• সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসের শেষের দিকে হতে পারে আগামীতে ক্ষমতায় আসলে ফরিদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদরপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার গ্রহন করলেন ১১৪ জন শিক্ষার্থী এবার শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে ৫০টি জবা ফুল গাছ রোপন করলেন সেই বৃক্ষ প্রেমিক স্কুল শিক্ষক নুরুল ইসলাম কুমার নদের দূষণ-দখল বন্ধে নৌ-শোভাযাত্রা ফরিদপুরে হত দরিদ্র ১৭৫০টি পরিবারে মাঝে কোরবানীর মাংস বিতরন ফরিদপুরে সাইবার সহিংসতা রোধে ‘ফ্রেন্ড রেইজার’ ডিবেট মরহুম শেখ ছৈজদ্দিন আল চিস্তির ওফাৎ দিবসে  দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ফরিদপুরের কুমার নদ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের অভিযান শুরু ফরিদপুরে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এসডিসি’তে রেইজ প্রকল্পের ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ প্রশিক্ষণ শুরু

বই উৎসব হয়নি কিন্তু শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন বই

অনলাইন ডেস্ক / ২৭২ Time View
Update : শনিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২২
পাঠশালায় উৎসব মুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়

বছরের প্রথম দিন আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নতুন বছরে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এ বছর বই উৎসব হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন বই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বই উৎসবের আমেজ না থাকলেও নতুন বই বিতরণ উপলক্ষে বই নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস। শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যস্ততার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নতুন বই পাওয়ার আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নতুন বই পেতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে বসানো হয়।

এবারের শিক্ষাবর্ষে চার কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ১৩০ কপি পাঠ্যপুস্তক বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে পাঠ্যপুস্তক ও পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তকও রয়েছে। তবে এ বছরের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থীকেই বই দেওয়া সম্ভব হয়নি। বই বিতরণ চলবে কয়েক দিন। পর্যায়ক্রমে নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১ থেকে ৩ জানুয়ারি, সপ্তম শ্রেণিতে ৪ থেকে ৬ জানুয়ারি, অষ্টম শ্রেণিতে ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং নবম শ্রেণিতে ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি বই বিতরণ করা হবে।

গত ৩০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই ‘পাঠ্যপুস্তক বিতরণ’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, নতুন বছরের ৯৫ শতাংশ বই প্রস্তুত হয়েছে। ইতিমধ্যে সেগুলো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫ শতাংশ বই জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে স্কুলগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মোট প্রায় ৩৮ কোটি বইয়ের মধ্যে মাধ্যমিকের ২১ কোটি বই মুদ্রণ ও বাঁধাই করা হয়েছে। বাকি ১৭ কোটির বেশি বই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছে। অবশিষ্ট বই শিগগিরই স্কুল পর্যায়ে পাঠানো হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, সারা দেশে প্রাথমিকের শতভাগ বই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছে গেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

২০১২ সাল থেকে বর্তমান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছে। এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সারা দেশে একযোগে বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে বই বিতরণ উদযাপিত হয়ে আসছে।

২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৩৪ হাজার ৩০টি, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৬ লাখ পাঁচ হাজার ৪৮০টি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য দুই লাখ ১৯ হাজার ৩৬৪টিসহ মোট ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭৪টি বই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক-পঠন-পাঠন সামগ্রীর মধ্যে আমার বই এবং অনুশীলন খাতা বিতরণ করা হবে যথাক্রমে ৩৩ লাখ দুই হাজার ৭৪০টি।

অন্যদিকে জেলা-উপজেলা ও থানার জন্য ৫১২টি উপজেলা ও থানায় বাংলা ভার্সন এবং ৫৬টি জেলায় ইংরেজি ভার্সনের বই বরাদ্দ করা হবে। প্রথম শ্রেণিতে মোট এক কোটি ২৪৯৬ হাজার ৪৯৪টি পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে বাংলা ভার্সনে ৫১২টি উপজেলা ও থানায় এক কোটি ২৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৯টি, ইংরেজি ভার্সনে ৫৬টি জেলায় এক লাখ ১৯ হাজার ৮৯৫টি বই বিতরণ করা হবে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে মোট এক কোটি ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৯টির মধ্যে বাংলা ভার্সনে এক কোটি ২০ লাখ ২৩ হাজার ৭৮০ এবং ইংরেজি ভার্সনে এক লাখ ১৯ হাজার ৫২৯টি। তৃতীয় শ্রেণিতে মোট দুই কোটি ৩৬ লাখ পাঁচ হাজার ১৮৬টির মধ্যে বাংলা ভার্সনে দুই কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৮টি এবং ইংরেজি ভার্সনে দুই লাখ পাঁচ হাজার ৮৩৮টি। চতুর্থ শ্রেণিতে মোট দুই কোটি ২৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৭টি বইয়ের মধ্যে বাংলা ভার্সনে দুই কোটি ২৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৭টি এবং ইংরেজি ভার্সনে এক লাখ ৮৭ হাজার ২৩০টি বই বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য মোট দুই কোটি ১০ লাখ ২৪ হাজার ৫২৩টির মধ্যে বাংলা ভার্সনে দুই কোটি আট লাখ ৬০ হাজার ১৯৩টি এবং ইংরেজি ভার্সনে এক লাখ ৬৪ হাজার ৩৩০টি ।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য নিজস্ব বর্ণমালা সংবলিত মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পঠন-পাঠন সামগ্রী এবং প্রাথমিক স্তরের পাঠ্য বই প্রণয়ন এবং সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২২ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরী) শিশুদের মাঝে প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাঠ্যপুস্তক বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, শেরপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, চাঁদপুর, ফেনী, কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ—এই ২০টি জেলায় সরবরাহ করা হবে। ২০১০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৪০০ কোটি ৫৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯১১ কপি বই বিতরণ করা হয়েছে।


More News Of This Category