ফরিদপুরে বিশ্ব বাঁশ দিবসের আলোচনায় বক্তারা ॥-বাঁশ হতে পারে বাংলাদেশের সবুজ সোনা বা গ্রীন গোল্ড ॥voice of faridpur

ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥
বিশ্ব বাশঁ দিবস উপলক্ষে বুধবার ফরিদপুরে মাঠ প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও কৃষক প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশ ফরিদপুরের উদ্যোগে দুপুরে সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর গ্রামে লিড ফার্মার মোমরেজ শেখ এর নিজ বাড়ীতে আলোচনা সভা ও কৃষক প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বাঁশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রো- কম্পোষ্ট মিশ্রিত জৈব সার ব্যাবহার করে উন্নত পদ্রতিতে বাঁশ চাষ বিষয়ক মাঠ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন ফরিদপুর অফিসের ইন-চাজ -ধীমান হালদার এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও কৃষক প্রশিক্ষন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশনের ম্যাকেটিং প্রমোশন অফিসার মোঃ বুলবুল হোসাইন, সিনিয়র আরবান প্লানার- ফরিদুজ্জামান স্বপন, সোস্যাল মোবিলাইজেশন অফিসার আল-আমিন। কৃষকদের মধ্যে মোসলেম উদ্দিন,মোমরেজ শেখ ,শেখ মফিজউদ্দিন সুমি আক্তার ও নার্গিস বেগম বক্তব্য রাখেন ।
বক্তারা বলেন, বাঁশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গ্লোবাল ব্যাম্বু রিসোর্সেস প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রজাতি বৈচিএ্য ও উৎপাদনগত দিক বিবেচনায় ৩৩ প্রজাতির বাঁশ নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে সারাবিশ্বে এ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাঁশ ও বেত সংস্থার সদস্য। বাঁশের গুরুত্ব অপরিসীম। বাঁশ দিয়ে ইতিমধ্যে ১০০০টি বাণিজ্যিক পণ্য তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার অগণিত। বাঁশকে বলা হয় গরীবের কাঠ। বাঁশ নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট। বাঁশ যদিও কাষ্ঠল চিরহরি উদ্ভিদ আসলে এরা এক প্রকার ঘাস। অর্থাৎ বাঁশ হলো ঘাস পরিবারের বৃহত্তম সদস্য। তাই বন বিভাগের পাশাপাশি কৃষি বিভাগসহ সকলেরই বাঁশ নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গঠিত হতে পারে বাঁশ কর্পোরেশন। যার অধীনে থাকবে একাদিক বাঁশ মিশন। ফলে উপকৃত হবে কৃষি ও শিল্প সমান্তরালে। অর্জন হবে বৈদেশিক মুদ্রাও। জাতিসংঘের ট্রেড ডাটাবেজ এবং আন্তর্জাতিক বাঁশ ও বেত সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশ ২০১৫ সালে বাঁশের অঙ্কুর রফতানি করে ৭০৪,০০০.০০ ইউ এস ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া বাঁশ চাষের অনুকূল। উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য জ্ঞান ও সহযোগিতার অভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সামাজিক বাঁশঝাড় সৃজন খুব একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তাছাড়া প্রচলিত বাঁশ চাষও ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে । বাঁশ চাষের গুরুত্ব,চাষাবাদ,সার ব্যবস্থাপনা, অথনৈতিক ভাবে লাভবান এবং উৎপাদন নিয়ে আলোচনা করা হয়। ২০জন কৃষক-কৃষানী এ প্রশিক্ষনে অংশগ্রহন করেন ।
সবশেষে লিড ফার্মার মোঃ মোমরেজ শেখের প্রদর্শনী প্লট অন্য কৃষকরা ঘুরে দেখেন এবং প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন সহায়তায় তৈরী কো-কম্পোট জৈব সার দিয়ে বাঁশের মোথা রোপন করা হয়।

Leave a Reply