মঙ্গল শোভা যাত্রার শুরু যেভাবে

ভাস্কর মোঃ শহিদুজ্জামান শিল্পী : চারুশিল্পের প্রধানতম প্রাণ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তিনি চারুকলা কলেজ বা আর্ট-কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঙ্গীল লোকজ সাংস্কৃতি শহরের মানুষের কাছে নিয়ে আশার জন্য তার সহকর্মী ও ছাত্রদের নিয়ে বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যেমন কাল বৈশাখী চিত্রকলা প্রদর্শনী, বসন্ত উৎসব, নবান্ন উৎসব পৌষ মেলা ইত্যাদি। এর ধারা বাহিকতায় আর্ট কলেজের ছাত্ররা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে  বাংলা নববর্ষ কে কেন্দ্র করে মেলার ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে।
চারুশিল্পরা সবসময় এই দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম, ১৯৮৮ সালের বন্যার্ত মানুষের পাশে দাড়িয়ে ছিল। বন্যা শেষে এখন কি করা যায় এই নিয়ে আমরা বন্ধুরা ভাবছিলাম। সামনেই ছিল জয়নুল উৎসব। আমরা ১০-১২ জন বন্ধুমিলে তৈরি করলাম বড় আকৃৃতির তুলি, পেনসিল,কালার প্লেট ও কয়েটি ঢামি ঘোড়া বাঁশের চাটাই দিয়ে কাঠামো তৈরি করে। প্রথমে বের হতে লজ্জা লজ্জা লাগছিল। তারপর যখন বের হলোম তখন সবাই বেশ অবাক হয়ে গোলো এবং বাহবা দিল। এর পর আমরা বড় পন্ডের মধ্যে বসে সিন্ধান্ত নেই পহেলা বৈশাখে অসুভ ও শোভ শক্তির প্রতিক আমাদের লোকজ শিল্পকর্ম নিয়ে কাজ করার । শান্তির প্রতিক পায়রা ইত্যাদি। আমার শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে বিষটি জানালে তারা এটা অত্যান্ত ভাল কাজ বলে সমর্থন দিলেন। নিজেরাই টাকা পয়সা দিয়ে শুরু করা হইলো কাজ কিন্ত অনেক খচর। অনেকই সাহায্য করলেন। তৈরি হলো হাতি ঘোড়া, বাঘ. মুখোস,টেপা পুতুল পেঁচা ইত্যাদি লোকশিল্পের বড় সংস্করণ। শোভাযাত্রার নাম কি হবে ? এগিয়ে এলেন ভাষাসৈনিক শিল্পী ইমদাদ হোসেন নাম দিলেন ‘‘আনন্দ শোভাযাত্রা”। পরে যেটা মঙ্গল শোভাযাত্রা হিসেবে ছড়িয়ে পড়লো সারা দোশে-সারা বিশ্বে। অবশেষে ৩০শে নভেম্বর ২০১৬ জাতি সংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংকৃতিক সংস্থা ( টঘঊঝঈঙ) ইউনেস্কো-বাংলা নববর্ষ বরণের বর্ণিল উৎসব ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা” কে অনুভবযোগ্য মানবীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যা এখন থেকে বিশ্বের মনোগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপাদান হিসেবে বিশেষ মর্যদায় আসীন হলো। এটা এখন সারা বিশ্বের অনুষ্ঠান। আর এই মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রথম ১৯৮৯ সালে যে ১০-১২ জন চারুকলা অনুষদের ছাত্র শুরু করেছিলেন তাদের একজন ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক পরিবারে সদস্য ভাস্কর মোঃ শহিদুজ্জামান শিল্পী। তিনি ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, চিত্র শিল্পী মরহুম আব্দুস শুকুর মিয়া শুকপাকের কনিষ্ঠপুত্র। উল্লেখ্য যে তার বড় ছেলে অধ্যাপক শওকাতুজ্জামান ও তার স্ত্রী ড. প্রফেসর ফরিদাজামান চারুকলা অনুষদের শিক্ষক। মঙ্গল শোভাযাত্রায় মোঃ শহিদুজ্জামান শিল্পীর অন্যান্য বন্ধু যারা ছিলেন তাদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন , শহীউদ্দিন মিঠু, হেলাল, কামরুল,ফরিদ, কালাম, লিটু, মিলি, তুহিন, মুক্তি, খোকন,মাসুমসহ আরো অনেকেই।
ভাস্কর মোঃ শহিদুজ্জামান শিল্পী, মোবাইল নং-০১৮১৯৯৮৮৭৭৬

Leave a Reply