবহন, জমি ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, গণমাধ্যম তথ্য প্রযুক্তি, স্থানীয় সরকার, বেসরকারী সংস্থাসহ ট্রাস্ট ও ফাউন্ডেশন, বিভিন্ন জেহাদী প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন।
প্রস্তাবনায় আসন্ন বাজেটে বৈদেশিক ঋণ মুক্ত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, পরিচালন ব্যায় কমানো, ঘুষ-দুর্নীতি বিলুপ্ত সহ নানা প্রস্তাব তুলে ধরায় হয়। এজন্য সকল মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্ব-স্ব আর্থিক বিবরণী প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়া হয়। সাধারণ প্রশাসন সংক্রান্ত সরকারী ব্যয়ের খাতগুলো সম্পর্কে বলা হয়- যুগোপযোগী ও কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কারকে যথাযথ অগ্রাধিকার দেয়া হলে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এ-দুটো খাতে সরকারী ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব।
বেসকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য শিল্প স্থাপনের ভূমি প্রাপ্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি হৃাসে ‘‘ঝুঁকি হ্রাস কৌশল’’ ও ‘‘ক্ষতিহ্রাস কৌশল’’, বিদ্যুৎ-জ্বালানীর সহজলভ্যতার পর গুরুত্ব দেয়া হয়। রপ্তানী বহুমুখিকরণ, নতুন গন্তব্যস্থল এবং ‘ভ্যালু চেইনে’ অধিকতর অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে বাজেটে বিবেচনায় থাকা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ বরাদ্দ বৃদ্ধি, কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কার, কৃষি ভর্কুকি, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, ভ’মিহীন ও প্রান্তিক চাষীদের জন্য বীমাদুর্গত এলাকায় দরিদ্র-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুদমুক্ত ঋণ প্রদান, ফসলের উৎপাদন অঞ্চল গঠন, শষ্য বহুমুখিকরণ, উপকরণ সংরক্ষণ ও বিপনন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর অভিমত ব্যক্ত করা হয় এতে।
২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সেখানে চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি প্রস্তাব করেছে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯০ কোটি টাকার বাজেট।
এ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উপাধ্যক্ষ অসীম কুমার সাহা, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সহ সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, একই সময়ে একই বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির উদ্যোগে ঢাকা সহ দেশের ২৬টি জেলায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ঢাকার বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত।

Leave a Reply